বুড়িমারী বন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে ৪৬৫ কোটি টাকার চুক্তির অনুমোদন
ছবি সংগৃহীত
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের আওতাধীন দেশের উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বুড়িমারী স্থলবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং বা পণ্য ওঠানো-নামানোর ম্যানুয়াল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ঠিকাদার নিয়োগের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এ কাজের জন্য প্রস্তাবিত চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৪৬৪ কোটি ৫৪ লাখ ৫৬ হাজার ৮৬৪ টাকা।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ক্রয়সংক্রান্ত একাধিক প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে বুড়িমারী স্থলবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রমের জন্য ঠিকাদার নিয়োগের বিষয়টিও ছিল।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, বুড়িমারী স্থলবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের ম্যানুয়াল কাজের জন্য ঠিকাদার হিসেবে দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠান ‘ড্রপ কমিউনিকেশন লিমিটেড’কে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা ৫১/৫১ এ, পুরানা পল্টন, ঢাকা।
বুড়িমারী স্থলবন্দর দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দরের সঙ্গে এ বন্দরের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে বন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বুড়িমারী স্থলবন্দরের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।
স্থলবন্দরের কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কার্গো হ্যান্ডলিং। বন্দরে আসা পণ্য ট্রাক থেকে ওঠানো-নামানো, নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তর এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ম্যানুয়াল কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্কন্ন করা না গেলে পণ্য খালাস ও পরিবহনে বিলম্ব তৈরি হতে পারে। এতে ব্যবসায়ীদের সময় ও ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রমেও চাপ সৃষ্টি হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নির্ধারিত নিয়ম ও চুক্তির শর্ত অনুযায়ী দক্ষ ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে বুড়িমারী স্থলবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। এতে বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে সময় ব্যবস্থাপনা উন্নত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে প্রায় ৪৬৫ কোটি টাকার বড় অঙ্কের এ চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও চুক্তির শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত অর্থের বিপরীতে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা এবং বন্দরের ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যক্রমের মান নিয়মিতভাবে তদারক করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশের পর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চুক্তি বাস্তবায়নের পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বুড়িমারী স্থলবন্দরের কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থাপনায় আরও সংগঠিত কাঠামো তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উত্তরাঞ্চলের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বুড়িমারী স্থলবন্দরের গুরুত্ব বিবেচনায় কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হলে বন্দরের সামগ্রিক সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহন ও খালাস প্রক্রিয়ায় গতি আসার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের জন্য আরও কার্যকর বন্দরসেবা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে।