শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

​​​​​​​নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩:১২, ১৫ আগস্ট ২০২৬

সিলেটের কৃষির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বাড়াতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

সিলেটের কৃষির সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বাড়াতে হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

সিলেট অঞ্চলের কৃষির অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পতিত ও একফসলি জমিকে চাষাবাদের আওতায় আনা, জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচ সুবিধার সম্ক্রসারণ এবং নতুন ও অপ্রচলিত কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

গতকাল সিলেট নগরীর হোটেল মেট্রোর সম্মেলনকক্ষে কৃষি সম্ক্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত ‘আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জেলা পর্যায়ের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বিগত বছরের বাস্তবায়ন মূল্যায়নবিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সিলেটের হাওর ও নিম্নাঞ্চলের অনেক এলাকায় বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে পানি জমে থাকে। এসব এলাকার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব হবে। একইভাবে সেচ সুবিধা সমপ্রসারণের মাধ্যমে এক ফসলি জমিকে দুই ফসলি এবং দুই ফসলি জমিকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানি নিশ্চিত করতে খাল খনন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি সিলেটে আগাম তরমুজ চাষের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, নতুন ও অপ্রচলিত কৃষিপণ্যের চাষ কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলের মতো শীতপ্রবণ এলাকায় বিট চাষের সম্ভাবনাও যাচাই করা যেতে পারে। এ ধরনের কৃষিপণ্যের সম্ভাবনা মূল্যায়নে পাইলট প্রকল্প গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সিলেট বিভাগের কৃষি ও প্রাণিসম্কদের সম্ভাবনা, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং এলাকাভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণের বিষয়গুলো নিয়ে আগামী সপ্তাহে কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কৃষি সচিব এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে বিশেষ কর্মসূচি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের বড় অংশ কৃষিনির্ভর। তাই কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে উৎপাদনশীলতা ও কৃষকের আয় বাড়াতে হবে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা গেলে দেশের সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদন বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে খাদ্য, বিশেষ করে চাল উৎপাদন ও রপ্তানিতে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে।

তিনি বলেন, নতুন ফসল চাষে ঝুঁকি নেওয়া কৃষকরাই কৃষির নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাচ্ছেন। তরমুজ ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন নতুন ফসলের চাষ সমপ্রসারণে কৃষকদের আরো উৎসাহিত করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে সিলেটের কৃষির সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মোশাররফ হোসেন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, সিলেট রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্কাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, ‘আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর প্রকল্প পরিচালক মো. রাকিব উদ্দিনসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা, কৃষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।