বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ২৩:৪৬, ১৯ আগস্ট ২০২৬

পুঁজিবাজারে দরপতন চলছেই, তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন

পুঁজিবাজারে দরপতন চলছেই, তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন

ছবি সংগৃহীত

দরপতনের বৃত্তে থেকে বের হতে পারছে না দেশের পুঁজিবাজার। প্রতিদিনই লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমছে। আগের কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস গতকাল বুধবারও পুঁজিবাজারে দরপতন হয়েছে। এর মাধ্যমে টানা ছয় কার্যদিবস পতনের মধ্যে থাকল পুঁজিবাজার।
এদিন, প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠান। ফলে কমেছে প্রধান মূল্যসূচক। সেইসঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। ডিএসইতে লেনদেন কমে ৭০০ কোটি টাকার ঘরে চলে এসেছে। এতে ১৯ মে এর পর বা তিন মাসের মধ্যে ডিএসইতে সব থেকে কম লেনদেন হয়েছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বুধবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচক ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়। কিন্তু শেষ দিকে আবার দরপতন হয়। এতে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৪০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৯৮টির এবং ৬১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।  
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৭টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪৭টির এবং ৩৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর ৫টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ১৮টির দাম কমেছে এবং ১১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৬৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এতে ছয় কার্যদিবসের টানা পতনে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক কমলো ১৩৩ পয়েন্ট।
অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৬১ পয়েন্টে নেমে গেছে। তবে ডিএসই শরিয়াহ সূচক দশমিক ৯৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৫১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
প্রধান মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭৩২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯৯৮ কোটি ১০ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ২৬৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে চলতি বছরের ১৯ মে এর পর ডিএসইতে সব থেকে কম লেনদেন হলো। ১৯ মে ডিএসইতে লেনদেন হয় ৬৭৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার। কোম্পানিটির ২২ কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৫১ লাখ টাকার। ১৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বেক্সিমকো।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—রানার অটোমোবাইল, এনভয় টেক্সটাইল, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, সমরিতা হসপিটাল, সায়হাম টেক্সটাইল, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট এবং মালেক স্পিনিং।
অন্য পুঁজিবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৯ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৩টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১১৭টির এবং ৩৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৩৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৭৩ কোটি ২২ লাখ টাকা।