পুঁজিবাজারে ঢালাও দরপতন, কমেছে লেনদেন
ছবি সংগৃহীত
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস গতকাল রোববার দেশের পুঁজিবাজারে একপ্রকার ঢালাও দরপতন হয়েছে। ভালো-মন্দ সব খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমার পাশাপাশি অধিকাংশ মিউচুয়াল ফান্ডের দামও কমেছে।
অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দরপতন হওয়ায় প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কমেছে মূল্যসূচক। একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক কমেছে।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে দাম কমার তালিকায় চলে আসে অধিক সংখ্যক প্রতিষ্ঠান। ফলে সূচকও ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। এছাড়া লেনদেনের শেষদিকে ঢালাও দরপতন হয়। এতে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ৭৯ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২৮৬টির এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিন কোনো মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়েনি। ৩২টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম কমেছে এবং দুটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৪১টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৪৭টির দাম কমেছে এবং ১০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ১৫টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৬টির এবং তিনটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৩টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮৩টির এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮২২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৪ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৭৭ পয়েন্টে নেমে গেছে। এছাড়া ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৬ পয়েন্ট কমে এক হাজার ১৭৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৯৬৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় এক হাজার ১৪৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১৮৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার। কোম্পানিটির ৪০ কোটি ৫৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেক্সিমকোর শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ৬২ লাখ টাকার। ১৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে নিটল ইন্স্যুরেন্স।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—এম এল ডাইং, সায়হাম টেক্সটাইল, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, একমি পেস্টিসাইড, ব্র্যাক ব্যাংক, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট এবং সিটি ব্যাংক।
অন্য পুঁজিবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১০৬ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২১৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫২টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৩২টির এবং ২৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।