বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

শেখ মোহাম্মদ রতন, মুন্সীগঞ্জ

প্রকাশ: ১৮:৫৪, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মুন্সীগঞ্জে অগ্রণী ব্যাংকের গ্রাহকদের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

পলাতক কর্মকর্তা ঢাকায় আটক

মুন্সীগঞ্জে অগ্রণী ব্যাংকের গ্রাহকদের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের হিসাব থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পলাতক ব্যাংক কর্মকর্তা শরিফুজ্জামান সোহাগকে ঢাকার মিরপুর থেকে আটক করেছে পুলিশ।

গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে মিরপুর-১ নম্বর সেক্টরের পাইকপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। শরিফুজ্জামান সেখানে তার বোনের বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. কামরান হোসেন জানান, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও শ্রীনগর থানার সমন্বয়ে গঠিত পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।

পুলিশ ও ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি শ্রীনগর অগ্রণী ব্যাংক শাখার বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের হিসাব থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে শরিফুজ্জামান সোহাগের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কয়েকদিন ধরে ব্যাংকটির সামনে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের ভিড় ও বিক্ষোভ দেখা যায়। টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে অনেক গ্রাহক ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগও করেন।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে মোট ২৫৫ জন গ্রাহক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে রোববার ১৮৪ জন, সোমবার ৪৬ জন এবং মঙ্গলবার ২৫ জন অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগে সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৮৪ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওনা থাকার দাবি করা হয়েছে।

এদিকে আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত এবং লোপাট হওয়া টাকার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জানাতে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শ্রীনগর অগ্রণী ব্যাংক শাখার সামনে অবস্থান নেন শত শত গ্রাহক। সকাল থেকেই ব্যাংকের প্রধান ফটকের সামনে ভুক্তভোগীদের ভিড় দেখা যায়।

গ্রাহকদের অভিযোগ, তারা শরিফুজ্জামানের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে নয়, অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমেই লেনদেন করেছেন। ব্যাংকের নির্ধারিত জমা স্লিপ ব্যবহার করে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক কার্যালয়ে এ ধরনের লেনদেন চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কীভাবে জানতে পারেনি—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সীগঞ্জ জেলার শাখাগুলোর দায়িত্বে থাকা প্রধান কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা একজনকে অভিযুক্ত করে জিডি করেছি। একই সঙ্গে আত্মসাতের ঘটনায় ব্যাংকের আরও কেউ জড়িত কি না এবং অর্থের প্রকৃত পরিমাণ কত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা অগ্রণী ব্যাংকের উপপরিচালক ইসমাঈল হোসেন জানান, গত শুক্রবার এ বিষয়ে ব্যাংকের পক্ষ থেকে একটি জিডি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে। পরে রোববার জিডিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়েও পাঠানো হয়। কমিশন পরবর্তী অনুসন্ধান বা তদন্তের বিষয়ে যে নির্দেশনা দেবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপরই ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানা যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। তাই শরিফুজ্জামানকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, আত্মসাতের প্রকৃত অর্থের পরিমাণ কত এবং ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অর্থ কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে—এসব বিষয় এখন তদন্তের পর স্পষ্ট হবে।