পরিবারে শোকের মাতম
ভারতের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাভারের ব্যবসায়ী আহমেদ বাবু
ছবি সংগৃহীত
চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক কাজে ভারতে গিয়ে কলকাতার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের ব্যবসায়ী আহমেদ বাবু (৩০)। তার মৃত্যুর সংবাদে গ্রামের বাড়ি ও কর্মস্থলে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
পারিবারিক সূত্র জানায়, সাভার উপজেলার আমিনবাজার ইউনিয়নের বেগুনবাড়ী শিকদারপাড়া (আব্বাসের বাড়ির সংলগ্ন) এলাকার মৃত আদম আলীর চার ছেলের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিলেন আহমেদ বাবু। তিনি আমিনবাজারের এমএ হোসেন টাওয়ারের মসজিদ মার্কেটে অবস্থিত ‘কিউট কসমেটিক্স’ দোকানের স্বত্বাধিকারী। দীর্ঘ দুই বছর পর ভারতের ভিসা পেয়ে ১৭ আগস্ট রাতে চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক মালামাল কিনতে তিনি কলকাতায় যান। সেখানে পার্ক স্ট্রিট সংলগ্ন ‘শিখা ইন’ নামে একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন তিনি। ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যে নয়জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের মধ্যেই একজন আহমেদ বাবু। আজ দুপুরে ভারতীয় হাইকমিশন থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার পরিবারকে অগ্নিকাণ্ড ও মৃত্যুর বিষয়টি অবহিত করা হয়। পরবর্তীতে অফিসিয়াল ছবি পাঠানো হলে স্বজনরা নিহত আহমেদ বাবুর পরিচয় নিশ্চিত করেন।
তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের মাতম চলছে। আহমেদ বাবু স্ত্রী, নয় বছরের এক কন্যাসন্তান ও চার বছরের একটি ছোট শিশুসন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। শিশুসন্তানদের কান্না ও স্বজনদের আহাজারিতে বেগুনবাড়ির বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
পরিবার এ এলাকায় শোকের ছায়া
হোটেলে রাতে ঘুমানোর আগে বন্ধু ফয়সালের সঙ্গে ফোনে কথা হয় তার। তখন ক্লান্ত থাকায় সকালে আবার কথা বলবেন বলে জানান বাবু। কিন্তু পরদিন সকালে তার মৃত্যুর খবর পান ফয়সাল।
ফয়সাল বলেন, কলকাতায় যাওয়ার আগে বাবু তার দোকানে বসেছিলেন। পরে তাকে গাড়িতে তুলে দিয়ে বিদায় জানান তিনি। রাতে ফোনে কথা বলার সময় বাবু জানান, তিনি অনেক ক্লান্ত। সকালে ফোন দেওয়ার কথা থাকলেও আর কথা হয়নি।
নিহতের বড় ভাই মোহাম্মদ আলী বলেন, সোমবার রাত দশটার দিকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা হন আহমেদ বাবু। পরে সকালে গিয়ে কলকাতায় পৌঁছায়। সেখান থেকে দোকানের জন্য কসমেটিকস ক্রয় করে আজকে দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ দুপুর ২টার দিকে কলকাতা থেকে খবর আসে আমার ছোট ভাই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে মারা গেছে।
এ সময় তিনি আরো বলেন, পরিবারের চার ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিল বাবু। তার এক মেয়ে রোজা (১২) ও ছেলে সোয়াতের মাত্র ছয় বছর। ছোট বয়সেই ছেলেমেয়েরা এতিম হয়ে গেল বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
দোকানের কর্মচারী লাভলু বলেন, ‘আমাদের দোকানে বিভিন্ন ব্যান্ডের কসমেটিক বিক্রি করা হয়। আমার মহাজন প্রায়ই কসমেটিক আনতে কলকাতায় যান। এক-দুদিন থাকেন আবার চলে আসেন। এভাবে তার মৃত্যু হবে মেনে নিতে পারছি না আমরা।’
বাবুর প্রতিবেশী ও মামা ইব্রাহিম বলেন, তারও বাবুর সঙ্গে কলকাতা যাওয়ার কথা ছিল। তবে পরিস্থিতি ভালো না থাকায় পরে যাওয়ার জন্য তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন বাবু। সকালে তার মৃত্যুর খবর পান।
প্রতিবেশী হাজী নাজিম উদ্দিন জানান, আহমেদ বাবু ব্যবসায়ী ছিল। প্রায় কসমেটিকস আনার জন্য কলকাতায় যায় বাবু। কিন্তু এবার এমন ঘটনা ঘটবে আমরা কেউ ভাবতে পারিনি। হঠাৎ করেই দুপুরে খবর আসেন বাবু মারা গেছে বলে জানান তিনি।
আমিনবাজার ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য ইউসুফ হোসেন বলেন, ‘ছেলেটাকে আমরা চিনি। সে মসজিদ মার্কেটে কসমেটিক্সের দোকান করত। সে দুদিন আগেই ভারত গেছে চিকিৎসা করতে। আজকে আমরা জানতে পেরেছি। আমরা যাচ্ছি তাদের বাড়ি। যতটুকু সহযোগিতা করা যায় সেটুকু করব।’
মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার ও ভারতীয় হাইকমিশনের জরুরি সহযোগিতা চেয়েছে নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবার।