৪ লাখ টাকা জরিমানা
চট্টগ্রামের কোয়ালিটি ফুডে ভেজাল মার্জারিন ব্যবহার
ছবি সংগৃহীত
চট্টগ্রামে মাখনের নাম দিয়ে কোটি কোটি মানুষের খাবারের প্লেটে বিষাক্ত ভেজাল তুলে দিচ্ছে ‘কোয়ালিটি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড’। ব্র্যান্ডের মুখরোচক নামে ভরসা রেখে বছরের পর বছর তা নিশ্চিন্তে মুখে তুলছেন অসচেতন সাধারণ মানুষ। তবে সেই নামি ব্র্যান্ডের অন্তরালে যে মাখনের নামে চলছিল সস্তা ও ক্ষতিকর চর্বির ভেজাল বাণিজ্য, তা উঠে এসেছে প্রশাসনের এক ঝটিকা অভিযানে। অনিবন্ধিত উপায়ে ও তীব্র স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে কৃত্রিম ‘মার্জারিন’ বানিয়ে বিক্রির অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
গতকাল বুধবার সকালে নগরের আগ্রাবাদের সুলতান কলোনিতে কোয়ালিটি ফুড প্রোডাক্টসের কারখানায় এ অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। অভিযানে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভেজাল মার্জারিন তৈরির দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা আক্তার কণার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. ফারহান ইসলাম জানান, কোয়ালিটি ফুড এতদিন ধরে সম্কূর্ণ অনিয়ম ও অননুমোদিতভাবে স্বাস্থ্যহানিকর পরিবেশে মার্জারিন তৈরি করে আসছিল। বেকারিপণ্য কিংবা দৈনন্দিন খাদ্যে খাঁটি মাখনের বিকল্প হিসেবে যে মার্জারিন ব্যবহার করা হয়, তা তৈরির মূল শর্তই হলো নিরাপদ ও জীবাণুমুক্ত পরিবেশ। অথচ এখানে মাখনের নামে অত্যন্ত নিম্নমানের চর্বিজাতীয় খাদ্য তৈরি করে সাধারণ গ্রাহকদের দীর্ঘদিন ধরে প্রতারিত করা হচ্ছিল।
অভিযানে অনিয়মের সত্যতা মেলায় নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩৩ ও ৩৯ ধারায় প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষকে চার লাখ টাকা জরিমানা করে তা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও ডবলমুরিং থানা-পুলিশের একটি দল এই অভিযানে সহায়তা করে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মাখন আর মার্জারিনের মধ্যে বিশাল ফারাক রয়েছে। মাখন তৈরি হয় দুধের ক্রিম থেকে, অন্যদিকে মার্জারিন হলো উদ্ভিজ্জ তেল ও চর্বির প্রক্রিয়াজাত রূপ। পাউরুটি, বিস্কুট, কেক কিংবা পেস্ট্রির মতো বহুল ব্যবহূত বেকারি পণ্যে এই মার্জারিন ব্যবহার করা হয়। আর সেই মার্জারিনই যখন নোংরা পরিবেশে ও বেআইনিভাবে ভেজাল উপাদান দিয়ে তৈরি হয়, তখন তা হয়ে ওঠে নীরব ঘাতক। দীর্ঘদিন এ ধরনের অস্বাস্থ্যকর ও রাসায়নিকযুক্ত চর্বি খাওয়ার ফলে সাধারণ ভোক্তারা হূদরোগ, উচ্চ রক্তচাপসহ লিভার ও কিডনির জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। নামি ব্র্যান্ডের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই জালিয়াতি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে এক চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।