সাতক্ষীরায় অসময়ের তরমুজ চাষে সাফল্য
ছবি সংগৃহীত
দেশের দক্ষিণ জনপদের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় বর্ষাকালেও তরমুজ চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছেন কৃষকরা। চিংড়ি ঘেরের আইল, পতিত জমি ও সবজি চাষের জমিতে আধুনিক মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে উৎপাদন করা হচ্ছে বিভিন্ন জাতের তরমুজ। এর মধ্যে বাংলালিংক ও আকর্ষণীয় হলুদ জাতের তরমুজ নজর কেড়েছে ক্রেতা ও কৃষকদের।
চলতি মৌসুমে জেলার সাতটি উপজেলায় প্রায় ১০৮ হেক্টর জমিতে অসময়ের এই তরমুজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে তালা, কলারোয়া, কালিগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলায় তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে।
তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের ২৮ জন কৃষক একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় প্রায় ২১ বিঘা জমিতে প্রথমবারের মতো হলুদ তরমুজ চাষ করছেন।
এদিকে, মাত্র ৬৫ দিনের মধ্যে ফলন পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এ ফসল নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। চাষিরা জানান, জমি প্রস্তুত, সার, মালচিং পেপার, মাচা ও জালসহ বিভিন্ন খাতে বিঘাপ্রতি প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফলন ও বাজারদর ভালো থাকলে প্রতি বিঘা জমি থেকে এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হতে পারে বলে আশা করছেন তারা। স্বল্প সময়ে ফসল ঘরে তোলার সুযোগ থাকায় একই জমিতে বছরে দুবার তরমুজ উৎপাদনের সম্ভাবনাও দেখছেন কৃষকরা।
তালা উপজেলার কৃষক তরমুজ চাষি আব্দুর রহিম, সোহেল সরদার, বরকত আলী বলেন, প্রচলিত অনেক ফসলের তুলনায় তরমুজ চাষে দ্রুত ফলন পাওয়া যাচ্ছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় ভালো দাম পাওয়া গেলে লাভও বেশি হচ্ছে। আগামীতে তরমুজের আবাদ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) উপপরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে বর্ষা মৌসুমে অনেক জমি অনাবাদি পড়ে থাকে। আধুনিক মালচিং প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে এসব জমিতে তরমুজ চাষের সুযোগ রয়েছে। কম সময়ে ফলন পাওয়ায় এটি কৃষকের জন্য সম্ভাবনাময় একটি ফসল হতে পারে। ভালো ফলনের জন্য উন্নতমানের বীজ নির্বাচন, জমিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দিতে হবে। কৃষকরা কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী চাষ করলে অসময়ের তরমুজ উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।
প্রকল্পটিতে সহায়তাকারী সংস্থা উন্নয়ন প্রচেষ্টার কৃষিবিদ নয়ন হোসেন বলেন, সাতক্ষীরার মাটি ও পরিবেশ অসময়ের তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করলে অল্প সময়ে ফলন পাওয়া সম্ভব। শিক্ষিত তরুণরা কৃষিকে শুধু পেশা হিসেবে নয়, উদ্যোক্তা হিসেবে গ্রহণ করলে কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ও দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণেও ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপকূলীয় এলাকার পতিত ও অনাবাদি জমিকে উৎপাদনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে বর্ষাকালীন তরমুজ চাষ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ, উন্নত বীজ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং উৎপাদিত তরমুজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে সাতক্ষীরায় এই চাষ আরও বিস্তৃত হতে পারে। এর ফলে একদিকে যেমন কৃষকের আয় বাড়বে, অন্যদিকে উপকূলীয় কৃষিতে যুক্ত হবে নতুন একটি লাভজনক ফসলের আবাদ।