না.গঞ্জে হাসপাতালে লাকড়ি দিয়ে রোগীদের খাবার রান্না
ছবি সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জে গ্যাস সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বাসাবাড়ির চুলা থেকে শুরু করে হোটেল-রেস্তোরাঁ, এমনকি হাসপাতালের রান্নাঘরেও এর প্রভাব পড়েছে। গ্যাস না থাকায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘরে রান্নাবান্না প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সকাল থেকেই পাড়া-মহল্লার খাবারের দোকান ও হোটেলগুলোতে মানুষের ভিড় বাড়ছে। অনেক হোটেলে দুপুরের আগেই রান্না করা খাবার শেষ হয়ে যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে খাবার নিয়ে নতুন করে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।
গ্যাস সংকটের সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে নারায়ণগঞ্জের সরকারি হাসপাতালগুলোতে। শহরের খানপুরে অবস্থিত ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট ও নারায়ণগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের রান্নাঘরে রোগীদের খাবার রান্না করতে লাকড়ি ও কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ না থাকায় বাধ্য হয়েই বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কাঠের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
একই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে বিরাজ করছে শহরের ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালেও। সেখানে গ্যাস সংকটের কারণে কয়েক মাস ধরে লাকড়ি দিয়ে রোগীদের খাবার রান্না করা হচ্ছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে রান্নাঘরের কালিমাখা হাঁড়ি-পাতিল দেখেছেন। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানে গ্যাসের পরিবর্তে কাঠ জ্বালিয়ে রান্নার এমন চিত্র নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
শুধু হাসপাতাল নয়, গ্যাস সংকটে পুরো শহরের খাবার ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়েছে। নগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় সকাল থেকেই পুরি, সিঙ্গারা, পরোটা ও নাশতার দোকানে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। যেসব পরিবারে গ্যাসের চুলায় রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না, তারা বাধ্য হয়ে এসব দোকান থেকে নাশতা কিনে নিচ্ছেন। দুপুরের খাবারের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে।
শহরের বড় হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতেও ক্রেতার চাপ বেড়েছে। অনেকেই বাসায় রান্না করতে না পারায় দুপুরের খাবারের জন্য হোটেলমুখী হচ্ছেন। ফলে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রেস্তোরাঁগুলোতে ভিড় থাকছে। কোথাও কোথাও দুপুর ১২টার মধ্যেই ভাত, মাছ, মাংস ও অন্যান্য রান্না করা খাবার শেষ হয়ে যাচ্ছে। পরে আসা অনেক ক্রেতাকে খাবার না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে গ্যাসের চাপ অত্যন্ত কম। অনেক এলাকায় দিনের বড় একটি সময় চুলায় গ্যাস থাকছে না। ভোরে কিংবা গভীর রাতে সামান্য গ্যাস পাওয়া গেলেও তখন রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কর্মজীবী মানুষ থেকে শুরু করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে।
গ্যাসের বিকল্প হিসেবে কেউ বৈদ্যুতিক চুলা, কেউ রাইস কুকার ব্যবহার করছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে চলা বিদ্যুৎ সংকটও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। ফলে একদিকে গ্যাস নেই, অন্যদিকে বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ—দুই সংকটে পড়েছেন নগরবাসী।
এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পকারখানার পাশাপাশি নগরীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাতেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বাসাবাড়িতে রান্না বন্ধ হওয়ায় মানুষের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে। একই সঙ্গে হোটেল-রেস্তোরাঁয় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ায় খাবারের দাম বাড়ার আশঙ্কাও করছেন অনেকে।
নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রশ্ন, একটি শিল্পনগরীতে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকট চললেও এর স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না কেন। বিশেষ করে হাসপাতালের রোগীদের খাবার পর্যন্ত যদি লাকড়ি জ্বালিয়ে রান্না করতে হয়, তাহলে পরিস্থিতির ভয়াবহতা সহজেই অনুমান করা যায়। নগরবাসীর দাবি, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করে মানুষের ঘরে রান্নার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতাল ও জরুরি সেবাপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক।