২ হাজার চা-শ্রমিক ও পরিবারের দৃষ্টিসেবায় ব্র্যাক ব্যাংক ও ভিশনস্প্রিং
ছবি সংগৃহীত
চট্টগ্রামের চা-বাগান এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় চক্ষুসেবা পৌঁছে দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। ভিশনস্প্রিংয়ের সহযোগিতায় এই উদ্যোগের আওতায় চট্টগ্রামের ২ হাজারেরও বেশি চা-শ্রমিক, তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং বয়োবৃদ্ধ মানুষের বিনামূল্যে চোখ পরীক্ষা, প্রয়োজন অনুযায়ী চশমা বিতরণ এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য পরামর্শ দেওয়া হবে।
ব্র্যাক ব্যাংক ও ভিশনস্প্রিংয়ের যৌথ উদ্যোগে চা-বাগানের শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের জন্য এবারই প্রথম এ ধরনের চক্ষুসেবা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। চা-শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা প্রায়ই উন্নত ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত থাকেন। তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই ইস্পাহানি গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান নেপচুন টি এস্টেট লিমিটেডে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করা হয়।
গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম দিনেই ৬২ জনের চোখ পরীক্ষা করা হয়। তাঁদের মধ্যে ৪৫ জনের চশমার প্রয়োজন হয় এবং তাঁদের বিনামূল্যে চশমা দেওয়া হয়। এছাড়া আরও ১২ জনের চোখে ছানি শনাক্ত হয়। তাঁদের উন্নত পরীক্ষা ও পরবর্তী চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উদ্যোগটির বিষয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, “স্পষ্ট দৃষ্টি একজন মানুষের কাজ করার, শেখার, পরিবারকে সহায়তা করার এবং স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার সক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। চা-বাগান এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় চক্ষুসেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে আমরা তাঁদের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা দূর করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “প্রথম দিনের ফলাফল আমাদের চোখ খুলে দেওয়ার মতো। চোখ পরীক্ষা করা মানুষের ৭৩ শতাংশেরই চশমার প্রয়োজন হয়েছে। এই তথ্যই দেখিয়ে দেয়, প্রত্যন্ত চা-বাগান এলাকায় নিয়মিত ও সহজলভ্য চক্ষুসেবার কতটা প্রয়োজন রয়েছে। আমরা চাই, প্রয়োজনীয় সেবা যেন মানুষের কাছে পৌঁছায়্তমানুষকে সেবার জন্য দূরে যেতে না হয়।”
ভিশনস্প্রিংয়ের কান্ট্রি ম্যানেজার মিশা মেহজাবীন বলেন, “স্পষ্ট দৃষ্টি একজন মানুষের জীবনযাত্রার মান এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। ব্র্যাক ব্যাংকের সঙ্গে আমাদের এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা চা-শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের দোরগোড়ায় প্রয়োজনীয় চক্ষুসেবা পৌঁছে দিচ্ছি। একটি চশমা একজন মানুষকে আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করতে, শিখতে এবং দৈনন্দিন জীবন পরিচালনা করতে সহায়তা করতে পারে।”
উল্লেখ্য, স্বাস্থ্যসেবায় ব্র্যাক ব্যাংকের ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ ‘অপরাজেয় আমি’-এর অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। ২০২৪ সাল থেকে ব্র্যাক ব্যাংক ও ভিশনস্প্রিংয়ের যৌথ উদ্যোগে ইতোমধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি সুবিধাবঞ্চিত মানুষ চক্ষুসেবার আওতায় এসেছেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের অর্থায়নে অগ্রাধিকার দেয়ার ভিশন নিয়ে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি. ২০০১ সালে যাত্রা শুরু করে, যা এখন পর্যন্ত দেশের অন্যতম দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী একটি ব্যাংক। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রতীকে ব্যাংকটির শেয়ার লেনদেন হয়। ৩১০টি শাখা ও উপশাখা, ৩৩০টি এটিএম, ৪৪৬টি এসএমই ইউনিট অফিস, ১,১১৯টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং দশ হাজারেরও বেশি মানুষের বিশাল কর্মীবাহিনী নিয়ে ব্র্যাক ব্যাংক কর্পোরেট ও রিটেইল সেগমেন্টেও সার্ভিস দিয়ে আসছে। ব্যাংকটি দৃঢ় ও শক্তিশালী আর্থিক পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে এখন সকল প্রধান প্রধান মাপকাঠিতেই ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষে অবস্থান করছে। বিশ লাখেরও বেশি গ্রাহক নিয়ে ব্র্যাক ব্যাংক বিগত ২৪ বছরেই দেশের সবচেয়ে বৃহৎ জামানতবিহীন এসএমই অর্থায়নকারী ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও নিয়মানুবর্তিতায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ব্র্যাক ব্যাংক।