ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে এনসিটি দক্ষতা ও রাজস্ব বাড়বে কতটা?
ছবি সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে লাভজনক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ‘নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল’ (এনসিটি) পরিচালনায় দুবাইভিত্তিক বৈশ্বিক হাব অপারেটর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর সঙ্গে ১৫ বছরের জন্য কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর পরিচালনায় আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আমদানি-রপ্তানি খরচ ও সময় কমানোর লক্ষ্যে এই চুক্তি করা হলেও পরিচালনাগত নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক স্বচ্ছতা শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা এবং জাতীয় স্বার্থের সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধিতাকারীরা। অন্যদিকে, ব্যবসায়ী নেতারা মনে করছেন, দক্ষতা বাড়লে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় কমে দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য উপকৃত হতে পারে।
৮ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষে চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মনিরুজ্জামান এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির সাবকন্টিনেন্ট, মধ্য এশিয়া ও মিসর অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিজওয়ান সুমার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য এনসিটি কেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?
২০০৭ সালে চালু হওয়া নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচালন ইউনিটগুলোর একটি। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এ টার্মিনালে একসঙ্গে চারটি সমুদ্রগামী জাহাজ ও একটি ছোট কনটেইনার জাহাজ ভেড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার পরিবহনে এনসিটির গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। গত অর্থবছরে টার্মিনালটিতে প্রায় ১৩ লাখ ৮৫ হাজার একক কনটেইনার (টিইইউ) ওঠানো-নামানো হয়েছে, যা বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪৪ থেকে ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ বন্দরে হ্যান্ডলিং হওয়া প্রতি ১০০টি কনটেইনারের প্রায় ৪৫টিই এই টার্মিনাল দিয়ে পরিচালিত হয়।
আমদানি করা শিল্পের কাঁচামাল, ভোগ্যপণ্য ও রপ্তানিপণ্য পরিবহনে এনসিটির এই ভূমিকা দেশের সরবরাহব্যবস্থা ও বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে টার্মিনালটির পরিচালন দক্ষতা, জাহাজের অপেক্ষার সময় এবং কনটেইনার ওঠানো-নামানোর গতি বাড়লে আমদানি-রপ্তানির সময় ও ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। বিপরীতে, পরিচালনায় কোনো বিঘ্ন ঘটলে তার প্রভাব পড়তে পারে বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রম ও ব্যবসা-বাণিজ্যে।
এনসিটির দায়িত্ব কেন ডিপি ওয়ার্ল্ড?
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পোর্ট অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ড বিশ্বব্যাপী ৬০টিরও বেশি বন্দর ও টার্মিনাল পরিচালনার পাশাপাশি লজিস্টিকস হাব ও অর্থনৈতিক অঞ্চল মিলিয়ে ৮৪টি দেশে নিজেদের ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক বিস্তার করেছে। পৃথিবীর মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ১০ শতাংশ একা নিয়ন্ত্রণ করা এই প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত লজিস্টিকস হাব হিসেবে পরিচিত।
দুবাইয়ের বিখ্যাত জেবেল আলি বন্দর ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, ইউরোপ ও আমেরিকার প্রধান প্রধান সামুদ্রিক ও অভ্যন্তরীণ বন্দরগুলোতে রয়েছে তাদের বলিষ্ঠ উপস্থিতি। লন্ডনের গেটওয়ে, সাউদাম্পটন, বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্প, নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম, উত্তর আমেরিকার ভ্যাঙ্কুভার, দক্ষিণ আমেরিকার সান্তোস কিংবা বুয়েনস আইরেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। এশিয়া-প্যাসিফিক ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে ভারতের মুম্বাই, চেন্নাই, কোচিন, মুন্দ্রা এবং বিশাখাপত্তনম ছাড়াও চীন, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে অপারেশন চালাচ্ছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক দক্ষতা সূচকে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০০টি বন্দরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ৩৬৪ থেকে ৩৯৪তম স্থানে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরে একটি জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে যেখানে গড়ে ৩ দিন বা ৭২ ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে আন্তর্জাতিক সমসাময়িক বন্দরগুলোতে তা সম্পন্ন হয় মাত্র ১৫ থেকে ২৪ ঘণ্টায়। তাছাড়া আন্তর্জাতিক মানের বন্দরে কনটেইনারের গড় অবস্থানকাল সর্বোচ্চ আড়াই দিন হলেও চট্টগ্রাম বন্দরে তা গড়ায় প্রায় ৯ দিনে। বন্দরে বিরাজমান এই দীর্ঘসূত্রতা ও কনটেইনার জটের কারণে দেশীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি টাকা এবং বছরে প্রায় ৩ হাজার ৬৫০ কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে।
এই অচলাবস্থা কাটানো, বৈশ্বিক বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি তাল মেলানো এবং চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা যুক্ত করতেই মূলত এনসিটির পরিচালনার দায়িত্ব ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১৫ বছরের চুক্তি: কী পাচ্ছে বাংলাদেশ?
সরকারের মতে, এই চুক্তির ফলে ঝিমিয়ে পড়া বন্দর ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের গতি আসবে, রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে সময় ও খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে সাশ্রয় হবে।
চুক্তির শুরুতেই অপারেটর প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ সরকারকে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা অগ্রিম ফি হিসেবে পরিশোধ করবে; যার ২৫ শতাংশ পরিশোধ করা হবে চুক্তি স্বাক্ষরের সময় এবং বাকি ৭৫ শতাংশ দেওয়া হবে আনুষ্ঠানিকভাবে অপারেশন শুরু করার আগে। এর পাশাপাশি প্রথম ১০ বছরের মধ্যে টার্মিনালের আধুনিকায়ন, নতুন যন্ত্রপাতি সংস্থান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার কোটি টাকার বেশি মূলধন বিনিয়োগ করবে।
আর্থিক প্রাপ্তির ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আয়ের বড় পথ উন্মুক্ত থাকছে। চুক্তির শর্তানুযায়ী, টার্মিনালের গড় আয়ের ভিত্তিতে প্রতি টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের বিপরীতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় ৪০ থেকে ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত রাজস্ব বা রয়্যালটি পাবে। এর পাশাপাশি প্রতিবছর নির্দিষ্ট ফি হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের তহবিলে যোগ হবে প্রায় ১০ কোটি টাকা।
মালিকানা বাংলাদেশের, পরিচালনার দায়িত্ব ডিপি ওয়ার্ল্ডের!
চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এনসিটির জমি, মূল অবকাঠামো ও সম্পদের মালিকানা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছেই থাকবে। ডিপি ওয়ার্ল্ড ১৫ বছরের জন্য পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের অধিকার পাবে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, বন্দর কর্তৃপক্ষের তদারকি, নিরীক্ষা ও নিয়মিত প্রতিবেদন গ্রহণের ব্যবস্থাও থাকবে। কর্মদক্ষতার নির্ধারিত লক্ষ্য পূরণ না হলে আর্থিক জরিমানার বিধান রয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের মালিকানা বজায় থাকা এবং টার্মিনালের দৈনন্দিন পরিচালনা কার হাতে থাকবে, এই দুটি বিষয় আলাদা। টার্মিনালের ব্যবস্থাপনা, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ, কর্মীদের কাজের সংগঠন ও কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়ানোর দায়িত্ব পালন করবে অপারেটর। অন্যদিকে শুল্ক, অভিবাসন, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছেই থাকবে বলে সরকার জানিয়েছে।
এনসিটিতে কী কী পরিবর্তন আসতে পারে?
চুক্তি অনুযায়ী, ১৫ বছর মেয়াদে ডিপি ওয়ার্ল্ড প্রায় ১৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। এর মধ্যে প্রায় ৯ কোটি ডলার ব্যয় করা হবে টার্মিনাল, প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি আধুনিকায়নে এবং ৫ কোটি ডলার অগ্রিম অর্থ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারকে দেওয়া হবে।
নতুন এই অপারেটর আধুনিক স্ক্যানিং প্রযুক্তি চালু করবে, প্রয়োজনে ক্রেন মেরামত বা প্রতিস্থাপন করবে এবং কাগজবিহীন (পেপারলেস) পরিচালন ব্যবস্থার দিকে এগোবে। তাদের উল্লেখ করা প্রধান উদ্দেশ্য হলো—প্রথম ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম এবং কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা।
চুক্তির অধীনে পরিচালন মেয়াদে যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের সব খরচ ডিপি ওয়ার্ল্ড বহন করবে। বিদ্যমান কোনো শ্রমিককে ছাঁটাই করা হবে না; বরং তাদের বর্তমান মজুরি ও সুযোগ-সুবিধা অপরিবর্তিত রেখে নতুন পরিচালন ব্যবস্থায় একীভূত করা হবে।
চুক্তি নিয়ে বিরোধীদের আপত্তির কারণ?
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে করা চুক্তিটি নিয়ে বন্দরের শ্রমিক সংগঠন ও বাম রাজনৈতিক দলগুলো শুরুথেকেই তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। তাদের মতে, উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ায় লাভের চেয়ে ঝুঁকির পাল্লাটাই ভারী। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর যেখানে ইতোমধ্যে অত্যন্ত লাভজনকভাবে পরিচালিত হচ্ছিল এবং রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগও সেখানে পর্যাপ্ত ছিল, সেখানে নতুন করে বিদেশিদের ওপর নির্ভরতার কোনো যৌক্তিকতা দেখছেন না সমালোচকরা। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে গিয়ে দেশীয় শ্রমিকদের চাকরির নিরাপত্তা, সুযোগ-সুবিধা ও ভবিষ্যৎ স্বার্থ উপেক্ষিত হওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন শ্রমিক নেতারা।
বিরোধিতাকারীদের অন্যতম প্রধান যুক্তি ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তা ও জাতীয় সার্বভৌমত্বকে ঘিরে। তাদের মতে, বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর নানামুখী তৎপরতার মুখে বন্দরের ওপর পূর্ণাঙ্গ জাতীয় কর্তৃত্ব বজায় রাখা দেশের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। তবে এসব আপত্তির বিপরীতে সরকারের সাফাই হলো, এই চুক্তির প্রাথমিক মেয়াদ ১৫ বছর এবং পরবর্তী সময় বাড়ানো সম্পূর্ণ শর্তপূরণ ও উভয় পক্ষের সম্মতির ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া বন্দর এলাকার নিরাপত্তা, কাস্টমস শুল্কায়ন, ইমিগ্রেশন ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের মতো মূল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বাংলাদেশের হাতেই অক্ষুণ্ন থাকবে। ফলে কোনোভাবেই দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন বা হস্তান্তরিত হবে না।
এই চুক্তি নিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা কী?
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের চুক্তিতে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
তাদের মতে, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে বন্দরের দক্ষতা বাড়ানো গেলে পণ্য খালাসে বিলম্ব কমবে, আমদানি-রপ্তানি ব্যয় হ্রাস পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরো শক্তিশালী হবে।
ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক ফজলুল হক বলেন, বন্দরের দক্ষতা বাড়িয়ে আমদানি-রপ্তানি ব্যয় ও পণ্য পরিবহনের সময় কমানো গেলে সামগ্রিক অর্থনীতি লাভবান হবে। তবে উন্নত সেবার নামে বন্দর ব্যবহারকারীদের ওপর অযৌক্তিক মাশুলের চাপ সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বন্দরের সক্ষমতা বাড়লে পরিচালন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে, যা ব্যবসায়ী ও দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক।
চুক্তির সাফল্য নির্ধারণ করবে বাস্তব ফল
অর্থনীতিবিদদের মতে, এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের অভিজ্ঞতা ও আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে চুক্তির আর্থিক শর্ত, শ্রমিকদের অধিকার ও জনস্বার্থ সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে। চুক্তির বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি, রাজস্ব আয় ও কর্মদক্ষতার লক্ষ্য নিয়মিত মূল্যায়ন করা জরুরি। একই সঙ্গে দেশীয় ব্যবস্থাপনার বিকল্পের তুলনায় সরকারের আয়, বন্দর ব্যবহারের ব্যয় ও অর্থনীতির সুফল কতটা বাড়ছে, তা স্বচ্ছভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। শেষ পর্যন্ত চুক্তির সাফল্য নির্ভর করবে বন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধি, ব্যবসায়ীদের ব্যয় হ্রাস, সরকারি রাজস্ব এবং শ্রমিক ও জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার বাস্তব ফলাফলের ওপর।