সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩:৫৪, ২৫ আগস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে থাকা ১২৬ কনটেইনারের পচনশীল পণ্য ধ্বংস শুরু

চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে থাকা ১২৬ কনটেইনারের পচনশীল পণ্য ধ্বংস শুরু

ছবি সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা নিম্নমানের, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহার-অনুপযোগী ১২৬ কনটেইনার পণ্য ধ্বংসের কার্যক্রম শুরু করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। গত সোমবার বন্দরের রিপাবলিক ক্লাবের পেছনে এ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম দিনে ১০ কনটেইনারের পণ্য ধ্বংস করা হয়েছে।

কাস্টম হাউস সূত্র জানায়, ১২৬ কনটেইনারে থাকা পণ্যের মোট পরিমাণ ৩ হাজার ২২৬ টন। এর মধ্যে ৩৪ কনটেইনারে রয়েছে ৯৩৫ টন নিম্নমানের খেজুর এবং ৪০ কনটেইনারে রয়েছে এক হাজার দুই টন মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহার-অনুপযোগী সোডা অ্যাশ। এছাড়া ১৮ কনটেইনারে মেয়াদোত্তীর্ণ ফিড গ্রেড লাইমস্টোন ও আট কনটেইনারে মেয়াদোত্তীর্ণ বেনটোনাইট পাউডার রয়েছে। এসবের বাইরে পচা কমলা, নষ্ট পেঁয়াজ, নষ্ট কাজুবাদাম ও বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্যও রয়েছে।

কাস্টমস সূত্র আরও জানায়, জাহাজ থেকে বন্দরের ইয়ার্ডে নামার পর সাধারণত ৩০ দিনের মধ্যে আমদানিকারককে পণ্য খালাস নিতে হয়। নির্ধারিত সময়ে খালাস না হলে আমদানিকারককে নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশের ১৫ দিনের মধ্যেও পণ্য খালাস না করলে তা নিলামে তোলা যায়। নিলামে বিক্রি না হলে কিংবা পণ্যের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে জনস্বার্থ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সেগুলো ধ্বংস করা হয়।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার রাসেল আহমেদ বলেন, যথাযথ নিয়ম অনুসরণ এবং কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে নিম্নমানের, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী পণ্যগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে। ১২৬ কনটেইনারের পণ্য ধ্বংস করতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। পর্যায়ক্রমে সব কনটেইনারের পণ্য ধ্বংস করা হবে।

পণ্যগুলো ধ্বংসের ফলে বন্দরের জায়গা খালি হবে এবং ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন জায়গা তৈরি হবে। পাশাপাশি কনটেইনার ওঠানামার কাজও আরও সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

এ কার্যক্রমের ফলে বন্দরের জায়গা খালি হওয়ার পাশাপাশি কনটেইনার জট কমবে এবং পণ্য ওঠানামার কাজ আরও সহজ হবে বলে আশা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একই সঙ্গে বন্দরের নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় দীর্ঘদিন পড়ে থাকা নিলাম-অযোগ্য ও ধ্বংসযোগ্য পণ্য পর্যায়ক্রমে ধ্বংসের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।