আমানতে ৭৪ হাজার কোটি
ঋণে শৃঙ্খলা-প্রবৃদ্ধির নতুন পথে ইউসিবি
ছবি সংগৃহীত
ব্যাংক খাতে যখন আস্থা, তারল্য ও ঋণ আদায় নিয়ে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছে, তখন নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার পথে এগোচ্ছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি)। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রমে আমানত সংগ্রহ, ঋণ বিতরণ, গ্রাহকসংখ্যা বৃদ্ধি, রেমিট্যান্স আহরণ, ঋণ আদায় এবং সেবার বিস্তারে ব্যাংকটির কার্যক্রমে ধারাবাহিকতার চিত্র উঠে এসেছে।
২০২৬ সালের জুন শেষে ইউসিবির মোট আমানত দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির আমানত ছিল ৬৮ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র ছয় মাসে আমানত বেড়েছে ৬ হাজার ১২০ কোটি টাকা। একই সময়ে আমানত প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৮ শতাংশে। আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের তুলনায়ও এই প্রবৃদ্ধির হার ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
অন্যদিকে ২০২৬ সালের জুন শেষে ব্যাংকটির ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে যা ছিল ৬১ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা। ছয় মাসে ঋণ বেড়েছে ৩ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা। ঋণে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। আমানতের প্রবৃদ্ধি ঋণের প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি হওয়ায় ব্যাংকটির তহবিল ব্যবস্থাপনায়ও একটি ইতিবাচক ভারসাম্যের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
ব্যাংকের জন্য আমানত শুধু একটি আর্থিক সূচক নয়; এটি গ্রাহকের অংশগ্রহণ, ব্যাংকের তহবিল সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসা সমপ্রসারণের অন্যতম ভিত্তি। সেই জায়গায় ইউসিবির ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের চিত্র বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ৬৮ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা থেকে জুনে আমানত ৭৪ হাজার ৫১৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ ছয় মাসে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ৬ হাজার ১২০ কোটি টাকা। একদিকে আমানতের এই বৃদ্ধি ব্যাংকের তহবিলভিত্তি বড় করেছে, অন্যদিকে ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকের অংশগ্রহণও বাড়ছে।
ইউসিবির তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির মোট হিসাবের সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই নতুন হিসাব খোলা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার। এর মধ্যে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি নতুন কাসা হিসাব রয়েছে।
চলতি হিসাবে কাসা বা কারেন্ট অ্যাকাউন্ট - সেভিংস অ্যাকাউন্ট আমানত ব্যাংকের জন্য তুলনামূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে নিয়মিত লেনদেনের সঙ্গে গ্রাহক সম্পর্ক আরও গভীর হয়। নতুন কাসা হিসাব বৃদ্ধিকে তাই ইউসিবির গ্রাহকভিত্তি সমপ্রসারণের পাশাপাশি দৈনন্দিন ব্যাংকিং কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা যায়।
ইউসিবির আমানত কাঠামোতেও বৈচিত্র্য রয়েছে। ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মোট আমানতের প্রায় ৬০ শতাংশ খুচরা আমানত, প্রায় ছয় শতাংশ এসএমই আমানত এবং প্রায় ৩২ শতাংশ করপোরেট আমানত।
এর অর্থ হলো, ব্যাংকটির আমানতভিত্তি শুধু বড় করপোরেট গ্রাহকের ওপর নির্ভরশীল নয়। ব্যক্তিগত গ্রাহক, ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং করপোরেট গ্রাহক—বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকের অংশগ্রহণে আমানতের ভিত্তি গড়ে উঠেছে।
বিশেষ করে খুচরা আমানতের বড় অংশ থাকা ব্যাংকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। কারণ বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক তৈরি হলে ব্যাংকের ব্যবসার ভিত্তিও আরও বিস্তৃত হয়।
অন্যদিকে ইউসিবির ঋণ পোর্টফোলিওতেও প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ২০২৬ সালের জুন শেষে ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এই পরিমাণ ছিল ৬১ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ ছয় মাসে ঋণ বেড়েছে ৩ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা। ঋণে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ।
এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—একই সময়ে আমানতের প্রবৃদ্ধি ২০ দশমিক ৮ শতাংশ হলেও ঋণের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ আমানত সংগ্রহে যে গতি তৈরি হয়েছে, তার তুলনায় ঋণ সমপ্রসারণ হয়েছে তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিতভাবে। ব্যাংক খাতে ঋণ সমপ্রসারণের সঙ্গে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আমানত বৃদ্ধির পাশাপাশি ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার এই প্রবণতা ইউসিবির ভবিষ্যৎ ব্যবসার জন্য একটি ইতিবাচক ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
জুন ২০২৬ শেষে ইউসিবির এডি রেশিও ৮২ দশমিক ১১ শতাংশ। আগের সময়ের তুলনায় এই সূচকেও পরিবর্তন এসেছে। অ্যাডভান্স-ডিপোজিট রেশিও বা এডি রেশিও মূলত ব্যাংকের আমানতের তুলনায় কতটা ঋণ বা অগ্রিম দেওয়া হয়েছে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। ইউসিবির ক্ষেত্রে আমানত ৭৪ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা এবং ঋণ ৬৫ হাজার ৪০৩
কোটি টাকা হওয়ায় ব্যাংকের তহবিল ব্যবস্থাপনায় আমানত ও ঋণের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য কাঠামো দেখা যাচ্ছে।
অর্থাৎ আমানত সংগ্রহের গতি ধরে রেখে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে ব্যাংকটি। ভবিষ্যতে এই আমানতভিত্তি আরও শক্তিশালী হলে উৎপাদনশীল খাত, এসএমই ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ঋণ সহায়তা বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হবে।
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে ব্যাংকগুলোর ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ ক্ষেত্রেও ইউসিবির কার্যক্রমে অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউসিবির মাধ্যমে এসেছে প্রায় ৫১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এর আগে ২০২৫ সালে ব্যাংকটির মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছিল প্রায় ৫৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
প্রবাসী আয় সংগ্রহে এই অবস্থান ইউসিবির বৈদেশিক লেনদেন সক্ষমতা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে ব্যাংকটির যোগাযোগের পরিধি তুলে ধরে। রেমিট্যান্সের মাধ্যমে দেশে আসা অর্থ সরাসরি গ্রাহকের হিসাব, সঞ্চয় ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে। ফলে এই খাত ইউসিবির আমানতভিত্তি সমপ্রসারণেও ভূমিকা রাখছে।
শুধু আর্থিক সূচক নয়, গ্রাহকদের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার অবকাঠামোতেও ইউসিবির বিস্তার রয়েছে। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ব্যাংকটির রয়েছে ২৩৬টি শাখা ও ১৯৭টি উপশাখা। এর পাশাপাশি রয়েছে ৭১০টি এটিএম/সিডিএম/সিআরএম এবং প্রায় ৬৩৩টি এজেন্ট আউটলেট।
ব্যাংকিং সেবার এই বিস্তৃত নেটওয়ার্ক শহর ও শহরের বাইরের গ্রাহকদের ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করছে। বিশেষ করে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এমন অনেক গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে, যাদের জন্য প্রচলিত শাখাভিত্তিক ব্যাংকিং সবসময় সহজলভ্য নয়।
ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে শাখা, উপশাখা, এটিএম এবং এজেন্ট নেটওয়ার্ককে সমন্বয় করে গ্রাহকদের জন্য একাধিক চ্যানেলে সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে ইউসিবি।
ব্যাংকের ব্যবসা সমপ্রসারণের পাশাপাশি ঋণ আদায়ও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে ইউসিবির ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি রয়েছে।
ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মোট ৬৪৯ কোটি টাকা ঋণ আদায় হয়েছে। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ থেকে আদায় হয়েছে ৬১ কোটি টাকা। এর আগের বছর ২০২৫ সালে মোট ঋণ আদায়ের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা এবং ২০২৪ সালে ছিল ৬১৫ কোটি টাকা। ফলে ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে ব্যাংকটি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
শুধু ঋণ আদায়ের পরিমাণ নয়, এ বিষয়ে আইনি কার্যক্রমেও সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ব্যাংক ৪৭৫টি মামলা দায়ের করেছে এবং ১ হাজার ৩৭টি মামলা নিষ্পত্তি করেছে। ২০২৫ সালে মামলা দায়ের হয়েছিল ১ হাজার ৩০৯টি এবং নিষ্পত্তি হয়েছিল ১ হাজার ৩১৩টি। এর আগের বছর ২০২৪ সালে দায়ের হয়েছিল ৭৫৫টি মামলা এবং নিষ্পত্তি হয়েছিল ১ হাজার ৪৮৪টি। এতে বোঝা যায়, ঋণ আদায়কে শুধু নতুন ঋণ বিতরণের মাধ্যমে নয়, পুরোনো পাওনা পুনরুদ্ধারের মাধ্যমেও গুরুত্ব দিচ্ছে ব্যাংকটি।
ইউসিবির কার্যক্রমে মূলধন ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার দিকটিও বিশেষভাবে উঠে এসেছে। ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৮০০ কোটি টাকার সাবঅর্ডিনেটেড বন্ডের সাবস্ক্রিপশন কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি ৭৭৫ কোটি টাকার রাইট শেয়ার ইস্যু কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এছাড়া ৭৭৫ কোটি টাকার কনভার্টিবল ইক্যুইটি ইনস্ট্রুমেন্ট-সংক্রান্ত কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন। মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করার এসব উদ্যোগ ব্যাংকের ভবিষ্যৎ ব্যবসা সমপ্রসারণ, নিয়ন্ত্রক মূলধন ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইউসিবির প্রকাশিত তথ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ব্যাংকটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তা ছাড়াই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, ইউসিবি নগদ তারল্য বা ঋণ পরিশোধের জন্য কোনো নিয়ন্ত্রক সহায়তা গ্রহণ করেনি। একই সঙ্গে কোনো চেক অপরিশোধিত অবস্থায় ফেরত যায়নি বলেও ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ব্যাংক খাতে তারল্য ব্যবস্থাপনা যখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তখন নিজস্ব তহবিল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা ইউসিবির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য দিক। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ইউসিবির সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগও রয়েছে। ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ সময়ে সরকারি সিকিউরিটিজে ব্যাংকটির লেনদেন উল্লেখযোগ্যভাবে হয়েছে।
সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ ব্যাংকের সম্পদ ব্যবস্থাপনার একটি অংশ। এর মাধ্যমে ব্যাংক একদিকে তারল্য ব্যবস্থাপনার সুযোগ পায়, অন্যদিকে তুলনামূলক নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগের মাধ্যমে পোর্টফোলিওতে বৈচিত্র্য আনার সুযোগ তৈরি হয়।
ঋণ আদায়ের পাশাপাশি মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও ইউসিবির কার্যক্রমে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ১ হাজার ৩৭টি মামলা নিষ্পত্তির বিপরীতে দায়ের হয়েছে ৪৭৫টি।
অর্থাৎ নতুন মামলা দায়েরের পাশাপাশি পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির দিকেও ব্যাংকটি গুরুত্ব দিচ্ছে। ঋণ আদায় ব্যবস্থাপনায় এই দুই দিকের সমন্বয় ব্যাংকের সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বর্তমান ব্যাংকিং ব্যবস্থায় শুধু শাখা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; গ্রাহকের কাছে দ্রুত ও সহজ সেবা পৌঁছে দিতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও গুরুত্বপূর্ণ। ইউসিবির প্রকাশিত তথ্যেও ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।
৩০ লাখের কাছাকাছি হিসাব, নতুন করে ৩ লাখ ৫০ হাজার হিসাব খোলা, বিপুলসংখ্যক কাসা হিসাব এবং শত শত এটিএম, সিডিএম ও সিআরএম—সব মিলিয়ে ব্যাংকটির গ্রাহকসেবা কাঠামো এখন আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত।
এখানে প্রযুক্তি ও প্রচলিত ব্যাংকিং অবকাঠামোর সমন্বয় ইউসিবির ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির একটি বড় ভিত্তি হতে পারে।
২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ইউসিবির কার্যক্রমের দিকে তাকালে কয়েকটি সূচক বিশেষভাবে নজরে আসে। ছয় মাসে আমানত বেড়েছে ৬ হাজার ১২০ কোটি টাকা। আমানত প্রবৃদ্ধি ২০ দশমিক ৮ শতাংশ। ঋণ বেড়েছে ৩ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা এবং ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। এডি রেশিও ৮২ দশমিক ১১ শতাংশ।
একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছে ৫১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গ্রাহক হিসাব প্রায় ৩০ লাখে পৌঁছেছে। নতুন হিসাব বেড়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার। ব্যাংকের রয়েছে ২৩৬ শাখা, ১৯৭ উপশাখা, ৭১০ এটিএম/সিডিএম/সিআরএম এবং প্রায় ৬৩৩ এজেন্ট আউটলেট।
ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রেও ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ৬৪৯ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। খেলাপি ঋণ থেকে আদায় হয়েছে ৬১ কোটি টাকা। একই সময়ে ১ হাজার ৩৭টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসের তথ্য ইউসিবির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের চিত্র তুলে ধরে। আমানত সংগ্রহে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি, ঋণে নিয়ন্ত্রিত সমপ্রসারণ, রেমিট্যান্স আহরণ, গ্রাহকসংখ্যা বৃদ্ধি, ঋণ আদায়ে সক্রিয়তা এবং বিস্তৃত সেবানেটওয়ার্ক—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যাংকটির কার্যক্রমে ধারাবাহিকতার ছাপ রয়েছে।
বিশেষ করে ছয় মাসে আমানত ছয় হাজার কোটি টাকার বেশি বাড়া এবং মোট আমানত ৭৪ হাজার ৫১৪ কোটি টাকায় পৌঁছানো ইউসিবির ব্যবসায়িক সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এর সঙ্গে ৬৫ হাজার ৪০৩ কোটি টাকার ঋণ পোর্টফোলিও এবং ৮২ দশমিক ১১ শতাংশ এডি রেশিও ব্যাংকের তহবিল ব্যবস্থাপনার বর্তমান অবস্থানকে তুলে ধরে।
অন্যদিকে ৩০ লাখ গ্রাহকের ভিত্তি এবং প্রথম ছয় মাসেই ৩ লাখ ৫০ হাজার নতুন হিসাব খোলা ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ বাজার সমপ্রসারণের সম্ভাবনাও দেখাচ্ছে। কাসা হিসাবের বৃদ্ধিও সেই সম্ভাবনাকে আরও শক্ত করছে।
রেমিট্যান্স, ডিজিটাল ব্যাংকিং, এজেন্ট নেটওয়ার্ক এবং শাখা-উপশাখার বিস্তার ইউসিবিকে শুধু প্রচলিত ব্যাংকিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বহুমুখী গ্রাহকসেবার দিকে এগিয়ে দিচ্ছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমানত সংগ্রহের পাশাপাশি ঋণ আদায় ও আইনি নিষ্পত্তির ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে ব্যাংকটি। ফলে প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে সমান্তরালে এগিয়ে নেওয়ার একটি প্রচেষ্টা স্পষ্ট।
ব্যাংকের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হবে এই প্রবৃদ্ধির ধারাকে দীর্ঘ মেয়াদে ধরে রাখা, নতুন আমানতকে কার্যকরভাবে উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার করা, ঋণের মান বজায় রাখা এবং ডিজিটাল ও শাখাভিত্তিক সেবার সমন্বয় আরও বাড়ানো। এসব ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে ইউসিবির বর্তমান বিস্তৃত গ্রাহকভিত্তি, শক্তিশালী আমানত সংগ্রহ এবং উন্নত নেটওয়ার্ক ভবিষ্যৎ ব্যবসা সমপ্রসারণের বড় ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।