রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩:১৩, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারের ইক্যুইটির বিপরীত

৪৬ কোটি টাকার প্রেফারেন্স শেয়ার দেবে ডেসকো

৪৬ কোটি টাকার প্রেফারেন্স শেয়ার দেবে ডেসকো

ছবি সংগৃহীত

সরকারের ইক্যুইটির বিপরীতে প্রায় ৪৬ কোটি টাকার ইরিডিমেবল নন-কিউমুলেটিভ প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু করতে যাচ্ছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) পিএলসি। এ লক্ষ্যে কোম্পানিটিকে প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

ডেসকোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ আগস্ট বিএসইসি এ বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার  ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের বিষয়টি জানিয়েছে কোম্পানিটি।

অনুমোদন অনুযায়ী, ডেসকো মোট ৪ কোটি ৫৯ লাখ ইরিডিমেবল নন-কিউমুলেটিভ প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু করবে। প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। সে হিসাবে নতুন প্রেফারেন্স শেয়ারের মোট মূল্য দাঁড়াবে ৪৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

তবে এসব শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ইস্যু করা হবে না। পুরো ৪ কোটি ৫৯ লাখ শেয়ারই বাংলাদেশ সরকারের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হবে। সরকারের পক্ষে এসব শেয়ারের প্রতিনিধিত্ব করবেন বিদ্যুৎ বিভাগ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের ইক্যুইটির বিপরীতে এসব প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু করা হচ্ছে। ফলে নতুন করে নগদ অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার পরিবর্তে সরকারের ইক্যুইটির বিপরীতে কোম্পানির মূলধন কাঠামোয় এ শেয়ার যুক্ত হবে।

ডেসকোর নতুন শেয়ার ইস্যুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এর পুরো বরাদ্দই সরকারের কাছে থাকবে। অর্থাৎ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে ডেসকোর সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা এই ইস্যুতে সরাসরি অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না।

কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৪ কোটি ৫৯ লাখ প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু করবে। এর মাধ্যমে ৪৫ কোটি ৯০ লাখ টাকার মূলধন প্রেফারেন্স শেয়ার হিসেবে কোম্পানির কাঠামোয় যুক্ত হবে।

প্রেফারেন্স শেয়ার সাধারণ শেয়ারের তুলনায় ভিন্ন ধরনের অধিকার বহন করে। সাধারণত এসব শেয়ারের ক্ষেত্রে লভ্যাংশ বা অন্যান্য অধিকার নির্দিষ্ট শর্তের অধীনে নির্ধারিত হয়। ডেসকোর ক্ষেত্রে শেয়ারগুলো ‘ইরিডিমেবল নন-কিউমুলেটিভ’ হওয়ায় এগুলোর কাঠামো সাধারণ শেয়ারের চেয়ে আলাদা।

‘নন-কিউমুলেটিভ’ বৈশিষ্ট্যের কারণে কোনো নির্দিষ্ট বছরে প্রেফারেন্স লভ্যাংশ না দেওয়া হলে তা পরবর্তী বছরের জন্য জমা হওয়ার সুযোগ থাকে না—সাধারণত এ ধরনের শেয়ারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য এটি। আর ইরিডিমেবল শেয়ারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী ভবিষ্যতে শেয়ার পুনঃক্রয়ের ব্যবস্থা থাকতে পারে। তবে ডেসকোর ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অধিকার ও শর্ত সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত নথি অনুযায়ী কার্যকর হবে।

ডেসকোর ঘোষণায় সবচেয়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সরকারের ইক্যুইটির বিপরীতে প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু করা হবে। অর্থাৎ এটি সাধারণ বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের কোনো প্রস্তাব নয়।

সরকারের মালিকানাধীন ইক্যুইটিকে প্রেফারেন্স শেয়ারের মাধ্যমে কোম্পানির মূলধন কাঠামোয় প্রতিফলিত করাই এ উদ্যোগের মূল বিষয়। ফলে ডেসকোর মূলধন কাঠামোতে সরকারের অংশগ্রহণ নতুন একটি রূপ পাবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ ধরনের মূলধন পুনর্গঠন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোম্পানির শেয়ার কাঠামোর যেকোনো পরিবর্তনের সঙ্গে মালিকানা, মূলধন এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক কাঠামোর বিষয়টি সম্পর্কিত থাকে।

বিশেষ করে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নতুন শেয়ার ইস্যু হলে বিনিয়োগকারীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। যদিও ডেসকোর নতুন প্রেফারেন্স শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে দেওয়া হচ্ছে না, তবু এর ফলে কোম্পানির মোট মূলধন কাঠামোয় পরিবর্তন আসবে।

ডেসকো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন প্রায় ৩৯৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের কোম্পানি প্রোফাইলেও ডেসকোর পরিশোধিত মূলধন ৩৯৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকার কাছাকাছি দেখানো হয়েছে।

কোম্পানিটির সরকারি মালিকানার বাইরে বিভিন্ন শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৩২ দশমিক ৩৪ শতাংশ শেয়ার। ফলে নতুন প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্তটি সরাসরি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের বিষয় না হলেও কোম্পানির মূলধন কাঠামোর দিক থেকে তা গুরুত্বপূর্ণ।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির মূলধন কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নতুন শেয়ারের ধরন, মালিকানা, লভ্যাংশের

অধিকার এবং ভবিষ্যতে এসব শেয়ারের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ডেসকোর ক্ষেত্রেও নতুন প্রেফারেন্স শেয়ার কীভাবে কোম্পানির আর্থিক কাঠামোতে প্রতিফলিত হবে, তা বিনিয়োগকারীদের নজরে থাকবে।

ডেসকো দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্ব পালন করে কোম্পানিটি। বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি বিতরণ অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্রাহকসেবা এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় ডেসকোর কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ।

২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘদিন ধরে তালিকাভুত্তদ্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি হিসেবে ডেসকোর শেয়ার পুঁজিবাজারে লেনদেন হচ্ছে।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার বাজার তথ্যে ডেসকোর শেয়ারের ওপেনিং দর ছিল ২৩ টাকা ৫০ পয়সা। কোম্পানিটির পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী পরিশোধিত মূলধন প্রায় ৩৯৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

এ অবস্থায় প্রায় ৪৬ কোটি টাকার প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্ত কোম্পানিটির মূলধন কাঠামোয় উল্লেখযোগ্য একটি সংযোজন। যদিও নতুন শেয়ারগুলো সাধারণ শেয়ারের মতো বাজারে লেনদেনের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে না, তবু তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে এর প্রভাব নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

ডেসকোর নতুন প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এটি সাধারণ কোনো রাইট বা পাবলিক ইস্যু নয়। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিবর্তে সরকারের ইক্যুইটির বিপরীতে শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

এর অর্থ হলো, কোম্পানির মূলধন কাঠামোয় সরকারের বিদ্যমান ইক্যুইটি অবস্থানকে প্রেফারেন্স শেয়ারের মাধ্যমে প্রতিফলিত করা হচ্ছে। এতে কোম্পানির হাতে সরাসরি নতুন করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ আসার বিষয়টি নেই।

রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর মূলধন ব্যবস্থাপনায় সরকার বিভিন্ন সময় শেয়ার, ইক্যুইটি বা অন্যান্য আর্থিক কাঠামোর মাধ্যমে অংশগ্রহণ করে থাকে। ডেসকোর ক্ষেত্রেও সরকারের ইক্যুইটির বিপরীতে প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু সেই কাঠামোরই অংশ।

নতুন প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর পর পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের মূল আগ্রহ থাকবে এসব শেয়ারের অধিকার ও শর্ত নিয়ে। বিশেষ করে লভ্যাংশের হার, লভ্যাংশ প্রদানের শর্ত, ভোটাধিকার, ভবিষ্যৎ পুনঃক্রয় এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব—এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

কারণ প্রেফারেন্স শেয়ার সাধারণ শেয়ারের মতো হলেও এর আর্থিক অধিকার ও অগ্রাধিকার কাঠামো আলাদা হতে পারে। ফলে কোম্পানির ভবিষ্যৎ লভ্যাংশ বণ্টন এবং মূলধন ব্যবস্থাপনায় এ শেয়ারগুলোর ভূমিকা কী হবে, তা সংশ্লিষ্ট শর্তের ওপর নির্ভর করবে।

এ ধরনের ইস্যুর ক্ষেত্রে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তালিকাভুক্ত কোম্পানির মূলধন কাঠামোয় পরিবর্তন হলে বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া প্রয়োজন।

সরকারের অনুকূলে প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর ক্ষেত্রে ডেসকো এর আগেও একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে কোম্পানিটি সরকারের অনুকূলে ২৩ লাখ ৮১ হাজারের বেশি ইরিডিমেবল নন-কিউমুলেটিভ প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর নিয়ন্ত্রক অনুমোদন পেয়েছিল।

এ ছাড়া ২০২৪ সালেও সরকারের অনুকূলে প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। সে সময় ডেসকোর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, সাধারণ শেয়ারের পরিবর্তে প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে।

ফলে সরকারের ইক্যুইটির বিপরীতে প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু ডেসকোর জন্য একেবারে নতুন কোনো কাঠামো নয়। বরং ধাপে ধাপে সরকারের অংশগ্রহণকে প্রেফারেন্স শেয়ারের মাধ্যমে কাঠামোবদ্ধ করার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই এবারের উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির মূলধন ব্যবস্থাপনায় নতুন নজর

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডেসকোর মূলধন কাঠামো এবং সরকারের অংশগ্রহণ বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার কারণে কোম্পানির মূলধন পরিবর্তনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য তথ্যগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর ফলে সরকারের অনুকূলে ৪৫ কোটি ৯০ লাখ টাকার শেয়ার যুক্ত হবে। ফলে কোম্পানির মূলধন কাঠামোয় সরকারের অংশগ্রহণের একটি নতুন স্তর তৈরি হবে।

তবে এর ফলে কোম্পানির সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কী ধরনের আর্থিক প্রভাব তৈরি হবে, তা নির্ভর করবে প্রেফারেন্স শেয়ারের চূড়ান্ত শর্ত এবং কোম্পানির ভবিষ্যৎ আর্থিক কর্মক্ষমতার ওপর।

ডেসকোর আর্থিক কর্মক্ষমতাও বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটি ৫৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা নিট মুনাফা করেছিল। ওই সময়ে আগের বছরের একই প্রান্তিকের লোকসানের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়। তবে আগের বড় লোকসানের কারণে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য কোম্পানিটি কোনো লভ্যাংশ সুপারিশ করেনি।

এ অবস্থায় নতুন প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যু এবং এর বিপরীতে সরকারের অধিকার ভবিষ্যৎ লভ্যাংশ কাঠামোর দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে প্রেফারেন্স শেয়ারের লভ্যাংশ সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশের আগে বা নির্দিষ্ট অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচিত হলে তার প্রভাব কোম্পানির ভবিষ্যৎ বণ্টন কাঠামোয় পড়তে পারে। তবে ডেসকোর ক্ষেত্রে কার্যকর শর্তগুলোই এ বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশনা দেবে।

বিএসইসির অনুমোদন পাওয়ার পর এখন ডেসকোর জন্য পরবর্তী আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার পালা। নির্ধারিত বিধিবিধান অনুসরণ করে সরকারের অনুকূলে ৪ কোটি ৫৯ লাখ প্রেফারেন্স শেয়ার বরাদ্দ দেওয়া হবে।

এ ইস্যুর মাধ্যমে কোম্পানির মূলধন কাঠামোয় ৪৫ কোটি ৯০ লাখ টাকার প্রেফারেন্স শেয়ার যুক্ত হবে। একই সঙ্গে সরকারের ইক্যুইটি অংশগ্রহণও নতুন কাঠামোয় প্রতিফলিত হবে।

সব মিলিয়ে, ডেসকোর সরকারের ইক্যুইটির বিপরীতে ৪৫ কোটি ৯০ লাখ টাকার প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটির মূলধন কাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ না করে পুরো শেয়ার সরকারের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়ার ফলে এ উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সরকারের ইক্যুইটি সমন্বয়।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত একটি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি হিসেবে ডেসকোর এ সিদ্ধান্ত তাই শুধু শেয়ার ইস্যুর আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং কোম্পানির মূলধন কাঠামো, সরকারের অংশগ্রহণ, ভবিষ্যৎ লভ্যাংশ এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের অবস্থানের দিক থেকেও তা গুরুত্বপূর্ণ। এখন বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে প্রেফারেন্স শেয়ারগুলোর চূড়ান্ত শর্ত, বরাদ্দ প্রক্রিয়া এবং এর পরবর্তী আর্থিক প্রভাবের দিকে।