বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

শামসুল আলম, ঠাকুরগাঁও

প্রকাশ: ১৯:৪৭, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে নান্দনিক ব্রিজ নজর কাড়ছে হাজারো দর্শনার্থীর

ঠাকুরগাঁওয়ে নান্দনিক ব্রিজ নজর কাড়ছে হাজারো দর্শনার্থীর

ছবি সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় কোষারানীগঞ্জ  ইউনিয়নের  টাঙ্গন নদীর ওপর নবনির্মিত  চেরকুরঘাট ব্রিজ সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং সর্বস্তরের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক নির্মিত এই নান্দনিক সেতুটি দেখতে প্রতিদিন সেখানে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। নান্দনিক ডিজাইন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ব্রিজের মূল আকর্ষণ। টাঙ্গন নদীর ওপর নির্মিত এই ব্রিজের আশপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য ও এর আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর কারণে এটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ভাইরাল ব্রিজ’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। পরবর্তীতে পর্যটন স্পট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বিকেল হলেই স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ এখানে ঘুরতে আসছেন এবং ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করছেন, যা এটিকে একটি জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্যে পরিণত করেছে।

 স্থানীয় ব্যক্তি আজহারুল ইসলাম, মোকসেদ আলী, আব্দুল কাদেরসহ অনেক‌ই জানান, এ ব্রিজটি হ‌ওয়ায় আমাদের দুই পাড়ের পাশাপাশি আশপাশে কয়েক গ্রামের মানুষের অনেক সুবিধা হয়েছে। পূর্বে আমাদের বর্ষা মৌসুমে ৫-৭ কিলোমিটার দূরে গিয়ে যাতায়াত করতে হতো। আমাদের কৃষিকাজে, হাটবাজারে পণ্য পরিবহন, হাসপাতালসহ ও স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের কাজে আমাদের খুব অসুবিধা হতো। এখন ব্রিজ হওয়ায় মনে হয় যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। ব্রিজটি নান্দনিক ডিজাইন ও আধুনিক স্থাপত্য শৈলীর কারণে বিনোদনের পাশাপাশি চেরকুরঘাট সংলগ্ন এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়েছে। যেহেতু এ ব্রিজের মাধ্যমে। ব্রিজটি নান্দনিক ডিজাইন ও  আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর মাধ্যমে করা হয়েছে; যা দেখার জন্য দূরদূরান্তের মানুষ প্রতিদিন ছুটে আসছে।

ব্রিজটি এলজিইডির অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের মাধ্যমে সুনিপুণভাবে কাজটি সুসম্পন্ন হয়েছে। এর আগে এলাকার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন সেতুটির নির্মাণকাজ ও এর চারপাশের উন্নয়ন পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে এটি পীরগঞ্জের অন্যতম একটি দৃষ্টিনন্দন ও আলোচিত স্থান হিসেবে হাজারো মানুষের নজর কেড়ে চলেছে।

 

এ প্রসঙ্গে এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. ফরহাদ হোসেন সৌরভ জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং কাজের গুণগত মান বজায় রেখে এলজিইডি কাজ করে যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ে দক্ষ প্রকৌশলী ও কার্য সহকারীদের নিবিড় তয় তত্ত্বাবধানে এ অঞ্চলের বিভিন্ন রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্টের কাজগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং গুণগত মান বজায় রেখে এলজিইডির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ শেষ করাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। জেলায় সব উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের  গ্রামের রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে চলেছে। এতে করে গ্রামের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা আরামদায়ক ও ছয় দুর্ঘটনামুক্ত হচ্ছে। তাছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রামের পাকা রাস্তা ব্যবহার করে মানুষকে অতি দ্রুত আইনি সেবা দিতে পারছে। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য কম খরচে ও সহজে নিকটস্থ বাজারে বাজারজাত করতে সক্ষম হচ্ছেন।