শারীরীক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী ফরিদুলের হার না মানার গল্প
ছবি সংগৃহীত
শারীরীক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীতা দমাতে পারেনি অনার্স শেষ করা ফরিদুল ইসলামকে (৩৮)। নানা প্রতিকুলতার মধ্যদিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। ফরিদুল নীলফামারী সদরের রামনগর ইউনিয়নের দক্ষিন বিশমুড়ী পাইলাভাঙ্গা গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও মাতা ফরিদা বেগমের ছেলে। তাদের চার ছেলে মেয়ের মধ্যে ফরিদুল পরিবারের দ্ধিতীয় সন্তান। এখন তাঁর একটাই স্বপ্ন সরকারের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গুলো থেকে আর্থিক সহায়তা অথবা কর্মসংস্থানের বুক ভড়া আশা নিয়ে বেচে আছে ফরিদুল। তবে এই আশা কবে পুরণ হবে তা আল্লাহই জানেন। যাতে তিনি মা বাবাসহ পরিবারের হাল ধরতে পারেন। পরিবারের অর্থনৈতিক সংকট ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীতাও তাঁর পড়াশুনা থামাতে পারেনি। সব বাধা পেরিয়ে তিনি সম্মাননা অর্জনসহ অনার্স কোর্স সফলভাবে শেষ করেছেন। তাঁর প্রতিবেশী আইয়ব আলী (৫০) বলেন, ছাত্র হিসেবে সে যতেষ্ট মেধাবী। ছোট বেলা ভালই ছিল, তার বয়শ যখন ৫-৬ বছর তখন হঠাৎ করে দুই কানে কম শুনতে পায় এবং দুই পা বাঁকা হয়। এই রোগে স্থানীয়ভাবে অনেক চিকিৎসাক,গলা ও কান বিশেষজ্ঞ ও হাড় জোড় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কিছুদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর আর্থিক সংসটের কারণে আর চিকিৎসা নিতে পারেনি সে। তিনি বলেন, দারিদ্রতার কারণে তাঁর শিক্ষাজীবন ও দৈনন্দিন জীবন যাপন খুবই কষ্টসাধ্য ছিল। বেকারত্ব থেকে মুক্তি পেতে সরকারের সেবামুলক প্রতিষ্ঠান গুলো থেকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হলে নিজের জীবন ও পরিবার ভালভাবে চলাতে পারতো।”
ওই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য বেলায়েত হোসেন জানান, “আমি তাক ব্যক্তিগতভাবে চিনি ও জানি। তার বাবা একজন কৃষি শ্রমিক এবং মাও
অসুস্থ্য। তবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নয়, বরং সহযোগিতা পেলে তারা দেশের সম্পদে পরিণত হতে পারেন। ফরিদুলের যথেষ্ট মেধা আছে তিনি একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি কম্পিউটারের বিভিন্ন কাজও করতে পারেন।” কম্পিউটার প্রশিক্ষক লিমন জানান, “শুধু পড়াশোনাই নয় পাশাপাশি, মাইক্রোসফট এক্সেল, ফটোকপি, ছবি প্রিন্টসহ কম্পিউটারের অনেক কাজে দক্ষ তিনি। কিন্তু কানে কম শোনার কারণে চাকরির জন্য অনেক আবেদন করেও কোথাও সুযোগ পাননি।” এ ব্যাপারে, রামনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “প্রতিবন্ধী কোটা বা বিশেষ সহায়তার মাধ্যমে ফরিদুলের মতো মেধাবী ও সংগ্রামী যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সমাজের দায়িত্ব। সে আর দশজন প্রতিবন্ধির মতো সমাজের বোঝা হয়ে থাকতে পারতো। কিন্ত সে শিক্ষিত হয়েও শরীরীক ও শ্রবন প্রতিবন্ধীতা কারণে পরিবার ও সমাজের বোঝাঁ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।” তিনি বলেন, “তার মা ফরিদা বেগম দীর্ঘদিন যাবত ডায়াবেটিসসহ জঠিল রোগে আক্রান্ত। তার বাবা একজন কৃষি শ্রমিক। সংসার ও ফরিদুলের লেখাপড়ার (মাষ্টার্স) খরচ চালাতে হিমসিম খাচ্ছে ফরিদুলের বাবা রফিকুল ইসলাম। সরকারি-বেসরকারি যে কোনো প্রতিষ্ঠানে অথবা এক কালিন আর্থিক সহায়তা পেলে সে ঘুঁরে দাঁড়াতে পারতো। হার না মানা ফরিদুল প্রতিবন্ধীতাকে শক্তিতে পরিনত করে ইতিহাস বিভাগ থেকে অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছেন।” ফরিদুল বলেন, আমি মার্স্টাস পড়ার ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক সংকটের কারনে হয়তো পারবোনা। আমার একটাই চাওয়া, সরকার বা কোনো হূদয়বান ব্যক্তি যদি আমাকে একটা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেন, তাহলে আমি ডাল ভাত খেয়ে জীবন যাপন করতে পারতাম এবং বেকারত্ব থেকে মুক্তি পেতাম। আমি কারো ঘারের বোঝাঁ হয়ে থাকতে চাই না।
ফরিদুলের বাবা রফিকুল ইসলাম জানান, অভাবে সংসারে ছয়জন মানুষের ভরণপোশনসহ ছেলের চিকিৎসা ও লেখাপড়ার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয়। প্রতিবন্ধি কোটায় আমার ছেলের চাকুরি বা কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে অনুরাধ জানাই।