সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩:২৮, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

পোশাকশিল্পে সামাজিক ও সুশাসন মানদণ্ড বাধ্যতামূলক হচ্ছে

পোশাকশিল্পে সামাজিক ও সুশাসন মানদণ্ড বাধ্যতামূলক হচ্ছে

ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সদস্য কারখানাগুলোর জন্য পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসন-সংক্রান্ত মানদণ্ড বিষয়ক তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। তিনি বলেন, ইএসজি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা আদায়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে শিল্পের চাহিদা তুলে ধরা হবে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে সংগঠনটির ইএসজি প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। মাহমুদ হাসান খান বলেন, বর্তমানে বিজিএমইএর ৩২৬ জন সদস্য ইএসজি প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছেন। তবে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে এ সংখ্যা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। কারণ শিল্পের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরা এবং কার্যকর নীতি সহায়তা নিশ্চিত করতে নির্ভুল তথ্যের বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, বিজিএমইএর সদস্যদের জন্য ইএসজি-সংক্রান্ত তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হবে। এজন্য সংগঠনটির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও সরঞ্জাম রয়েছে। পাশাপাশি সদস্যদের উৎসাহিত করতে প্রণোদনার ব্যবস্থাও করা হবে। তবে যেসব তথ্য প্রয়োজন নেই, সেগুলো সংগ্রহ করা হবে না।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়টি সামনে রেখে আগামী ছয় বছরের প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনায় মূল প্রশ্ন ছিল, উত্তরণের সময় বাড়ানো হলে বাংলাদেশ এই ছয় বছরে কী প্রস্তুতি নেবে। এই সময়ের মধ্যে এমন প্রস্তুতি নিতে হবে, যেন ছয় বছর পর বাংলাদেশকে আবারও উত্তরণের সময় বাড়ানোর আবেদন করতে না হয়। এজন্য কারখানার নিজস্ব অবকাঠামোর পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা, বন্দরের দক্ষতা, অর্থায়নের ব্যয় এবং ব্যবসা পরিচালনার সহজ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

মাহমুদ হাসান খান বলেন, এসব ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হলে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন। ইএসজি প্ল্যাটফর্মের তথ্যের ভিত্তিতে শিল্পের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রেও এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের টেকসই বিকাশ নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে ইএসজি প্ল্যাটফর্ম বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।