ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী
চুয়েটের পানির সংকট কাটাতে ওয়াসার প্রকল্প
ছবি সংগৃহীত
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) দীর্ঘদিনের পানিসংকট সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। কর্ণফুলী পানি শোধনাগার-১ ও ২ থেকে চুয়েট পর্যন্ত আট ইঞ্চি ব্যাসের বিতরণী পাইপলাইন স্থাপন করে পানি সরবরাহ করা হবে। মঙ্গলবার চুয়েট ক্যাম্পাসে এ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
চুয়েট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ বছর ধরে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের পানির চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। তবে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়। নতুন পাইপলাইন স্থাপনের মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চুয়েটের দীর্ঘদিনের পানির সমস্যা সমাধানে চট্টগ্রাম ওয়াসার উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান। সবার জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পানি সরবরাহের কাজ শেষ হলে চুয়েটের পানিসংকটের সমাধান হবে।
চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম বলেন, চুয়েট বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি পানিসংকটে ভুগছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর চুয়েটে ওয়াসার সুপেয় পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুততম সময়ে কাজ শেষ করে পানি সরবরাহ শুরু করা হবে।
ওয়াসা সূত্র জানায়, কর্ণফুলী পানি শোধনাগার-১ ও ২ থেকে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ২৯ কোটি লিটার পানি চট্টগ্রাম মহানগরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে। এই সরবরাহব্যবস্থা থেকে চুয়েট পর্যন্ত পাইপলাইন সমপ্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চুয়েটের পক্ষ থেকে গত ১৫ জুন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পানি সরবরাহের জন্য আবেদন করা হয়। আবেদনের পর সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনা করে ৬ জুলাই বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন (বিআরটিসি) ও চুয়েট কর্তৃপক্ষকে বর্তমান পানির ব্যবহার বিবেচনায় পাইপলাইন, পাম্পের সক্ষমতা, পূর্ণাঙ্গ নকশা ও সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেয় ওয়াসা। এরপর কর্ণফুলী পানি শোধনাগার থেকে চুয়েট পর্যন্ত ৮ ইঞ্চি বিতরণী পাইপলাইন স্থাপনের কাজ হাতে নেওয়া হয়।
১৯৬৮ সালে রাউজানে প্রতিষ্ঠিত চুয়েট বর্তমানে পাঁচটি অনুষদ ও ১৮টি বিভাগ নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৬ হাজার ৩৬৭ জন শিক্ষার্থী এবং ৩৬১ জন শিক্ষকসহ মোট ১ হাজার ৫৩ জন জনবল রয়েছে। ছয়টি ছাত্র হল ও তিনটি ছাত্রী হলের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসিক এলাকায় মিলিয়ে ক্যাম্পাসে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ মানুষ বসবাস করেন। এত বড় জনগোষ্ঠীর পানির চাহিদা দীর্ঘদিন ধরে মূলত ভূগর্ভস্থ উৎসের ওপর নির্ভরশীল ছিল।