শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

শেয়ার বিজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩:৫৭, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেপাল-চীনে বন্যা-ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়াল

নেপাল-চীনে বন্যা-ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়াল

ছবি সংগৃহীত

নেপাল ও চীনে গত সপ্তাহে আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে এখনো ৪ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ভয়াবহ এই দুর্যোগে দুই দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাহাড়ি ঢল, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার কারণে বহু মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। কোথাও কোথাও যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধারকারী দলগুলোকেও দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে চরম প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ, কাদামাটি ও নদীর স্রোতের মধ্যে এখনো নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।

নেপালের বিভিন্ন এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দুর্যোগের ভয়াবহতার মধ্যেও উদ্ধারকারীরা ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন। ধসে পড়া স্থাপনা, নদীর তীর এবং বন্যাকবলিত এলাকায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে কাজ করছেন তারা।

তবে উদ্ধারকাজে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি এবং দুর্যোগের কারণে যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। কোথাও রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকারী দলকে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। আবার কোথাও নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা থাকায় ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।

এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও উদ্ধারকারীদের সাহসিকতার নানা ঘটনা সামনে আসছে। নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা থাকায় অনেক এলাকায় তল্লাশি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।

দুর্যোগের ভয়াবহতার মধ্যেও কিছু ঘটনা স্বজনদের মনে নতুন করে আশার আলো জ্বালাচ্ছে। বন্যায় নিখোঁজ হয়ে যাওয়া পাঁচ বছর বয়সি শিশু মনীষা মাগারকে প্রথমে মৃত বলে ধরে নিয়েছিল তার পরিবার। দীর্ঘ সময় শিশুটির কোনো সন্ধান না পাওয়ায় স্বজনদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরে শিশুটিকে উদ্ধারের একটি ভিডিও ফুটেজ দেখতে পান তার বাবা-মা। সেই দৃশ্য তাদের মনে আবারও আশার সঞ্চার করে। সন্তানকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় এখন তারা উদ্ধার তৎপরতার দিকে তাকিয়ে আছেন।

দুর্যোগের পর নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানের পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া মরদেহ স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াও কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েক দিন নদীর পানিতে পড়ে থাকার কারণে অনেক মরদেহের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে গেছে। ফলে সেগুলো শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় শত শত অজ্ঞাত মরদেহ গণকবরস্থানে দাফন করছে কর্তৃপক্ষ। এতে নিখোঁজ স্বজনদের পরিবারগুলোর উৎকণ্ঠা আরও বাড়ছে। তাদের অনেকেই প্রিয়জনের কোনো খবরের আশায় উদ্ধারকেন্দ্র, হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

ভয়াবহ এই দুর্যোগে স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকরাও নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের স্বজনদের অনেকেই প্রিয়জনের সন্ধানে নেপালে ছুটে এসেছেন। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে প্রায় ৮০ জন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এক মার্কিন চিকিৎসক তার নিখোঁজ বাবা-মায়ের সন্ধানে নেপালে এসেছেন। দুর্যোগের সময় তার বাবা-মা কোথায় ছিলেন এবং কীভাবে নিরাপদে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তা নিয়ে তিনি নানা সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন।

তিনি আশা করছেন, বন্যার সতর্কসংকেত ও সাইরেন শুনে তার বাবা-মা হয়তো দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁরা গাড়িতে করে কিংবা হেঁটে কোনো নিরাপদ এলাকায় যাওয়ার চেষ্টা করে থাকতে পারেন—এমন আশাই করছেন তিনি।

দুর্যোগের পর নেপালের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় দেশীয় উদ্ধারকারী দলের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারীরাও কাজ করছেন। নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা যতক্ষণ রয়েছে, ততক্ষণ তল্লাশি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে উদ্ধারকারী দলগুলো।

তবে সময় যত গড়াচ্ছে, নিখোঁজদের স্বজনদের উদ্বেগও তত বাড়ছে। কেউ অপেক্ষা করছেন প্রিয়জনের জীবিত ফিরে আসার আশায়, আবার কেউ মরদেহ শনাক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপ ও নদী থেকে উদ্ধার হওয়া প্রতিটি মরদেহের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি পরিবারের আশা, উৎকণ্ঠা ও বেদনা।

ভয়াবহ এই দুর্যোগ আবারও পাহাড়ি অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকায় আগাম সতর্কবার্তা, দ্রুত যোগাযোগ এবং কার্যকর উদ্ধারব্যবস্থার গুরুত্ব নতুন করে স্পষ্ট হয়েছে।

নেপাল ও চীনে ভয়াবহ এই দুর্যোগে প্রাণহানি ইতোমধ্যে এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নিখোঁজদের সন্ধান, মরদেহ শনাক্তকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের নিরাপদ আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা। উদ্ধারকারীদের অভিযান যত এগোচ্ছে, ততই ধ্বংসযজ্ঞের প্রকৃত চিত্র সামনে আসছে। এর মধ্যেও নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের আশায় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।