শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

রামিসা রহমান 

প্রকাশ: ২৩:৩৯, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পিএসআই নিয়ে জবাবদিহিতা 

পাওনা আদায়ে বেক্সিমকোর ২৬ একর সম্পত্তি নিলামে

পাওনা আদায়ে বেক্সিমকোর ২৬ একর সম্পত্তি নিলামে

ছবি সংগৃহীত

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো লিমিটেডের কাছে রূপালী ব্যাংকের পাওনা প্রায় ১৯১ কোটি টাকা। দীর্ঘদিনের পাওনা আদায়ে বেক্সিমকোর বন্ধকি সম্পত্তি নিলামে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটি। গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে থাকা কোম্পানিটির প্রায় ২৬ একর জমি ও অন্যান্য সম্পত্তি নিলামের উদ্যোগের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও তা মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) হিসেবে বিনিয়োগকারীদের জানায়নি বেক্সিমকো লিমিটেড।
এ ঘটনায় কোম্পানিটির কাছে লিখিত ব্যাখ্যা তলব করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নিলামের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ঘটনা কেন মূল্য সংবেদনশীল তথ্য হিসেবে প্রকাশ করা হয়নি এবং এ বিষয়ে কোম্পানির অবস্থান কী—তা জানতে চেয়েছে কমিশন।
সম্প্রতি বেক্সিমকো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছে বিএসইসি। কমিশনের ইস্যুয়ার কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের সুপারভিশন অ্যান্ড রেগুলেশন অব ইস্যুয়ার কোম্পানিজ ডিপার্টমেন্ট থেকে চিঠিটি পাঠানো হয়।
চিঠিতে কোম্পানিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে। বিএসইসির চিঠি পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কমিশনের কাছে বেক্সিমকোর পক্ষ থেকে কোনো জবাব পৌঁছেনি বলে জানা গেছে।
একই বিষয়ে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) থেকেও বেক্সিমকোর কাছে জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তবে সিএসই কর্তৃপক্ষের কাছেও এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির কোনো উত্তর আসেনি।
বিএসইসি সূত্র ও সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, সমপ্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে কমিশন জানতে পারে, বেক্সিমকো লিমিটেডের কাছ থেকে পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে রূপালী ব্যাংক কোম্পানিটির বন্ধকি সম্পত্তি নিলামে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকটির পাওনা প্রায় ১৯১ কোটি টাকা। এই অর্থ আদায়ে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত বেক্সিমকোর প্রায় ২৬ একর জমি ও সম্পত্তি নিলামে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিএসইসির দৃষ্টিতে বিষয়টি শুধু একটি ব্যাংকঋণ আদায়ের প্রক্রিয়া নয়। কারণ, নিলামে তোলার জন্য যেসব সম্পত্তির কথা বলা হয়েছে, সেগুলো একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির সম্পদ। ফলে এসব সম্পত্তি নিয়ে আইনি বা আর্থিক পদক্ষেপ কোম্পানির সম্পদ পরিস্থিতি, আর্থিক সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
এ কারণেই বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি মূল্য সংবেদনশীল তথ্যের আওতায় পড়ে কি না, তা খতিয়ে দেখছে কমিশন।
তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে এমন কোনো তথ্য, ঘটনা বা সিদ্ধান্ত যা কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, সম্পদ, দায়, ব্যবসা বা ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে, তা বিনিয়োগকারীদের কাছে যথাসময়ে প্রকাশ করা গুরুত্বপূর্ণ।
বিএসইসির পর্যবেক্ষণ হলো, বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ আদায়ে কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তি নিলামে তোলার উদ্যোগ একটি সাধারণ ব্যবসায়িক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ সীমিত। কারণ, নিলাম কার্যকর হলে কোম্পানির উল্লেখযোগ্য সম্পদ হাতছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতি কোম্পানির আর্থিক অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে কোম্পানির সম্পদের পরিমাণ, দায়দেনা, ঋণ পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সক্ষমতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মূল্যায়নেও পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে এই তথ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে

 যথাসময়ে প্রকাশ করা হয়েছিল কি না, সেটিই এখন বিএসইসির তদন্তের অন্যতম বিষয়। বিএসইসি মনে করছে, বেক্সিমকোর বন্ধকী সম্পত্তি নিলামে তোলার উদ্যোগটি মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের বিধানের আওতায় পড়তে পারে।
এ ক্ষেত্রে কমিশন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সুবিধাভোগী ব্যবসা নিষিদ্ধকরণ) বিধিমালা, ২০২২-এর মূল্য সংবেদনশীল তথ্যসংক্রান্ত বিধি ৩-এর উপবিধি (১)(অ) বিবেচনায় নিয়েছে। পাশাপাশি মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের পদ্ধতি-সংক্রান্ত বিধি ৬(১)-এর বিষয়টিও কমিশনের পর্যালোচনায় রয়েছে।
অর্থাৎ কোম্পানির আর্থিক অবস্থা বা সম্পদের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে—এমন কোনো ঘটনা ঘটলে সেটি বিনিয়োগকারীদের কাছে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হয়েছে কি না, সেটিই এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার মূল প্রশ্ন।
বিএসইসির পর্যালোচনায় আরও একটি বিষয় উঠে এসেছে। নিলামের উদ্যোগের বিষয়ে বেক্সিমকো লিমিটেডের পক্ষ থেকে কমিশন বা সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ রূপালী ব্যাংকের পাওনা আদায়ে কোম্পানির বন্ধকি সম্পত্তি নিলামে তোলার উদ্যোগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে পিএসআই আকারে প্রকাশের কোনো রেকর্ড কমিশনের নজরে আসেনি।
গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর কোম্পানি আলাদাভাবে কোনো ব্যাখ্যা বা তথ্য বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছিল কি না, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতেই বেক্সিমকোর কাছে সরাসরি লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএসইসি। বিএসইসির চিঠিতে বেক্সিমকোর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, রূপালী ব্যাংকের পাওনা আদায়ে কোম্পানির বন্ধকি সম্পত্তি নিলামে তোলার উদ্যোগের বিষয়টি কেন মূল্য সংবেদনশীল তথ্য হিসেবে প্রকাশ করা হয়নি।
একই সঙ্গে কোম্পানির অবস্থান এবং এ বিষয়ে তাদের ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে।
চিঠি পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোম্পানির কাছ থেকে কোনো উত্তর এসেছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কমিশনের কাছে জবাব পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
বিএসইসির পাশাপাশি সিএসই থেকেও একই বিষয়ে কোম্পানির কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেখানেও এখন পর্যন্ত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বিশেষ করে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে থাকা প্রায় ২৬ একর জমি ও সম্পত্তি যদি নিলামের আওতায় আসে, তাহলে কোম্পানির সম্পদ পরিস্থিতিতে তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নিলাম প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে গেলে বা সম্পত্তি বিক্রি হয়ে গেলে কোম্পানির মালিকানাধীন সম্পদের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মূল্য, কোম্পানির দায় এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তাই বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কি না, সে প্রশ্নই এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার সামনে।
বিএসইসির চিঠির জবাবে বেক্সিমকো কী ব্যাখ্যা দেয়, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের। কোম্পানি যদি মনে করে, নিলামের উদ্যোগটি চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নয় কিংবা এটি এমন কোনো পর্যায়ে পৌঁছেনি যাতে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়, তাহলে সেই অবস্থানের পক্ষে তাদের যুক্তি দিতে হবে।
অন্যদিকে, বিএসইসি যদি মনে করে কোম্পানিটির উচিত ছিল বিষয়টি পিএসআই হিসেবে প্রকাশ করা, তাহলে পরবর্তী সময়ে কমিশন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ নিতে পারে। তবে কোম্পানির আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়ার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
শুধু বিএসইসি নয়, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জও বেক্সিমকোর কাছে বিষয়টি জানতে চিঠি দিয়েছে। সিএসইর পক্ষ থেকেও জানতে চাওয়া হয়েছে, রূপালী ব্যাংকের পাওনা আদায়ে কোম্পানির সম্পত্তি নিলামে তোলার উদ্যোগের বিষয়ে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য কেন প্রকাশ করা হয়নি।
তবে সিএসই কর্তৃপক্ষের কাছেও এখন পর্যন্ত কোম্পানিটির কোনো জবাব পৌঁছেনি বলে জানা গেছে। ফলে একই ঘটনার বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং স্টক এক্সচেঞ্জ—দুই পক্ষের কাছেই বেক্সিমকোর ব্যাখ্যা এখনো অনিষ্পন্ন রয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির বড় অঙ্কের ঋণ এবং সেই ঋণের বিপরীতে গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তি নিলামে তোলার উদ্যোগকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে সম্পত্তির পরিমাণ যদি কোম্পানির মোট সম্পদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হয়, তাহলে নিলামের উদ্যোগ কোম্পানির আর্থিক অবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাবের ইঙ্গিত দিতে পারে। তাদের মতে, নিলাম শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন হবে কি না, সেটি আলাদা বিষয়। কিন্তু কোনো ব্যাংক যদি পাওনা আদায়ে তালিকাভুক্ত কোম্পানির বন্ধকি সম্পত্তি নিলামে তোলার আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেয়, তাহলে বিনিয়োগকারীদের তা জানার সুযোগ থাকা উচিত কি না—এ প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ বিনিয়োগকারীরা সাধারণত কোম্পানির প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতেই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। তথ্য প্রকাশে বিলম্ব হলে বাজারে তথ্যের অসমতা তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এখানে মূল প্রশ্ন শুধু বেক্সিমকোর ১৯১ কোটি টাকা পাওনা কিংবা ২৬ একর সম্পত্তি নিলামে তোলার বিষয় নয়। বরং একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ঘটনা বিনিয়োগকারীদের কত দ্রুত এবং কীভাবে জানানো হচ্ছে—সেটিই বড় প্রশ্ন। পুঁজিবাজারে আস্থা ধরে রাখতে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কোম্পানির আর্থিক অবস্থায় সম্ভাব্য বড় প্রভাব ফেলতে পারে এমন তথ্য যদি বিনিয়োগকারীদের কাছে যথাসময়ে না পৌঁছায়, তাহলে তারা অসম তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এ কারণে বিএসইসি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। বেক্সিমকোর লিখিত ব্যাখ্যা পাওয়ার পর বিএসইসি বিষয়টি আরও পর্যালোচনা করতে পারে। কোম্পানির ব্যাখ্যায় যদি কমিশন সন্তুষ্ট হয়, তাহলে বিষয়টি সেই পর্যায়ে নিষ্পত্তি হতে পারে। আর যদি কমিশনের কাছে মনে হয়, কোম্পানির পক্ষ থেকে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে বিধি লঙ্ঘনের সম্ভাবনা রয়েছে, তাহলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
একইভাবে, সিএসইর কাছেও কোম্পানির জবাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বেক্সিমকোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না আসায় বিষয়টি পুঁজিবাজারে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশেষ করে কোম্পানির বন্ধকি সম্পত্তির নিলাম, রূপালী ব্যাংকের পাওনা এবং পিএসআই প্রকাশ না করার বিষয়—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে পরবর্তী নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা। বেক্সিমকো লিমিটেডের কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ আসাদ উল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম শেয়ার বিজকে বলেন, তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির আর্থিক অবস্থায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে—এমন তথ্য বিনিয়োগকারীদের যথাসময়ে জানানো কোম্পানির দায়িত্ব। কোনো কোম্পানির সম্পত্তি ঋণের বিপরীতে বন্ধক রাখা এবং সেই সম্পত্তি নিলামে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানের আলোকে মূল্যায়ন করা হবে। বেক্সিমকোর কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। কোম্পানির জবাব পাওয়ার পর কমিশন তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ আল-আমিন শেয়ার বিজকে বলেন, একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির বড় অঙ্কের ঋণ এবং সেই ঋণ আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তি নিলামে তোলার উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের জন্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। কারণ এতে কোম্পানির সম্পদ, দায় এবং আর্থিক সক্ষমতা সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের ধারণা প্রভাবিত হতে পারে। এ ধরনের তথ্য যথাসময়ে প্রকাশ না হলে বাজারে তথ্যের অসমতা তৈরি হয় এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েন। পুঁজিবাজারে আস্থা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক তথ্য দ্রুত প্রকাশ নিশ্চিত করা জরুরি।
বিএসইসির পাঠানো চিঠির অনুলিপি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে। এর ফলে বিষয়টি শুধু বিএসইসির পর্যবেক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; পুঁজিবাজারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছেও বিষয়টি নজরে এসেছে।
এখন মূল অপেক্ষা বেক্সিমকোর আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার জন্য। কোম্পানি কেন নিলামের উদ্যোগকে পিএসআই হিসেবে প্রকাশ করেনি, এ বিষয়ে তাদের যুক্তি কী এবং নিলামের সঙ্গে কোম্পানির আর্থিক অবস্থার সম্পর্ক কতটা—এসব প্রশ্নের উত্তরই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রূপালী ব্যাংকের প্রায় ১৯১ কোটি টাকা পাওনা আদায়ে বেক্সিমকোর গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের প্রায় ২৬ একর জমি ও সম্পত্তি নিলামে তোলার উদ্যোগ এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। নিলামের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএসইসির ব্যাখ্যা তলব এবং সিএসইর চিঠি—দুই নিয়ন্ত্রক পর্যায়ের নজরদারিতে এসেছে বেক্সিমকো।
কোম্পানির ব্যাখ্যা পাওয়ার পরই স্পষ্ট হবে, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ একটি আর্থিক ঘটনার তথ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য হিসেবে প্রকাশ করা হয়নি। আর সেই ব্যাখ্যার ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে বিএসইসির পরবর্তী সিদ্ধান্ত।