সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

শেয়ার বিজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩:২৩, ৩০ আগস্ট ২০২৬

এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ড

বে-মেয়াদিতে রূপান্তরের উদ্যোগ

বে-মেয়াদিতে রূপান্তরের উদ্যোগ

ছবি সংগৃহীত

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ডকে মেয়াদি ফান্ড থেকে বে-মেয়াদি ফান্ডে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইউনিটহোল্ডারদের অনুমোদন নিতে আগামী ২৭ অক্টোবর বিশেষ সাধারণ সভা (এসজিএম) আহ্বান করা হয়েছে। গতকাল রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ফান্ডটির সম্পদ ব্যবস্থাপক এসইএমএল জানিয়েছে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) গত ৭ মে ২০২৬ তারিখের আদেশ এবং ফান্ডটিকে স্বেচ্ছায় বে-মেয়াদি ফান্ডে রূপান্তরের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ট্রাস্টি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৭ অক্টোবর সকাল ১১টায় ঢাকার মহাখালীতে রাওয়া কনভেনশন হলের অ্যাঙ্কর হল-০২-এ বিশেষ সাধারণ সভাটি অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় ফান্ডটির বর্তমান ইউনিটহোল্ডারদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হবে। ইউনিটহোল্ডারদের অনুমোদন পাওয়ার পর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ফান্ডটিকে বে-মেয়াদি কাঠামোয় রূপান্তরের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

বিশেষ সাধারণ সভায় অংশগ্রহণের যোগ্য ইউনিটহোল্ডার নির্ধারণে আগামী ৬ অক্টোবর ২০২৬ রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই তারিখে যেসব বিনিয়োগকারীর নামে ফান্ডটির ইউনিট থাকবে, তারাই এসজিএমে অংশগ্রহণ ও ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। তবে রেকর্ড ডেট থেকেই ফান্ডটির ইউনিটের লেনদেন স্থগিত থাকবে। সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, রেকর্ড ডেট থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অথবা ফান্ডের পক্ষ থেকে নতুন কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত স্টক এক্সচেঞ্জে ইউনিটটির লেনদেন বন্ধ থাকবে।

এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ডকে মেয়াদি থেকে বে-মেয়াদি ফান্ডে রূপান্তরের কার্যকর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ অক্টোবর ২০২৬। নির্ধারিত তারিখ থেকে ফান্ডটির কাঠামোগত পরিবর্তন কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে এ রূপান্তরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। ফান্ডটির বর্তমান ইউনিটহোল্ডারদের জন্য ২৭ অক্টোবরের এসজিএম তাই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সভায় রূপান্তরের প্রস্তাবের বিষয়ে তাদের মতামত ও অনুমোদন নেওয়া হবে।

মেয়াদি ও বে-মেয়াদি ফান্ডের কাঠামোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। মেয়াদি ফান্ড সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গঠন করা হয় এবং নির্ধারিত মেয়াদ শেষে এর কাঠামো অনুযায়ী বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ নিষ্পত্তির সুযোগ থাকে। অন্যদিকে বে-মেয়াদি ফান্ডের নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে না। ফলে নির্ধারিত নিয়ম ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অধীনে ফান্ডটি দীর্ঘমেয়াদে পরিচালনা করা সম্ভব হয়।

এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ডকে বে-মেয়াদি করার উদ্যোগের ফলে ফান্ডটির পরিচালন কাঠামোতেও পরিবর্তন আসবে। তবে রূপান্তরের পর ইউনিটহোল্ডারদের জন্য কী ধরনের সুবিধা বা পরিবর্তন কার্যকর হবে, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

ফান্ডটির সম্পদ ব্যবস্থাপকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের ৭ মে ২০২৬ তারিখের আদেশের পাশাপাশি ফান্ডটিকে স্বেচ্ছায় বে-মেয়াদি ফান্ডে রূপান্তরের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ এটি শুধু সম্পদ ব্যবস্থাপকের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নয়; নিয়ন্ত্রক সংস্থার আদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রূপান্তরের প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। এখন ইউনিটহোল্ডারদের অনুমোদনের পর পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করার মাধ্যমে ফান্ডটির নতুন কাঠামো কার্যকর করা হবে।

রেকর্ড ডেট নির্ধারণের কারণে ৬ অক্টোবর থেকে ফান্ডটির ইউনিটের লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে সম্পদ ব্যবস্থাপক। ফলে ফান্ডটির ইউনিটধারীদের জন্য রেকর্ড ডেট এবং লেনদেন স্থগিতের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যারা ফান্ডটির ইউনিট কেনাবেচা করতে চান, তাদের নির্ধারিত সময়সূচি সম্পর্কে অবগত থাকা প্রয়োজন।

এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ডকে বে-মেয়াদি ফান্ডে রূপান্তরের উদ্যোগ এখন ইউনিটহোল্ডারদের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ৬ অক্টোবর রেকর্ড ডেটের পর ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ সাধারণ সভা।

সভায় প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী ফান্ডটির কাঠামোগত পরিবর্তন এগিয়ে যাবে। আর ৮ অক্টোবরকে রূপান্তরের কার্যকর তারিখ হিসেবে নির্ধারণ করা হলেও ইউনিটহোল্ডারদের অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিকতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। মেয়াদি কাঠামো থেকে বে-মেয়াদি ফান্ডে যাওয়ার এই উদ্যোগ এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ডের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত পরিবর্তন। এখন ইউনিটহোল্ডারদের অনুমোদন এবং পরবর্তী নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ার দিকেই নজর থাকবে।