ডিএসইকে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির ব্যাখ্যা দেয়নি তুং হাই নিটিং
ছবি সংগৃহীত
কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন বন্ধ, ধারাবাহিক লোকসান, ঋণাত্মক শেয়ারপ্রতি নিট সম্কদ মূল্য (এনএভিপিএস), পুঞ্জীভূত লোকসান এবং বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার মতো একাধিক নেতিবাচক সূচকের মধ্যে রয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড। কোম্কানিটির ব্যবসায়িক ও আর্থিক পরিস্থিতি নাজুক হলেও সাম্ক্রতিক সময়ে এর শেয়ারদরে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক উত্থান। বিষয়টি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নজরে আসার পর কোম্কানির কাছে দরবৃদ্ধির কারণ জানতে চিঠি দেওয়া হলেও তুং হাই নিটিং কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
গতকাল সোমবার নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে ডিএসই। কোনো মূল্যসংবেদনশীল তথ্যের কারণে শেয়ারটির দর বাড়ছে কি না, অথবা কোম্কানির অভ্যন্তরীণ কোনো ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রভাব বাজারে পড়ছে কি না—এসব বিষয়ে জানতে চেয়েছিল স্টক এক্সচেঞ্জ। কিন্তু কোম্কানির পক্ষ থেকে কোনো জবাব না পাওয়ায় শেয়ারটির সাম্ক্রতিক অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত ২ আগস্ট তুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডাইংয়ের শেয়ারের বাজারদর ছিল ২ টাকা ৮০ পয়সা। মাত্র ২১ দিনের ব্যবধানে ২৩ আগস্ট লেনদেন শেষে শেয়ারটির দর বেড়ে দাঁড়ায় ৫ টাকা ১০ পয়সায়। অর্থাৎ এই সময়ে শেয়ারটির দাম বেড়েছে ২ টাকা ৩০ পয়সা। শতাংশের হিসাবে এ দরবৃদ্ধির পরিমাণ প্রায় ৮২ শতাংশ।
পুঁজিবাজারে কোনো কোম্কানির শেয়ারদর অল্প সময়ে এভাবে বেড়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই এর পেছনে কারণ খুঁজে দেখা হয়। বিশেষ করে কোম্কানির আর্থিক ও উৎপাদন পরিস্থিতি দুর্বল হলে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার প্রয়োজন পড়ে। কারণ, শেয়ারদরের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের পেছনে কোম্কানির ব্যবসা, আর্থিক ফলাফল, নতুন বিনিয়োগ, উৎপাদন পুনরায় চালুর পরিকল্পনা, সম্কদ বিক্রি, ঋণ পুনর্গঠন কিংবা অন্য কোনো মূল্যসংবেদনশীল তথ্য থাকতে পারে।
তুং হাই নিটিংয়ের ক্ষেত্রে এমন কোনো তথ্য রয়েছে কি না, তা জানতে চেয়েছিল ডিএসই। তবে কোম্কানিটি কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে একদিকে যখন বাজারে শেয়ারটির দর দ্রুত বাড়ছে, অন্যদিকে কোম্কানির পক্ষ থেকে এর পেছনের কারণ সম্কর্কে কোনো তথ্য না দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
তুং হাই নিটিংয়ের বর্তমান পরিস্থিতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কোম্কানিটির কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকা। এর আগে ডিএসইর একটি
বিশেষ পরিদর্শক দল কোম্কানিটির কারখানা পরিদর্শন করে। সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে তারা কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম সম্কূর্ণ বন্ধ দেখতে পায়।
পরিদর্শন প্রতিবেদনে কারখানাটির দীর্ঘদিন অব্যবহূত অবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদন না থাকায় কারখানার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব যন্ত্রপাতিতে মরিচা ও ময়লার স্তর জমে থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়।
কোনো তালিকাভুক্ত কোম্কানির উৎপাদন কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। কারণ উৎপাদন বন্ধ থাকার সরাসরি প্রভাব পড়ে কোম্কানির আয়, নগদ প্রবাহ, পরিচালন ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্ভাবনার ওপর। এ ধরনের পরিস্থিতি সম্কর্কে বিনিয়োগকারীদের যথাযথভাবে অবহিত করা হলে তারা কোম্কানিটির প্রকৃত অবস্থার ভিত্তিতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
কিন্তু তুং হাই নিটিংয়ের ক্ষেত্রে উৎপাদন বন্ধ থাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যথাযথভাবে প্রকাশ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ডিএসইর পরিদর্শনে উৎপাদন বন্ধ থাকার বিষয়টি উঠে আসার পর কোম্কানির তথ্য প্রকাশের সক্ষমতা ও স্বচ্ছতা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
উৎপাদন বন্ধ থাকার পাশাপাশি তুং হাই নিটিংয়ের আর্থিক অবস্থাও দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল। ধারাবাহিক লোকসানের কারণে কোম্কানিটি বেশ কয়েক বছর ধরে পুঁজিবাজারের ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে। ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে থাকা সাধারণত কোম্কানির দুর্বল আর্থিক কর্মক্ষমতা, লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থতা বা অন্যান্য নির্ধারিত মানদণ্ডের সঙ্গে সম্কর্কিত।
সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্কানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস ঋণাত্মক। অর্থাৎ কোম্কানিটি মুনাফা অর্জনের পরিবর্তে লোকসান করছে। এর সঙ্গে রয়েছে ঋণাত্মক শেয়ারপ্রতি নিট সম্কদ মূল্য বা এনএভিপিএস। সর্বশেষ হিসাবে কোম্কানিটির এনএভিপিএস ঋণাত্মক ৬ টাকা ৩৫ পয়সা।
এনএভিপিএস ঋণাত্মক হওয়ার অর্থ হলো কোম্কানির মোট দায় তার মোট সম্কদের চেয়ে বেশি। সহজভাবে বললে, কোম্কানির সম্কদ দিয়ে তার সব দায় পরিশোধ করা সম্ভব নয়। এমন আর্থিক অবস্থান কোনো কোম্কানির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে।
তুং হাই নিটিংয়ের পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণও প্রায় ৭৬ কোটি টাকা। বছরের পর বছর লোকসান জমতে থাকায় কোম্কানিটির আর্থিক ভিত্তি আরও দুর্বল হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীদেরও কয়েক বছর ধরে কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।
পুঁজিবাজারে কোনো শেয়ারের দাম বাড়া নিজেই অস্বাভাবিক কিছু নয়। কোনো কোম্কানির ভবিষ্যৎ ব্যবসা সম্ক্রসারণের সম্ভাবনা, নতুন বিনিয়োগ, উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা, সম্কদ পুনর্মূল্যায়ন কিংবা অন্য কোনো ইতিবাচক তথ্য থাকলে বাজারে তার প্রতিফলন ঘটতে পারে। কিন্তু তুং হাই নিটিংয়ের ক্ষেত্রে সাম্ক্রতিক দরবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো নতুন ব্যবসায়িক বা আর্থিক তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
একদিকে কোম্কানির কারখানা বন্ধ, অন্যদিকে আর্থিক প্রতিবেদন দুর্বল এবং এনএভিপিএস ঋণাত্মক। এমন পরিস্থিতিতে মাত্র ২১ দিনে শেয়ারদর প্রায় ৮২ শতাংশ বেড়ে যাওয়া বাজার পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই স্বাভাবিক।
বিশেষ করে স্বল্পমূল্যের শেয়ারে অল্প সময়ে বড় ধরনের দরবৃদ্ধি হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগ্রহ বাড়তে পারে। অনেক সময় বাজারে কোনো শেয়ারের দর বাড়তে শুরু করলে অনেকে কোম্কানির মৌলিক আর্থিক অবস্থা যাচাই না করেই সেই প্রবণতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শেয়ার কিনতে আগ্রহী হন। এতে ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।
তাই কোনো কোম্কানির শেয়ারদর বাড়ার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের শুধু বাজারদরের গতিবিধি না দেখে কোম্কানির উৎপাদন, আয়, মুনাফা, সম্কদ, দায়, নগদ প্রবাহ এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক পরিকল্পনাও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও তথ্যপ্রকাশের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। তালিকাভুক্ত কোম্কানির এমন কোনো তথ্য, যা শেয়ারদর বা বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে, তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা প্রয়োজন। কোনো অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি বা দরপতন দেখা দিলে স্টক এক্সচেঞ্জ সংশ্লিষ্ট কোম্কানির কাছে ব্যাখ্যা চাইতে পারে। এ ক্ষেত্রে কোম্কানির দায়িত্ব হলো যথাযথ ও সময়মতো তথ্য সরবরাহ করা।
তুং হাই নিটিংয়ের ক্ষেত্রে ডিএসই অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলেও কোম্কানির পক্ষ থেকে কোনো জবাব না পাওয়া বিষয়টিকে আরও গুরুত্ববহ করে তুলেছে। কারণ, কোম্কানির কাছ থেকেই যদি দরবৃদ্ধির পেছনে কোনো মূল্যসংবেদনশীল তথ্য নেই বলে নিশ্চিত করা হয়, তাহলে বিনিয়োগকারীরা অন্তত কোম্কানির অবস্থান সম্কর্কে পরিষ্কার ধারণা পেতে পারেন। আবার যদি কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন বা ব্যবসায়িক উদ্যোগ থাকে, সেটিও যথাযথভাবে প্রকাশ করার সুযোগ রয়েছে।
কিন্তু কোনো ব্যাখ্যা না থাকলে বাজারে নানা ধরনের গুঞ্জন তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে। এতে প্রকৃত তথ্যের বদলে অনুমাননির্ভর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কিছু বিনিয়োগকারী, যা পুঁজিবাজারের জন্য স্বাস্থ্যকর নয়।
তুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডাইং ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০১৪ সালে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্কানিটির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ১০৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। মোট শেয়ারের সংখ্যা ১০ কোটি ৬৬ লাখের বেশি।
কোম্কানিটির মালিকানা কাঠামো বিশ্লেষণ করলেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের অংশগ্রহণ দেখা যায়। উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে মোট শেয়ারের ৩০ দশমিক ০৪ শতাংশ। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ। আর বাকি ৬২ দশমিক ৩৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।
অর্থাৎ কোম্কানিটির শেয়ারের বড় অংশই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে। ফলে শেয়ারটির দর অল্প সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেলে এর প্রভাব সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপরও পড়তে পারে। বিশেষ করে যারা কোম্কানিটির মৌলিক অবস্থা সম্কর্কে বিস্তারিত না জেনে শুধু বাজারের দরবৃদ্ধি দেখে বিনিয়োগ করেন, তাদের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তুং হাই নিটিংয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোম্কানির প্রকৃত আর্থিক ও ব্যবসায়িক অবস্থার স্বচ্ছ তথ্য বাজারে নিশ্চিত করা। কারখানা কেন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ, উৎপাদন পুনরায় চালুর কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, কোম্কানির ঋণ ও দায়ের বর্তমান অবস্থা কী, লোকসান কাটিয়ে ওঠার কোনো বাস্তব পরিকল্পনা রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর বিনিয়োগকারীদের জানা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে সাম্ক্রতিক সময়ে শেয়ারদর বৃদ্ধির পেছনে কোনো অপ্রকাশিত বা মূল্যসংবেদনশীল তথ্য রয়েছে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক ও স্টক এক্সচেঞ্জের নজরে থাকা প্রয়োজন।
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা টিকিয়ে রাখতে তথ্যের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো কোম্কানির অভ্যন্তরীণ তথ্য যদি কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে আগে পৌঁছে যায় এবং তার ভিত্তিতে বাজারে লেনদেন হয়, তাহলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অসম অবস্থানে পড়ে যান। তাই তালিকাভুক্ত কোম্কানিগুলোর তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তুং হাই নিটিংয়ের শেয়ারদরে ২১ দিনে প্রায় ৮২ শতাংশ উত্থান এবং কোম্কানির পক্ষ থেকে ডিএসইর প্রশ্নের জবাব না দেওয়ার বিষয়টি বাজার নিয়ন্ত্রকদের আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কোম্কানির আর্থিক অবস্থা, উৎপাদন কার্যক্রম এবং শেয়ার লেনদেনের ধরন—সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা দরকার।
এ ক্ষেত্রে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। আবার যদি তদন্তে দেখা যায়, শেয়ারদরের উত্থানের পেছনে কোনো স্বাভাবিক বাজারগত কারণ রয়েছে, তাহলে সেটিও বিনিয়োগকারীদের সামনে স্কষ্ট করা যেতে পারে।
পুঁজিবাজারে কোনো শেয়ারের দর বাড়লেই সেটিকে বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বিশেষ করে যে কোম্কানির উৎপাদন বন্ধ, ধারাবাহিক লোকসান রয়েছে, এনএভিপিএস ঋণাত্মক এবং পুঞ্জীভূত লোকসান প্রায় ৭৬ কোটি টাকা—সেই কোম্কানির শেয়ারদর বৃদ্ধির বিষয়টি আরও সতর্কতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
তুং হাই নিটিংয়ের ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো—কোম্কানি দ্রুত তার অবস্থান পরিষ্কার করবে এবং ডিএসইর প্রশ্নের যথাযথ জবাব দেবে। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোও প্রয়োজনীয় নজরদারি ও যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করবে, শেয়ারদরের এই অস্বাভাবিক উত্থানের পেছনে প্রকৃত কারণ কী। কারণ স্বচ্ছ তথ্য ও জবাবদিহি ছাড়া একটি কার্যকর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখা কঠিন।