রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮:০২, ৩০ আগস্ট ২০২৬

বন্যা পুনর্বাসনে ১০ কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণা এইচএসবিসির

বন্যা পুনর্বাসনে ১০ কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণা এইচএসবিসির

ছবি সংগৃহীত

সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিভাগে ঘটে যাওয়া আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও টেকসই পুনরুদ্ধারে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে এইচএসবিসি বাংলাদেশ। ১০ কোটি টাকার এই বিশেষ মানবিক সহায়তার মাধ্যমে ব্যাংকটির মূল লক্ষ্য হলো বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি পুনর্নিমাণ, জীবিকা পুনরুদ্ধার, স্কুল মেরামত এবং নিরাপদ খাবার পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহে সৃষ্ট এই আকস্মিক বন্যা, পাহাড়ি ধ্বস ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রাম বিভাগের ১০টি জেলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; যার প্রভাব পড়েছে ১০.৪ লক্ষেরও বেশি মানুষের ওপর। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে হাজার হাজার বাড়িঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্যানিটেশন সুবিধা, পানির উৎস এবং ফসলি জমি বিনষ্ট হয়েছে, ফলে অনেক পরিবারই এখন জরুরি ও দীর্ঘমেয়াদী সহায়তার প্রত্যাশায় রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে এইচএসবিসি বাংলাদেশের অর্থায়নে ব্র্যাক সাত মাসব্যাপী একটি নিবিড় পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। এর মধ্যে রয়েছে ছয় মাসের মাঠপর্যায়ের কাজ এবং এক মাসের চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি। এই মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় মূলত ৩টি প্রধান ক্ষেত্রকে প্রাধান্য দেওয়া হবে:
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি এবং জীবিকা। বিশেষ করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড, চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলা এবং কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
এই পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসন উদ্যোগ উপলক্ষে গত ৩০ আগস্ট চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী এবং সংসদ জনাব আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমপি প্রধান অতিথি এবং পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক স্বরূপ কুমার চৌধুরী, কমিশনার, চট্টগ্রাম বিভাগ ড. মো: জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটি শোভা বর্ধন করেন। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, এইচএসবিসি বাংলাদেশ মো. মাহবুব উর রহমান এবং দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি ক্লাইমেট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইনোভেশন প্রোগ্রাম, ব্র্যাক মো: লিয়াকত আলী, পিএইচডি, অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
এই উদ্যোগের অধীনে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০টি স্কুল মেরামত ও সংস্কার করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি ২৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পুনর্নিমাণ, ৪০০টি ল্যাট্রিন মেরামত এবং স্থাপন এবং ৩০টি টিউবওয়েল সংস্কার করা হবে। এছাড়া ৩০০টি অসচ্ছল পরিবারকে জীবিকা পুনর্গঠনে সহায়তা দেওয়া হবে এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৬০০টি কৃষক পরিবারকে প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হবে।
এই প্রকল্পের সূচনা প্রসঙ্গে এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, “এইচএসবিসিতে আমাদের দায়িত্ব কেবল ব্যবসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং আমরা যে জনগোষ্ঠীর সাথে কাজ করি, ব্র্যাকের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে তাদের জীবনের মানোন্নয়নেও আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পরিবারগুলোকে ঘুরে দাঁড়াতে এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা গড়ে তুলতে আমরা তাদের বাসস্থান, জীবিকা ও জরুরি সেবাসমূহে বিনিয়োগ করছি।”