ঘাটতি পূরণে বাই-ইন বাজারে লেনদেন
মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের ৫০০ শেয়ার কিনবে ডিএসই
ছবি সংগৃহীত
পুঁজিবাজারে লেনদেন নিষ্পত্তির সময় শেয়ার সরবরাহের ঘাটতি পূরণ করতে মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের ৫০০ শেয়ার কিনবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এ জন্য ডিএসইর ‘বাই-ইন’ বাজারে শেয়ারগুলোর ক্রয়াদেশ নেওয়া হবে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ডিএসইর সংশ্লিষ্ট নোটিস অনুযায়ী, কোনো বিনিয়োগকারী বা শেয়ারধারীর কাছে মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের নির্ধারিত শেয়ার থাকলে এবং তিনি তা বিক্রি করতে আগ্রহী হলে, বিক্রয় আদেশ দেওয়ার আগে ডিএসইর লেনদেন নিষ্পত্তি বিভাগকে বিষয়টি জানাতে হবে। এরপর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বাই-ইন বাজারে শেয়ার বিক্রির সুযোগ পাওয়া যাবে।
পুঁজিবাজারে সাধারণভাবে কোনো শেয়ার কেনাবেচার লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিক্রেতার পক্ষ থেকে শেয়ার সরবরাহ করার কথা। কিন্তু কোনো কারণে বিক্রেতা সময়মতো বিক্রি করা শেয়ার সরবরাহ করতে না পারলে লেনদেন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শেয়ার সরবরাহের ঘাটতি থাকলে ক্রেতার কাছে শেয়ার হস্তান্তর এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেনের নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে লেনদেন নিষ্পত্তি নির্বিঘ্ন রাখতে ডিএসই ‘বাই-ইন’ বাজারের মাধ্যমে ঘাটতি থাকা শেয়ার সংগ্রহের ব্যবস্থা করে। এই প্রক্রিয়ায় বাজার থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শেয়ার কিনে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের নিষ্পত্তি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়ার আওতায় ৫০০ শেয়ার সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিএসইর নোটিশে বলা হয়েছে, মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের ৫০০ শেয়ার বিক্রি করতে ইচ্ছুক শেয়ারধারীদের বিক্রয় আদেশ দেওয়ার আগে ডিএসইর লেনদেন নিষ্পত্তি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। অর্থাৎ যেসব বিনিয়োগকারীর কাছে প্রয়োজনীয় শেয়ার রয়েছে এবং তারা সেগুলো বিক্রি করতে আগ্রহী, তাদের ডিএসইর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হবে।
বাই-ইন বাজারে লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিক্রয়কারী ব্রোকারকে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী শেয়ারগুলো ডিএসইর লেনদেন নিষ্পত্তি হিসাবে স্থানান্তর করতে হবে। এ জন্য দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে শেয়ার স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেয়ার স্থানান্তর নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্রোকারদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে ডিএসইর নির্ধারিত লেনদেন নিষ্পত্তি হিসাবে শেয়ার স্থানান্তরের জন্য একটি নির্দিষ্ট হিসাব নম্বরও দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিক্রয়কারী ব্রোকারদের ওই হিসাব নম্বরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেয়ার স্থানান্তর করতে হবে। শেয়ার স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট লেনদেনের নিষ্পত্তি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
পুঁজিবাজারে ‘বাই-ইন’ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে কোনো বিক্রেতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিক্রি করা শেয়ার সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে প্রয়োজনীয় শেয়ার বাজার থেকে সংগ্রহ করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো শেয়ার সরবরাহের ঘাটতির কারণে কোনো লেনদেনের নিষ্পত্তি দীর্ঘায়িত হওয়া বা আটকে যাওয়ার ঝুঁকি কমানো।
সাধারণ লেনদেনের ক্ষেত্রে একজন বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করার পর সংশ্লিষ্ট শেয়ার নির্ধারিত নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্রেতার হিসাবে হস্তান্তর হওয়ার কথা। কিন্তু বিক্রেতার হিসাবে প্রয়োজনীয় শেয়ার না থাকলে কিংবা অন্য কোনো কারণে শেয়ার সরবরাহ করা সম্ভব না হলে লেনদেন নিষ্পত্তিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তখন ঘাটতি পূরণে বাই-ইন বাজার ব্যবহার করা হয়।
এই প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় শেয়ার বাজার থেকে সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের নিষ্পত্তি সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হয়। ফলে শেয়ার সরবরাহের ঘাটতির কারণে লেনদেন নিষ্পত্তি আটকে থাকার সম্ভাবনা কমে এবং বাজারের লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থা সচল থাকে।
মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের ক্ষেত্রে ৫০০ শেয়ারের সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হওয়ায় ডিএসই বাই-ইন বাজারের মাধ্যমে শেয়ারগুলো সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। নির্ধারিত সংখ্যক শেয়ার বাজার থেকে সংগ্রহ করা সম্ভব হলে সংশ্লিষ্ট লেনদেনের নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে।
ডিএসইর এই উদ্যোগ মূলত লেনদেন নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক রাখার অংশ। কোনো একটি লেনদেনে বিক্রেতার পক্ষ থেকে শেয়ার সরবরাহের ঘাটতি থাকলেও যাতে পুরো নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া আটকে না থাকে, সে জন্যই বাই-ইন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় শেয়ার সংগ্রহ করা হয়।
এদিকে, মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের শেয়ার যেসব বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে এবং যারা নির্ধারিত ৫০০ শেয়ারের পুরো বা আংশিক অংশ বিক্রি করতে আগ্রহী, তাদের ডিএসইর লেনদেন নিষ্পত্তি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারদেরও শেয়ার স্থানান্তরের সময়সীমা মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বাই-ইন লেনদেন সম্পন্ন এবং শেয়ার ডিএসইর লেনদেন নিষ্পত্তি হিসাবে স্থানান্তর করা হলে মেঘনা কনডেন্সড মিল্কের সংশ্লিষ্ট লেনদেনের শেয়ার সরবরাহের ঘাটতি পূরণ হবে। এর মাধ্যমে আটকে থাকা নিষ্পত্তি কার্যক্রমও সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
পুঁজিবাজারে লেনদেনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে শেয়ার ও অর্থের নির্ধারিত সময়ে হস্তান্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো পর্যায়ে শেয়ার সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধান করা না হলে সংশ্লিষ্ট ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের লেনদেন নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাই-ইন বাজার ডিএসইর একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে।