সালমান শাহ হত্যা মামলা: ৩০ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা নতুন করে আগামী ৩০ আগস্ট প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেন। পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে চিত্রনায়ক সালমান শাহকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে হত্যা করা হয়েছে।
সালমান শাহর মৃত্যুর পর প্রথমে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যু মামলা করেন। পরে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন তিনি। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করে সিআইডি ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানায়, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন।
সিআইডির ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে সালমান শাহর বাবা রিভিশন মামলা করেন। পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠানো হয়। দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। ওই প্রতিবেদনেও হত্যার অভিযোগ নাকচ করা হয়।
এরপর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেন। তিনি ১১ জনের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে ছেলেকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন।
পরবর্তীতে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় র্যাব। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তির পর ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ র্যাবকে তদন্ত থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। এরপর তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
চার বছর তদন্তের পর ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিবিআই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার সময় উপস্থিত ও সংশ্লিষ্ট ৫৪ জনের জবানবন্দি এবং জব্দ করা আলামত পর্যালোচনা করে সালমান শাহকে হত্যার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে পারিবারিক কলহ এবং স্ত্রী সামিরা হকের কারণে মা নীলা চৌধুরীকে ছেড়ে থাকার মানসিক যন্ত্রণায় সালমান শাহ আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
তবে পিবিআইয়ের প্রতিবেদনেও সন্তুষ্ট হননি সালমান শাহর মা। ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তিনি আরও তদন্তের দাবি জানান। ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আসামিদের অব্যাহতি দেন।
এরপর সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করা হয়। ২০২২ সালের ১২ জুন ওই আবেদন গ্রহণ করা হলেও বিভিন্ন কারণে এতদিন এর শুনানি হয়নি।
পরবর্তীতে গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় তার মায়ের করা রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিনের অভিযোগ এবং ঘটনায় জড়িত রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি সংযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে রমনা মডেল থানা পুলিশকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।
এ মামলায় এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাদী মোহাম্মদ আলমগীর।