অবসর সুবিধার টাকা পেতে শিক্ষক-কর্মচারীদের তথ্য ঠিক করার নির্দেশ
ছবি সংগৃহীত
দীর্ঘ চার-পাঁচ বছর পর বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী তাদের অবসর সুবিধার জমানো টাকার একটি অংশ পেয়েছেন। এর মধ্যে গত জুলাই পর্যন্ত অবসর সুবিধার জন্য আবেদন করেও যেসব শিক্ষক-কর্মচারী এখনো টাকা পাননি, তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর জন্য অনুরোধ করেছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড।
সমপ্রতি অবসর সুবিধা বোর্ডের পরিচালক ড. এসএম আলমগীর কবীর স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত জমা হওয়া আবেদনগুলোর মধ্যে যেসব শিক্ষক-কর্মচারী এখনো অবসর সুবিধা পাননি, তাদের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বোর্ডে পাঠাতে হবে।
নোটিশ অনুযায়ী, আবেদনকারী শিক্ষক-কর্মচারীর সচল ও হালনাগাদ ব্যাংক হিসাবের স্টেটমেন্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কপি এবং তার নিজের এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিতে হবে। একই সঙ্গে আবেদনের ইনডেক্স নম্বর, আবেদন আইডি নম্বর ও আবেদন জমা দেওয়ার তারিখ উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।
মৃত্যুজনিত আবেদনের ক্ষেত্রে অনলাইন মৃত্যু সনদ, ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ক্ষমতা হস্তান্তরপত্র ও ওয়ারিশ সনদ জমা দিতে হবে। এ ছাড়া নমিনির সচল ও হালনাগাদ ব্যাংক হিসাবের স্টেটমেন্ট, নমিনির এনআইডি এবং তার নিজের এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরও দিতে হবে।
বোর্ডের নোটিশে শিক্ষক-কর্মচারীদের শাখাভিত্তিক কাগজপত্র জমা দেওয়ার কক্ষের তথ্যও দেওয়া হয়েছে। স্কুলের জন্য ১৪১৫ ও ১৪২১ নম্বকক্ষ, কলেজ ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের জন্য ১৪১৬ ও ১৪২১ নম্বর কক্ষ এবং মাদরাসার জন্য ১৪১৩ ও ১৪২১ নম্বর কক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে।
অবসর সুবিধা পেতে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করার জন্যও সতর্ক করেছে বোর্ড। নোটিশে দালাল, প্রতারক ও মধ্যস্বত্বভোগীদের খপ্পরে না পড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট থেকেও যারা এখনো প্রাপ্য অর্থ বা কল্যাণ সুবিধার টাকা পাননি, তাদের তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ট্রাস্ট জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের মোবাইল নম্বরে ইতোমধ্যে এ বিষয়ে এসএমএস পাঠানো হয়েছে।
এসএমএস পাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে সংশোধন সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য সংশোধন না করলে আবেদনের নিষ্পত্তি বিলম্বিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কল্যাণ ট্রাস্ট। প্রয়োজনে ট্রাস্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা সরাসরি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মূলত, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের অবসরকালীন সুবিধার জন্য দুটি পৃথক তহবিল রয়েছে। এর একটি ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং অন্যটি ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’। এর আগে গত ১৫ আগস্ট রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ৭০ হাজার ১১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর প্রাপ্য অর্থ তাদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।