সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

রামিসা রহমান 

প্রকাশ: ২৩:২৯, ১২ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২৩:৪৮, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বিনিয়োগকারীদের ১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

সালতা ক্যাপিটালের পর্ষদ ও কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা

সালতা ক্যাপিটালের পর্ষদ ও কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা

শেয়ার বিজ

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের শতকোটি টাকার বেশি মূল্যের শেয়ার ও নগদ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আলোচিত ব্রোকারেজ হাউস সালতা ক্যাপিটালের পরিচালনা পর্ষদ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক (অর্থ), জেনারেল ম্যানেজারসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় ১৪ হাজার গ্রাহকের বিও হিসাবে থাকা শেয়ার গোপনে বিক্রি এবং গ্রাহকদের অর্থ অন্য হিসাবে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ। সব মিলিয়ে আত্মসাতের অভিযোগের পরিমাণ ১০০ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতের ১২ নম্বর আদালতে মামলাটি করা হয়। মামলার নম্বর ১৭১২/২০২৬। তবে মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের সম্কদ সুরক্ষা এবং ব্রোকারেজ হাউসগুলোর কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ঘটনাটি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ, বিনিয়োগকারীরা ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে শেয়ার কেনাবেচা করেন এবং তাদের নগদ অর্থ ও শেয়ারের নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করেন। সেই ব্যবস্থার ভেতরেই যদি গ্রাহকের অজান্তে শেয়ার বিক্রি ও অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ ওঠে, তাহলে তা বাজারের সামগ্রিক আস্থা এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
তবে মামলার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। আদালতে অভিযোগের বিচার এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই দায় নির্ধারিত হবে।
২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর সালতা ক্যাপিটালের বিরুদ্ধে অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে। ওই দিন আকস্মিক পরিদর্শনে প্রতিষ্ঠানটির কনসোলিডেটেড কাস্টমার্স অ্যাকাউন্টে (সিসিএ) ২৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকার ঘাটতি শনাক্ত করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। গ্রাহকদের অর্থ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহূত এই হিসাবে ঘাটতি পাওয়ার পর বিষয়টি বিএসইসিকে জানানো হয়। এরপর ২৬ নভেম্বর ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে কমিশন। তদন্ত শেষে চলতি বছরের ২১ মে প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি। বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. ইকবাল হোসেন ওই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বিনিয়োগকারীদের ১০০ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও নগদ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠে আসে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগের অর্থের মধ্যে রয়েছে গ্রাহকদের বিও হিসাবে থাকা শেয়ার বিক্রি করে পাওয়া ৭২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা এবং সিসিএ থেকে অন্য হিসাবে সরিয়ে নেওয়া ২৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। দুই অঙ্ক যোগ করলে মোট অভিযোগের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০০ কোটি ৫২ লাখ টাকা। ফলে বিষয়টি শুধু একটি হিসাবে অর্থের ঘাটতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং গ্রাহকদের শেয়ার বিক্রি, বিক্রির অর্থ তুলে নেওয়া এবং গ্রাহক-তথ্য পরিবর্তনের মতো একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে।
সালতা ক্যাপিটালের বিরুদ্ধে অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর দিক হলো, প্রায় ১৪ হাজার গ্রাহকের বিও হিসাবে থাকা শেয়ার তাদের অজান্তে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ। সূত্রের দাবি, গ্রাহকদের হিসাবে থাকা ৪ কোটি ৩২ লাখ ১৬ হাজার ৬৪৩টি শেয়ার গোপনে বিক্রি করা হয়। এসব শেয়ারের বাজারমূল্য ছিল ৭২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, শেয়ার বিক্রির পর সংশ্লিষ্ট অর্থ তুলে নেওয়া হয়। তবে কোন গ্রাহকের কত শেয়ার বিক্রি হয়েছে, বিক্রির অর্থ কোন কোনহিসাবে গেছে এবং এর কতটা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার সংরক্ষণের জন্য বেনিফিশিয়ারি ওনার্স বা বিও হিসাব ব্যবহূত হয়। বিনিয়োগকারীর নামে নিবন্ধিত এই হিসাবের মাধ্যমে শেয়ারের মালিকানা ও লেনদেনের তথ্য সংরক্ষিত থাকে। ফলে কোনো বিনিয়োগকারীর অজান্তে তার হিসাবে থাকা শেয়ার বিক্রি হয়ে গেলে তা শুধু আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়, বরং মালিকানা ও হিসাবের নিরাপত্তা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। প্রায় ১৪ হাজার গ্রাহকের শেয়ার নিয়ে এমন অভিযোগের অর্থ হলো, ক্ষতির সম্ভাব্য প্রভাব বহু বিনিয়োগকারীর ওপর পড়তে পারে। তবে সব গ্রাহকের ক্ষতির পরিমাণ সমান নয়। কারও হিসাবে থাকা শেয়ারের সংখ্যা, বিক্রির সময়কার বাজারমূল্য এবং সংশ্লিষ্ট অর্থের অবস্থান অনুযায়ী ক্ষতির পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।
এ কারণে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে গ্রাহকভিত্তিক তথ্য যাচাই, বিক্রি হওয়া শেয়ারের তালিকা, লেনদেনের সময় ও মূল্য এবং অর্থ স্থানান্তরের রেকর্ড গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে বিক্রি হওয়া শেয়ারের অর্থ কোথায় গেছে, তা শনাক্ত করা এবং অর্থ উদ্ধারের সম্ভাবনা যাচাই করাও জরুরি। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
সালতা ক্যাপিটালের বিরুদ্ধে আরেকটি বড় অভিযোগ হলো, প্রতিষ্ঠানের কনসোলিডেটেড কাস্টমার্স অ্যাকাউন্ট থেকে ২৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা অন্য হিসাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ডিএসইর আকস্মিক পরিদর্শনে এই পরিমাণ অর্থের ঘাটতি শনাক্ত হওয়ার পরই বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরে আসে। ব্রোকারেজ হাউসের সিসিএ গ্রাহকদের অর্থ সংরক্ষণের সঙ্গে সম্কর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ হিসাব। এই হিসাবে ঘাটতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের অর্থ যথাযথভাবে সংরক্ষিত ছিল কি না, কোনো অর্থ অনুমোদন ছাড়া স্থানান্তর করা হয়েছে কি না এবং হিসাবের সঙ্গে প্রকৃত অর্থের সামঞ্জস্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

সালতা ক্যাপিটালের ক্ষেত্রে তদন্তে উঠে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রাহকদের শেয়ার বিক্রির অর্থ এবং সিসিএ থেকে সরিয়ে নেওয়া অর্থ মিলিয়ে মোট ১০০ কোটি ৫২ লাখ টাকার অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গ্রাহকদের সম্কদ কীভাবে সংশ্লিষ্ট হিসাব থেকে বেরিয়ে গেল এবং অর্থের চূড়ান্ত গন্তব্য কোথায়। এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ধারণে ব্যাংক হিসাবের বিবরণী, শেয়ার লেনদেনের রেকর্ড, গ্রাহকদের বিও হিসাবের তথ্য এবং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ হিসাবপত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে অর্থ স্থানান্তরের নির্দেশ কে দিয়েছেন, লেনদেন অনুমোদনের দায়িত্বে কারা ছিলেন এবং তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকা কী ছিল, তা যাচাই করাও প্রয়োজন।
সূত্রের দাবি, ২০২৫ সালের শুরু থেকেই গ্রাহকদের শেয়ার বিক্রি এবং নগদ অর্থ সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ডিএসইর পরিদর্শন ও পরবর্তী তদন্তের মাধ্যমে। অর্থাৎ অভিযোগ অনুযায়ী, অনিয়মের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর তা শনাক্ত হতে কয়েক মাস সময় লেগেছে। এ সময়ের মধ্যে গ্রাহকদের হিসাব ও লেনদেন পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ব্যবস্থাগুলো কেন অনিয়ম শনাক্ত করতে পারেনি, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে গ্রাহকদের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর পরিবর্তন, লেনদেনের বার্তা না পাওয়া এবং ভুয়া হিসাব বিবরণী পাঠানোর অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা নজরদারি ব্যবস্থার দুর্বলতার বিষয়টি সামনে আনবে।
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় শুধু নিয়মনীতি থাকা যথেষ্ট নয়; নিয়মিত তদারকি, প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ এবং অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি। সালতা ক্যাপিটালের ঘটনায় অনিয়ম শনাক্ত হওয়ার আগে কী ধরনের সতর্কসংকেত ছিল এবং সেগুলো যথাসময়ে চিহ্নিত করা সম্ভব ছিল কি না, তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরবর্তী কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সালতা ক্যাপিটালের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর প্রতিষ্ঠানটির নবায়ন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় বিএসইসি। পরে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতিষ্ঠানটির লেনদেন ও ডিপি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ডিপি বা ডিপোজিটরি পার্টিসিপেন্ট কার্যক্রমের সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ও শেয়ার সংরক্ষণের বিষয়টি যুক্ত। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠানের ডিপি কার্যক্রম বন্ধ হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের হিসাব, শেয়ার স্থানান্তর এবং অন্যান্য সেবা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বিকল্প ব্যবস্থা, হিসাবের তথ্য যাচাই এবং শেয়ারের প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
সালতা ক্যাপিটালের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ও নগদ অর্থের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যেসব শেয়ার বিক্রি হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর বর্তমান অবস্থান কী এবং সংশ্লিষ্ট অর্থের কতটা উদ্ধার করা সম্ভব, এসব তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারণ করা যেতে পারে। কার্যক্রম বন্ধ করা অনিয়মের বিস্তার ঠেকানোর একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ হতে পারে। তবে এতে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের অর্থ বা শেয়ার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত আসে না। সে কারণে অর্থ উদ্ধার, দায় নির্ধারণ এবং ক্ষতিপূরণ কার্যকর করার বিষয়গুলো আলাদাভাবে গুরুত্ব পাবে।
বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ব্যাংক ও বিও হিসাব অবরুদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ পিএলসিকে অভিযুক্তদের বিও হিসাব অবরুদ্ধ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডিএসই ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও আদায়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককেও অনুরোধ জানানো হয়েছে। আত্মসাৎ হওয়া অর্থের পরিমাণ চিহ্নিত করে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ ও ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছে কমিশন।
তবে হিসাব অবরুদ্ধের উদ্যোগ নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত পাওয়া এক বিষয় নয়। অর্থ উদ্ধার করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব, শেয়ার বিক্রির অর্থের প্রবাহ এবং অন্যান্য সম্কদের অবস্থান শনাক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের তালিকা যাচাই করে কার কত অর্থ বা শেয়ারের ক্ষতি হয়েছে, তা নির্ধারণ করতে হবে। এসব প্রক্রিয়ার অগ্রগতি বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
এ ঘটনায় অনুমোদনহীন ডুপ্লিকেট ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার ব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ পিএলসিতে গ্রাহকদের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে নিজেদের নম্বর যুক্ত করা হয়েছিল। ফলে প্রকৃত বিনিয়োগকারীরা তাদের লেনদেনের বার্তা পেতেন না। তাদের কাছে ভুয়া হিসাব বিবরণী পাঠানো হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ সুযোগে গ্রাহকদের শেয়ার বিক্রি ও নগদ অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
গ্রাহকদের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করা হয়ে থাকলে তা লেনদেন-সংক্রান্ত সতর্কবার্তা ও হিসাব যাচাইয়ের কার্যকারিতাকে দুর্বল করতে পারে। কারণ, বিনিয়োগকারীরা সাধারণত তাদের নিবন্ধিত যোগাযোগমাধ্যমে লেনদেনের তথ্য পেয়ে থাকেন। সেই তথ্য তাদের কাছে না পৌঁছালে হিসাবের অস্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। আবার ভুয়া হিসাব বিবরণী পাঠানোর অভিযোগ সত্য হলে বিনিয়োগকারীরা তাদের প্রকৃত শেয়ার ও অর্থের অবস্থা সম্কর্কেও বিভ্রান্ত হতে পারেন।
এ ধরনের অনিয়ম শনাক্ত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। ডিএসই ইন্টিগ্রেটেড মনিটরিং প্ল্যাটফর্ম (ডিএসই-আইএমওএন) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো বাজারের লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানো এবং অস্বাভাবিক কার্যক্রম শনাক্তে সহায়তা করা। তবে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা চালু করার পাশাপাশি তথ্যের যথার্থতা, দ্রুত সতর্কসংকেত তৈরি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি এবং শনাক্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি।

এ ঘটনায় সালতা ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সাঈদ মো. শহীদুল্লাহ এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
সালতা ক্যাপিটালের বিরুদ্ধে মামলার মধ্য দিয়ে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ও অর্থের নিরাপত্তা, ব্রোকারেজ হাউসের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া এবং অর্থের প্রকৃত গন্তব্য শনাক্ত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করাও এখন গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ১৪ হাজার গ্রাহকের শেয়ার ও নগদ অর্থ নিয়ে ওঠা অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ নিষ্কত্তি নির্ভর করবে তদন্তের তথ্য, আইনি প্রক্রিয়া এবং অর্থ উদ্ধারের অগ্রগতির ওপর।