‘২০০টি ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ’
প্রকল্পে ১ হাজার ১১৯ কোটি টাকা লুটপাটের পরিকল্পনা
ছবি সংগৃহীত
বাংলাদেশ রেলওয়ের সেবার মান বাড়াতে নেওয়া ‘২০০টি ব্রডগেজ (বিজি) প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ’ প্রকল্পে চরম ধীরগতি ও কেনাকাটায় হরিলুট করার পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের ডিপিপিতে কেনাকানার জন্য যে বাজেট বরাদ্দ ধরা হয়েছে। এবং যে সকল তথ্য প্রমাণ সেগুলোর ভিত্তিতে বলা যায় এই প্রকল্পে অতিরিক্ত ১ হাজার ১১৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা বেশি বরাদ্দ ধরা হয়েছে। প্রকল্পের ডিপিপির যে নথি সেটার স্বাভাবিক ব্যয় হিসাবের চেয়ে শতগুণ বেশি। এটি এখন পর্যন্ত কোনো চুরি নয়; বরং এমন একটি সুযোগ তৈরি করা যেখানে রেলের বিশাল অংকের অর্থ আত্মসাৎ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন রেলের বিশেষজ্ঞরা।
প্রকল্পের মেয়াদ অর্ধেকের বেশি পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত একটিও ব্রডগেজ যাত্রীবাহী বগি দেশে আসেনি। তবে প্রকল্পে কমিশনিং, ডিপ্রসেসিং, টেস্টিং ও ট্রায়াল রান, মূলধনী ও রক্ষণাবেক্ষণের যন্ত্রাংশ, টুলস ও প্ল্যান্ট, ড্রয়িং, যন্ত্রাংশের ক্যাটালগ, বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, ফ্যাক্টরি পরিদর্শন, প্রোটোটাইপ পরিদর্শন, সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার ইত্যাদিখাতে অতিরিক্ত খরচ দেখানো হয়েছে যা অর্থ আত্মসাতের শামিল বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
প্রকল্পের ডিপিপিতে দেখা যায়, ব্যাংক-চার্জের খাতটি একেবারেই অরক্ষিত: এর কোনো দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। কোনো দরপত্রই এই সংস্থানটিকে প্রকাশ্যে আনেনি। এছাড়া পরিদর্শন করার মতো কোনো সম্পদ নেই। তাছাড়া ঋণদাতার নিয়ন্ত্রণের বাইরে স্থানীয় মুদ্রায় এর অর্থ পরিশোধ করা হয়। প্রধান যন্ত্রপাতির চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার আগেই প্রথম দুই বছরে ৭০% (৮২৯.১২ কোটি টাকা) ছাড় দেওয়া উল্লেখ করা হয়েছে। এবং কোনো কিছুর সঙ্গেই এর সমন্বয় বা হিসাব মেলানো হয়নি।
ওই প্রকল্পে ছয়টি প্রমাণের মানদণ্ড তুলে ধরা হয়েছে, যা অনিয়ম থেকে অপরাধের পর্যায়ে নিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করছেন রেলের বিশেষজ্ঞরা।
প্রকল্পের নথিতে দেখা যায়, গত ২৪.০৬.২০২৬ তারিখের সিপিএলও পর্যালোচনা যাচাই একই রকম। এবং ব্যয় দেখানোর জন্য যেসব বিভাগ করা হয়েছে সবগুলোই একই ধরনের খরচ দেখানো হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আর্থিক বিশেষজ্ঞ শেয়ার বিজকে জানান, কোনো কাজের সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ ছাড়াই একজনের ৪৮ মাসের সম্মানি বিল করা হয়েছে ৭.২৫ কোটি টাকা। এবং অন্যান্য সব পরামর্শকের সেলে একই ফর্মুলা ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে এর সেলগুলো হার্ডকোডেড। ক্রেন এবং লেদ পরামর্শক ফি দশমিকের পর ছয় ঘর পর্যন্ত হুবহু এক। পরামর্শকের রেটগুলো একটি ট্র্যাক-নির্মাণের চুক্তি থেকে তুলে আনা হয়েছে। এবং ১৩৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি চতুর্থ রিলিফ ক্রেন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা পার্ট-এ এর মধ্যে পড়ে না। তিনি আরও জানান, এছাড়া স্প্রেডশিটে ২২১টি লাইভ এরর রয়েছে , যার মধ্যে ক্রয় পরিকল্পনার মোট হিসাব এবং তিনটি প্রধান প্যাকেজের খরচ অন্তর্ভুক্ত, যা পিপিআর ২০০৮-এর বিধির ১৬(৮) অধীনে ফাঁকা রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের এক নথিতে দেখা যায়, পাহাড়তলী ক্যারেজ অ্যান্ড ওয়াগন ওয়ার্কশপ, ফারতলী, চট্টগ্রাম এবং পাহাড়তলী, পার্বতীপুর, সৈয়দপুর ও ঈশ্বরদীতে কমিশনিং এবং ডি-প্রসেসিং-এর জন্য ৪ লাখ ৯০ হাজার ১৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এছাড়া বগি আসার আগেই প্রকল্প কার্যালয়ের জন্য কম্পিউটার, ফার্নিচার ও লেজার প্রিন্টার ইত্যাদি আসবাবপত্র কেনার নামে ৩৫ লাখ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের মূল মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ জুলাই ২০২২ হতে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত। আরামদায়ক ও নিরাপদ যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (ইআইবি) অর্থায়নে ১ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। তবে প্রকল্প অনুমোদনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। যেখানে ২০২৭ সালের জুনে প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা, সেখানে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণের পর ২০২৪ সালের মে মাসে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান আরআইটিইএস লিমিটেডের সঙ্গে কোচ সরবরাহের চুক্তি সই করে রেলওয়ে। চুক্তির পর দীর্ঘ সময় গড়ালেও সাধারণ যাত্রীরা এর কোনো সুফল পাননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায় রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ২০০টি মিটার গেজ যাত্রীবাহী বগি সংগ্রহ, কমিশনিং, ডিপ্রসেসিং, টেস্টিং ও ট্রায়াল রান, মূলধনী ও রক্ষণাবেক্ষণের যন্ত্রাংশ, টুলস ও প্ল্যান্ট, ড্রয়িং, যন্ত্রাংশের ক্যাটালগ, বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, ফ্যাক্টরি পরিদর্শন, প্রোটোটাইপ পরিদর্শন, সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার ইত্যাদি খরচ দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩০৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।
উক্ত প্রকল্পে নথিতে আরও দেখা যায়, বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন নির্মাণ এবং ২টি ডুয়াল গেজ ও ২টি ব্রড গেজসহ ৪টি আন্ডার ফ্লোর হুইল লেদ মেশিনের বিদ্যুতায়ন খরচ বাবদ দেখানো হয়েছে ৬০০ কোটি টাকা। এবং এমজি প্যাসেঞ্জার ক্যারেজের ড্রয়িং ও ডিজাইন যাচাইকরণ, প্রোটোটাইপ চূড়ান্তকরণ, অনাপত্তি সনদ প্রদান, উৎপাদন তত্ত্বাবধান, কমিশনিং এবং পরীক্ষা ও ট্রায়াল রানের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে ২ হাজার ১৪ কোটি ২২ লাখ টাকা।
এছাড়া ড্রয়িং ও ডিজাইন যাচাইকরণ, প্রোটোটাইপ চূড়ান্তকরণ, অনাপত্তি সনদ প্রদান, উৎপাদন তত্ত্বাবধান, কমিশনিং এবং ডিজি ও বিজি রিলিফ ক্রেনের পরীক্ষা ও ট্রায়াল রানের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ বাবদ খরচ দেখানো হয়েছে ৯ শত ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। এরসঙ্গে একটি চার চাকার জিপ, একটি মাইক্রোবাস এবং একটি সেডান গাড়ি ভাড়া (চুক্তিভিত্তিক) আয়কর এবং ভ্যাট সহ খরচ দেখানো হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা ।
সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে আরও দেখা গেছে, প্রকল্প কার্যালয়ের জন্য কম্পিউটার, আধুনিক ফার্নিচার, লেজার প্রিন্টারসহ বিভিন্ন অফিস সরঞ্জামাদি কেনার পেছনেই খরচ করে ফেলা হয়েছে ৩৫ লাখ টাকা। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের এই ‘আসবাবপত্র বিলাস’ নিয়ে সাধারণ মানুষ এবং রেল বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রেলের একাধিক কর্মকর্তা শেয়ার বিজকে জানান, ভারতের পাঞ্জাবের রেল কোচ ফ্যাক্টরি কাপুরথালা থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য তৈরি ১৯টি আধুনিক এলএইচবি ব্রডগেজ কোচের প্রথম বড় চালানটি এ মাসে (আগস্ট ২০২৬) এ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এটি ২০২৪ সালে স্বাক্ষরিত ২০০টি আধুনিক কোচ আমদানির চুক্তির প্রথম চালান। যদিও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ক্র্যাশ-ওয়ার্দি বা দুর্ঘটনা রোধক প্রযুক্তিসম্পন্ন। অতিরিক্ত ভিড়ের সময় ছাদের ওপর যাত্রীদের চাপের কথা মাথায় রেখে ছাদের কাঠামো অতিরিক্ত মজবুত করা হয়েছে।
রেল বিশেষজ্ঞরা জানান, একটা প্রকল্পে কেনাকাটায় এভাবে হরিলুট হতে থাকলে রেল কখনো আলোর মুখ দেখবে না। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য যেখানে রেলের জন্য দ্রুত ক্যারেজ বা কোচ এনে যাত্রী সংকট দূর করা, সেখানে প্রকল্প কর্মকর্তাদের মনোযোগ এখন বিলাসী কেনাকাটায়।
এদিকে ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০০ ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ’ প্রকল্প পরিচালক মো. জয়দুল ইসলামকে ফোন করে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত ব্যয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শনিবার আমি ব্যক্তিগত কাজে বাইরে আছি। এবং আমি কোন তথ্য দিতে আগ্রহী নই । কারণ হিসেবে তিনি বল্নে, তিনি তথ্য দিতে দায়িত্বশীল কেউ নন।
ওই প্রকল্পের অতিরিক্ত ব্যয় এবং হরিলুট ও বিশাল অংকের টাকা লুটপাটের অভিযোগ সম্বন্ধে জানতে চেয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল হককে জিজ্ঞেস করলে তিনি শেয়ার বিজকে জানান, কোন প্রকল্পের এই ধরনের হরিলুট কিংবা অর্থ লোপাটের অভিযোগ আসলে সেটার বিরুদ্ধে দ্রত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। কারণ এমন সব প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয় দেখানো হলে সরকারের যেসব প্রতিষ্ঠান এসবের বিরুদ্ধে গিয়ে জবাবদিহিতার মধ্যে আনেন সেসব প্রতিষ্ঠানের উচিত তদন্ত করা।
অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, রেল যদি প্রথমেরি নিজে সুশাসনের আওতায় আসতে চায় তাহলে রেলের যিনি সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছেন অর্থাৎ রেলের ডিজি , উনি নিজেই এটা উদ্যোগ নিতে পারেন। এ রকম অস্বাভাবিক ব্যয় ও লুটপাটের তথ্য উঠে আসলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রকিউরমিন্টে যত বড় বড় দুর্নীতি হয়েছে , সেই দুর্নীতি হজম করার জন্য সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে যারা যারা জড়িত সবাইকে বিদেশে পারিবারিকভাবে ট্যুর দিয়ে নিয়ে এসেছিল। যদি দেখা যায় , স্বয়ং মন্ত্রণালয় অনুসন্ধান করতে পারেনি তখন সংসদীয় কমিটির যিনি আছেন তিনি করেন,। তবে বর্তমান সরকার কেন পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডিং কমিটি একটিভেট করেনি! কারণ জনগণের দারা নির্বাচিত প্রতিনিধিদেরকে জনগণ জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পারেন। কিন্তু রেলের ডিজিকে আনতে পারেন না। কারণ তারা এ পর্যন্ত আসতে পারেন না। কিন্তু এলাকার লোক তার প্রতিনিধিকে গিয়ে বলতে পারে কেন এটা হচ্ছে? কেন—ওর জবাব চায় । বিরোধী দল বলতে পারে। তখনই এই পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডিং কমিটির সামনে হিয়ারিং হয়।
তিনি আরও বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা উচিৎ সরকারের। প্রতিষ্ঠান হিসেবে রেল অনেক বদনামের ভাগিদার। রেলের দুর্নীতি ও যাত্রীসেবা এবং অনিরাপদ ভ্রমণ অনেক প্রশ্ন আছে। রেলকে বিশ্বের অন্যান্য দেশে বলা হয় নিরাপদ বাহন ,পরিবেশবান্ধব এবং নিরাপদ যাত্রা। অথচ আমাদের দেশে এতো উন্নয়নের পরেও রেল না পারছে শিডিউল মেনে চলতে , না পারছে প্রয়োজনীয় লোকোমোটিভের সরবরাহ দিতে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও। দিনে দিনের সরকারের আর্থিক ক্ষতির একটা প্রতিষ্ঠান হিসেবেই দাঁড়িয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রেলের নিজের ভাবমূর্তির জন্য নিজে থেকে উদ্যোগ নিয়ে অভ্যান্তরীণ তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া। জবাবদিহিতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে না পারলে এভাবেই হাজার কোটি টাকা লুটপাট হতেই থাকবে। জনগণের পয়সা এত অবহেলার মধ্যে নিয়ে যাবে তাহলে ভবিষতে আরও বড় মাপের এই ধরনের লুটপাট হবে। বর্তমান সরকারকে এই বিষয়ে গভীরভাবে কাজ করতে হবে। রেলের কর্মকর্তারা বিগদ দিনে ডেমু কিনেছে, সেটা অচল পড়ে আছে। তারা দেখছে এসব করেও পার পেয়ে গেছেন। কারো কিছু হয়নি। এভাবে অন্যায় কাজকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। কারো কিছু হয়নি এটা প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে রেল যতই বিনিয়োগ করুক সামনের দিকে যেতে পারবে না, পেছনেই থেকে যাবে। দিনশেষে সাধারণ মানুষ ভোগান্তি পোহাবে। সরকারের অনেক বড় দায়িত্ব আছে। রেল অনেকদিন ধরে জবাবদিহিতার আওতায় নাই।
এদিকে প্রকল্পে কেন কেনাকাটার নামে বিপুল টাকা এভাবে অপচয় করা হলো? পুরো বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।