বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

​​​​​​​নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১:৪২, ২৮ আগস্ট ২০২৬

পার্টস আমদানির আড়ালে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি তৈরি, সুপ্রা-সিভিকসহ ৩ গাড়ি জব্দ

পার্টস আমদানির আড়ালে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি তৈরি, সুপ্রা-সিভিকসহ ৩ গাড়ি জব্দ

ছবি সংগৃহীত

যন্ত্রাংশ আমদানির ঘোষণা দিয়ে দেশে এনে স্থানীয়ভাবে জোড়া লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ গাড়িতে রূপান্তরের অভিযোগে কক্সবাজারে তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়। জব্দ করা গাড়িগুলো হলো—টয়োটা সুপ্রা, হোন্ডা সিভিক ও মাজদা এমএক্স-৫।

গতকাল শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ তথ্য জানায়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কক্সবাজারের কলাতলী রোডের ওশান প্যারাডাইস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট এলাকায় অভিযান চালায় সিআইআইডির চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের একটি দল। এ সময় যন্ত্রাংশ হিসেবে আমদানি করে স্থানীয়ভাবে সংযোজন বা জোড়া লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ গাড়িতে রূপান্তর করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা তিনটি গাড়ি শনাক্ত করা হয়। পরে কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৯১ অনুযায়ী গাড়িগুলো জব্দ করা হয়।

অভিযানে গাড়িগুলোর প্রচলিত নম্বর প্লেটের পরিবর্তে ‘ঝওঘঐ৪’, ‘ঝ৪ঋওঅঞ’ ও ‘ঊঝঐ৪ঐ’ লেখা থাকার বিষয়টিও কর্মকর্তাদের নজরে আসে।

সিআইআইডি জানায়, গাড়িগুলোর আমদানি, ঘোষণার ধরন, মালিকানা, শুল্ক-কর পরিশোধ এবং দেশে এনে স্থানীয়ভাবে সংযোজনের বৈধতা যাচাই করা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, পূর্ণাঙ্গ গাড়ি হিসেবে আমদানি না দেখিয়ে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দেশে এনে পরে স্থানীয়ভাবে জোড়া লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ গাড়িতে রূপান্তর করা হয়ে থাকতে পারে। এর মাধ্যমে পণ্যের প্রকৃত পরিচয় গোপন, ভুল ঘোষণা, অসত্য তথ্য প্রদান কিংবা প্রযোজ্য শুল্ক-কর ফাঁকির কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩৩(২)-এর বিধানও প্রাসঙ্গিক হতে পারে। অসত্য তথ্য, বিবৃতি বা দলিল দাখিলের কারণে কিংবা কোনো ধরনের যোগসাজশে শুল্ক বা চার্জ কম নির্ধারিত হলে বা ভুলক্রমে ফেরত দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে দাবিনামা জারি করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

তদন্তে গাড়িগুলো অন্য কোনো পণ্যের ঘোষণার আড়ালে অথবা অসত্য বা ভুল ঘোষণার মাধ্যমে আমদানি করা হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেলে কাস্টমস আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে চোরাচালানের উপাদান পাওয়া গেলে আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সিআইআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে গাড়িগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে পাঁচজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন—কক্সবাজারের হাসিবুর রহমান সিনহা, গাজীপুরের আজমাইন রাইহান, ঢাকার নকিবুল হাসান, গাজীপুরের শরাফাত রহমান এবং ঢাকার সিফিয়াত মাহমুদ।

তবে তদন্তাধীন ঘটনায় এসব ব্যক্তির গাড়িগুলোর মালিকানা, ব্যবহার, আমদানি-সংক্রান্ত সম্পৃক্ততা এবং স্থানীয়ভাবে সংযোজনের সঙ্গে ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে গণ্য করা হচ্ছে না।

জব্দ করা তিনটি গাড়ির আমদানি নথি, বিল অব এন্ট্রি, আমদানি ঘোষণার বিবরণ, এইচএস কোড, ঘোষিত মূল্য, শুল্ক-কর পরিশোধের তথ্য, ভিআইএন ও চেসিস নম্বরসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করা হবে।

একই সঙ্গে গাড়িগুলোর বিভিন্ন অংশ কীভাবে দেশে এসেছে এবং পরবর্তীতে কোথায় ও কীভাবে সেগুলো জোড়া লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ গাড়িতে রূপান্তর করা হয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সিআইআইডি বলছে, তদন্তে ভুল ঘোষণা, অসত্য তথ্য প্রদান, শুল্ক-কর ফাঁকি, চোরাচালান বা অন্য কোনো কাস্টমস অপরাধের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে কাস্টমস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে জরিমানা, পণ্য বাজেয়াপ্তসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।