অস্বাভাবিক উত্থানের পর শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারে বড় পতন
ছবি সংগৃহীত
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির শেয়ারদরে অস্বাভাবিক উত্থানের পর এবার বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। মাত্র ১৬ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারদর প্রায় ৫৬ শতাংশ কমে গেছে। এর আগে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও লেনদেনের কারণে কোম্পানিটির শেয়ার নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ফলে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদরের এমন নাটকীয় উত্থান-পতন নিয়ে পুঁজিবাজারে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ আগস্ট শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দর ছিল ৪৪ টাকা ১০ পয়সা। এরপর ধারাবাহিকভাবে কমতে কমতে গত ৬ সেপ্টেম্বর শেয়ারটির দর নেমে আসে ১৯ টাকা ৫০ পয়সায়। অর্থাৎ মাত্র ১৬ কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ারদর কমেছে ২৪ টাকা ৬০ পয়সা। শতাংশের হিসাবে এই পতনের হার প্রায় ৫৬ শতাংশ।
তবে পতনের এই ধারাবাহিকতার মধ্যেও ৭ সেপ্টেম্বর শেয়ারটির দর কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এদিন ডিএসইতে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদর ৮০ পয়সা বা ৪ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়ে ২০ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। যদিও এই সামান্য উত্থান কোম্পানিটির সাম্প্রতিক বড় পতনের তুলনায় খুবই নগণ্য।
শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদরের বর্তমান পতনের মাত্রা বুঝতে হলে এর আগের অস্বাভাবিক উত্থানের দিকে তাকাতে হয়। কারণ মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর দ্বিগুণের বেশি বেড়ে গিয়েছিল।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ জুন শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের দর ছিল প্রায় ১৭ টাকা। এরপর প্রায় প্রতিদিনই কোম্পানিটির শেয়ারে বাড়তি আগ্রহ দেখা যায় এবং দর বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে গত ১২ আগস্ট শেয়ারটির দর ৪৪ টাকা ১০ পয়সায় উঠে যায়।
অর্থাৎ ১৫ জুন থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় আট সপ্তাহের ব্যবধানে শেয়ারটির দর বেড়েছে ২৭ টাকা ১০ পয়সা। শতাংশের হিসাবে এই দরবৃদ্ধি প্রায় ১৫৬ শতাংশ। স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি কোম্পানির শেয়ারে এ ধরনের বড় উত্থান স্বাভাবিকভাবেই বিনিয়োগকারী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরে আসে।
পরবর্তীতে উত্থানের বিপরীতে একইভাবে দ্রুত পতন শুরু হওয়ায় কোম্পানিটির শেয়ার নিয়ে পুঁজিবাজারে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ১২ আগস্টের সর্বোচ্চ দরের পর মাত্র ১৬ কার্যদিবসে শেয়ারদর অর্ধেকেরও বেশি কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল বিএসইসি।
এর আগে কোম্পানিটির শেয়ারদর ও লেনদেনে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের বিষয়ে ডিএসইর পক্ষ থেকেও শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল। এ ধরনের ব্যাখ্যা চাওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল, কোম্পানির ব্যবসা, আর্থিক অবস্থা কিংবা ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে এমন কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে কি না, যা বাজারে প্রকাশ করা হয়নি এবং যার কারণে শেয়ারদরে অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটতে পারে। জবাবে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ ডিএসইকে জানিয়েছে, শেয়ারদরে এমন অস্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণ হতে পারে—এমন কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য কোম্পানিটির কাছে নেই।
অর্থাৎ কোম্পানির পক্ষ থেকে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির পেছনে কোনো অপ্রকাশিত ব্যবসায়িক বা আর্থিক তথ্য থাকার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। এখন ডিএসইর তদন্তের মাধ্যমে শেয়ারটির অস্বাভাবিক লেনদেন ও দরবৃদ্ধির প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে।
শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারের লেনদেনের ধরন, বিনিয়োগকারীদের আচরণ এবং সংশ্লিষ্ট সময়ের বাজার কার্যক্রম তদন্তের আওতায় আসতে পারে। বিশেষ করে কোনো ধরনের বাজার কারসাজি হয়েছে কি না, অস্বাভাবিক বা সমন্বিত লেনদেনের মাধ্যমে শেয়ারদর বাড়ানো হয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হতে পারে।
এ ছাড়া কোম্পানির অভ্যন্তরীণ তথ্যের অপব্যবহার হয়েছে কি না, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আগে থেকে কোনো তথ্য জেনে শেয়ার লেনদেন করেছে কি না, কিংবা পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত আইন ও বিধিবিধান লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না, তাও তদন্তে যাচাই করা হতে পারে।
তদন্তের ফলাফল প্রকাশের আগে শেয়ারটির অস্বাভাবিক উত্থান বা পরবর্তী পতনের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ ছিল বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে অল্প সময়ের মধ্যে দর ১৫৬ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার পর আবার মাত্র ১৬ কার্যদিবসে প্রায় ৫৬ শতাংশ কমে যাওয়া বিষয়টিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরে আসার মতো ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের সাম্প্রতিক দরপতনের ফলে অস্বাভাবিক উত্থানের সময় শেয়ারটিতে বিনিয়োগকারীদের অর্জিত মুনাফার একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে মুছে গেছে।
গত ১২ আগস্ট কোম্পানিটির শেয়ারদর সর্বোচ্চ ৪৪ টাকা ১০ পয়সায় উঠেছিল। সেখান থেকে ৬ সেপ্টেম্বর দর নেমে দাঁড়ায় ১৯ টাকা ৫০ পয়সায়। অর্থাৎ সর্বোচ্চ দর থেকে শেয়ারটির দাম কমেছে ২৪ টাকা ৬০ পয়সা। শতাংশের হিসাবে পতনের হার ৫৫ শতাংশেরও বেশি।
৭ সেপ্টেম্বর অবশ্য শেয়ারটির দর ৮০ পয়সা বেড়ে ২০ টাকা ৩০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। তারপরও ১২ আগস্টের সর্বোচ্চ দর থেকে শেয়ারটি এখনো প্রায় ৫৪ শতাংশ কম দরে অবস্থান করছে।
ফলে কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যাপক মূল্য ওঠানামা তৈরি হয়েছে। যারা উত্থানের শেষ দিকে বেশি দামে শেয়ার কিনেছেন, তাদের বড় ধরনের কাগুজে লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে।
শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদরে এমন নাটকীয় পরিবর্তন ঘটছে এমন সময়ে, যখন কোম্পানিটি নিজেই বড় ধরনের পরিচালনাগত সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতির কারণে কোম্পানিটির উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতির কারণে তাদের উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে। শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের কারখানায় দৈনিক সুতা উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ৭০ টন। কিন্তু বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বর্তমানে উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় ৪২ টনে।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কোম্পানিটির দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতার বড় একটি অংশ অব্যবহূত থাকছে। এতে উৎপাদন ব্যয়, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ব্যবসার সামগ্রিক কার্যক্রমে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কোম্পানিটির কারখানায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার স্পিন্ডল রয়েছে। এত বড় উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতির কারণে সেটির পূর্ণ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে উৎপাদন কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে কোম্পানিটির আর্থিক ফলাফলেও।
উৎপাদন সংকটের প্রভাব শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের আর্থিক ফলাফলেই স্পষ্ট হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটি প্রায় ২৫৭ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে। কিন্তু রাজস্ব আয় সত্ত্বেও ওই সময়ে কোম্পানিটির নিট লোকসান হয়েছে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা।
এই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২ টাকা ১৬ পয়সা। একই সময়ে, অর্থাৎ ২০২৬ সালের মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভি ছিল ৭ টাকা ৯২ পয়সা। আরও সাম্প্রতিক প্রান্তিক হিসাবেও কোম্পানিটির আর্থিক চাপের চিত্র উঠে এসেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের রাজস্ব হয়েছে প্রায় ৫৬ কোটি টাকা। কিন্তু এই তিন মাসেও কোম্পানিটি প্রায় ২১ কোটি টাকা লোকসান করেছে। মার্চ শেষে কোম্পানিটির পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেকে রাজস্ব এলেও ব্যয় ও অন্যান্য চাপ সামলে কোম্পানিটি মুনাফায় ফিরতে পারছে না।
তবে আর্থিক ও উৎপাদনগত চাপের মধ্যেও ব্যবসা পুনরুদ্ধারের বিষয়ে আশাবাদী শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের কর্তৃপক্ষ। তাদের মতে, সামনে কিছু ইতিবাচক বিষয় রয়েছে, যা কোম্পানিটির ব্যবসা ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করতে পারে।
কোম্পানির দাবি, আগামী ছয় মাসের জন্য তাদের নিশ্চিত অর্ডার রয়েছে। এর ফলে উৎপাদন পরিস্থিতির উন্নতি হলে এসব অর্ডার কাজে লাগিয়ে ব্যবসা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এছাড়া সামপ্রতিক সময়ে সুতার দাম বেড়েছে বলেও জানিয়েছে কোম্পানিটি। সুতার দাম বাড়ার ফলে উৎপাদন ও বিক্রয় পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে কোম্পানির আয় বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
কোম্পানিটি আরও মনে করছে, রপ্তানি প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং ভারতের অ্যান্টি-ডাম্পিং ব্যবস্থার চাপ কমে আসাও তাদের ব্যবসায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী ব্যবসার ক্ষেত্রে এসব বিষয় কোম্পানিটির প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে।
শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবসা পুনরুদ্ধারের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতিকে দেখছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলে কারখানার উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে। বর্তমানে যেখানে দৈনিক উৎপাদন প্রায় ৪২ টনে নেমে এসেছে, সেখানে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হলে বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতার আরও বেশি অংশ কাজে লাগানো যাবে।
এতে একদিকে নিশ্চিত অর্ডারগুলো সময়মতো সরবরাহ করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে উৎপাদন বাড়ার মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে উৎপাদন সক্ষমতার ব্যবহার বাড়লে প্রতি ইউনিট উৎপাদন ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে বলে প্রত্যাশা করছে কোম্পানিটি।
শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যবসা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনার আরেকটি কারণ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বী কারখানাগুলোর উৎপাদন পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেছে।
তাদের মতে, বিদ্যুৎ সংকটসহ বিভিন্ন কারণে প্রতিদ্বন্দ্বী কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হলে বাজারে সুতার সরবরাহ কমে যেতে পারে। এতে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে পারা কোম্পানিগুলোর জন্য অতিরিক্ত অর্ডার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ যদি বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে উৎপাদন বাড়াতে পারে, তাহলে বাজারে সরবরাহ ঘাটতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে নতুন অর্ডার পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ বর্তমানে একদিকে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির পর বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়েছে, অন্যদিকে ব্যবসা ও উৎপাদনেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য চাপ। কোম্পানিটির শেয়ারের অস্বাভাবিক উত্থান নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্ত চলমান থাকার বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
কোম্পানিটির আর্থিক ফলাফলে বড় লোকসান, পুঞ্জীভূত লোকসান এবং উৎপাদন কমে যাওয়ার তথ্য যেমন উদ্বেগের কারণ, তেমনি নিশ্চিত অর্ডার, সুতার দাম বৃদ্ধি, রপ্তানি প্রণোদনা এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনাকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।
তবে এসব ইতিবাচক প্রত্যাশা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে উৎপাদন স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে এনে কোম্পানি কত দ্রুত আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারে, তার ওপর ব্যবসার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে।
শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারে অস্বাভাবিক উত্থান ও পরবর্তী বড় পতনের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে কীভাবে উঠে আসে, সেটিও পুঁজিবাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তে কোনো অনিয়ম বা আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপও বিনিয়োগকারীদের নজরে থাকবে।
এ অবস্থায় কোম্পানিটির শেয়ারদর, লেনদেনের ধরন, আর্থিক ফলাফল এবং উৎপাদন পরিস্থিতি—সবকিছুর ওপরই বিনিয়োগকারীদের সতর্ক নজর থাকবে। অল্প সময়ের মধ্যে শেয়ারদরে বড় ধরনের উত্থান-পতনের কারণে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার এখন পুঁজিবাজারে আলোচিত কোম্পানিগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।