শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি

প্রকাশ: ০০:০২, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সীমান্তে থেমে থেমে গুলি আতঙ্কে পানছড়ির মানুষ

সীমান্তে থেমে থেমে গুলি আতঙ্কে পানছড়ির মানুষ

ছবি সংগৃহীত

খাগড়াছড়ির পানছড়ির সীমান্তবর্তী এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে কয়েক দিন ধরে থেমে থেমে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এতে সীমান্তবর্তী জনপদে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যাহত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে উপজেলার জগপাড়া, তারাবন ও দুধুকছড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। পরদিন ৪ সেপ্টেম্বর ভোর থেকেও এসব এলাকায় কয়েক দফা গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে জানান স্থানীয়রা। গতকাল ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা পর্যন্তও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলে তাদের দাবি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) প্রসীতপন্থি অংশের সশস্ত্র সদস্যদের মধ্যে এ সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। তবে গোলাগুলির ঘটনায় হতাহত বা সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সংঘাতের আশঙ্কায় সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রাণভয়ে কয়েকটি পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। বসতবাড়ির পাশাপাশি গৃহপালিত পশুপাখি নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অনেকে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পানছড়ির দুর্গম এলাকাগুলোতে আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা রয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। চাঁদাবাজি, অপহরণ ও সশস্ত্র সংঘাতের অভিযোগে অনেকটা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংঘর্ষ ও হতাহতের বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের সমর্থকদের নানা দাবি ও পাল্টা দাবি ছড়ালেও এসব তথ্যের স্বতন্ত্র যাচাই সম্ভব হয়নি। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও গোলাগুলি বা হতাহতের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার, নিয়মিত টহল বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করা হোক। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে জননিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হবে।