আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষিত কুড়িগ্রামে কবরস্থানের জমি বিক্রয়
প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
ছবি সংগৃহীত
আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও বৈধ ওয়ারিশদের উপেক্ষা করে কুড়িগ্রামের উলিপুরে জমি রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৈধ ওয়ারিশের লিখিত অভিযোগ আমলে না নিয়ে বিবাদমান জমি প্রবাসীর দেয়া ভুয়া পাওয়ার অব অ্যাটর্নি মারফত রেজিস্ট্রি করা ব্যাপক সংঘাতের আশংকা বিরাজ করছে ।
বৈধ ওয়ারিশের দানকৃত কবর স্থানের জমি বিক্রয়ের পাঁয়তারায় এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে প্রবাসী আমিনা আকতার ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার রামদাস ধনিরাম মৌজার মোক্তারপাড়া গ্রামের ৮.০৪ একর জমির মালিক ছিলেন আব্দুর রহমান মোক্তার। তিনি মৃত্যু বরন করলে তার স্ত্রী, তিন পুত্র ও এক কন্যা এই জমির মালিক হন। তার বড় পুত্র তৈয়বুর রহমান ১৯৫৮ সাল হতে মানসিক রোগী থেকে অবিবাহিত অবস্থায় ২০১৪ সালে মারা যান। দ্বিতীয় পুত্র হাবিবুর রহমান মৃত্যু বরন করলে তার স্ত্রী মহশীনা রহমান,পুত্র হাদি হাবিব সরকার, মেহেদী হাবিব সরকার ও খালিদআপ্তাবুর রহমান ১৯৬০ সালে লন্ডন প্রবাসী হন। লন্ডনপ্রবাসী আপ্তাবুর রহমান পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত জমি মৃত হাবিবুর রহমানের ওয়ারিশদের বুঝে না দিয়ে উলিপুর জজ আদালতে ২৩৫/২০১২ একটি বাটোয়ারা মামলা দায়ের করেন। যাহা পরবর্তীতে বদলি হয়ে ৯৫/২০১৯ ফুলবাড়ী আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এই মামলা চলমান অবস্থায় আপ্তাবুর রহমান লন্ডন প্রবাসে ২০২০ সালে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি তার লন্ডনপ্রবাসী স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার কথা প্রকাশ করেন এবং তার কোনো সন্তান আছে কিনা সেটার সঠিকতা আদালতে তার লিখিত জবানবন্দিতে জানানো হয়নি। আপ্তাবুর রহমানের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী আমিনা আকতার রহমান লন্ডন প্রবাসে থেকেই তার আপন ভাই আবু হাসান মোহাম্মদ ইলিয়াস ওরফে সুজাকে অবৈধ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেন। সুজা পাওয়ার নিয়ে আবাদি জমির মাটি কেটে বিক্রয় করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করেন। জমি বিক্রয়ের সাইনবোর্ড লটকিয়ে আতংক এবং তার ভাড়া করা গুণ্ডা দিয়ে এলাকায় ত্রাসের সৃষ্টি করেন। যাহা উলিপুর পৌর ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বিধান চন্দ্র বর্মণের গত ১৯/০৭/২০২৬ তারিখে দেওয়া প্রতিবেদনে স্কষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে ধনিরাম মৌজার আর এস ৮৩৭নং খতিয়ান ভুক্ত রেকর্ডীয় মালিক মৃত আপ্তাবুর রহমানের ওয়ারিশ সনদের সঠিকতা যাচাই ও বহির্বিশ্বে সম্কাদিত পাওয়ার অব অ্যাটর্নির প্রেক্ষিতে সাব-রেজিস্ট্রার উলিপুর কুড়িগ্রাম এ সম্কাদিত ২০/০১/২০২৫ ৪৩৮/২৫ নং দলিলের সঠিকতা যাচাই করার কথা বলা হয়েছে। বৈধ ওয়ারিশ মো. হাদি হাবিব মাজু গং গত ২১/০৪/২০২৬ উলিপুর সাব-রেজিস্ট্রারকে লিখিত আবেদনের মাধ্যমে আদালতের নিষেধাজ্ঞাসহ বাটোয়ারা মামলা চলমান থাকার বিষয় অবগত করেন এবং তর্কিত জমির দলিল রেজিস্ট্রি না করার অনুরোধ করেন। তার পরেও সাব রেজিস্ট্রার এই লিখিত আবেদন আমলে না নিয়ে গ্রহিতা বিথি বেগমের অনুকূলে গত ২৫/০৮/২০২৬ ৫৫৮৫/২৬ নং জমির দলিল রেজিস্ট্রি করেন। এই দলিলে তফসিলভুক্ত আর এস খং নং -৮৩৭ আর এস দাগ নং -১৪৮৩ ও এসএ খং নং-৬২৪ এস এ দাগ নং-৮৫৪ যাহা হাদি হাবিব গং ১১৪/২০২০ অন্য মোকদদমায় চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় সাঈদ আলী, হুমায়ুন কবির, সুরুজ ও মানিক মিয়া বলেন, একটি তর্কিত পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিয়ে এলাকায় তারা ত্রাসের সৃষ্টি করেছে। এই জমির বৈধ ওয়ারিশ ও আদালতের নিষেধাজ্ঞা তারা কিছুই মানেনা। লন্ডনপ্রবাসী মহিলা তার ভাই ও ভাইয়ের জামাতাকে দিয়ে এলাকার কবর স্থানটিও বিক্রয়ের পাঁয়তারা করছেন। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিব।
হাদি হাবিব মাজু বলেন, আমার দাদার জমি যা আমরা পৈতৃক সূত্রে পেয়েছি। চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞাসহ আমাদের বাটোয়ারা মামলা চলমান আছে। সাব রেজিস্ট্রারকে লিখিতভাবে জানানোর পরেও তিনি জমি রেজিস্ট্রি করেছেন। এতে আমাদের অপুরন্ত ক্ষতি হয়েছে।
আবু হাসান মোহাম্মদ ইলিয়াসের জামাতা মিজানুর রহমান বলেন, আমার শ্বশুর বৃদ্ধ তাই আমি লোকজন দিয়ে আমার ফুফু শাশুড়ির জমি দেখাশোনা করি।