বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

সাফি, পাটগ্রাম

প্রকাশ: ২১:৫৮, ২৮ আগস্ট ২০২৬

১৮০ দিনের প্রতিশ্রুতি শেষ, বুড়িমারী থেকে চলছে না এক্সপ্রেস

১৮০ দিনের প্রতিশ্রুতি শেষ, বুড়িমারী থেকে চলছে না এক্সপ্রেস

ছবি সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের দাবি, আন্দোলন, অবরোধ আর একের পর এক আশ্বাস—কোনোটিই যেন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে না। লালমনিরহাটের বুড়িমারী রেলস্টেশন থেকে ঢাকাগামী বুড়িমারী এক্সপ্রেস চালুর দাবিতে এবার নতুন করে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে পাটগ্রাম-হাতীবান্ধাসহ লালমনিরহাটের চার উপজেলার মানুষের মধ্যে।

২০২৪ সালের ১২ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বুড়িমারী এক্সপ্রেস’ চালু হলেও ট্রেনটির নিয়মিত যাত্রা কার্যত লালমনিরহাট থেকেই পরিচালিত হয়ে আসছে। বুড়িমারী থেকে ট্রেন চালুর দাবিতে পরবর্তী একাধিকবার সড়ক ও রেলপথ অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা।

আন্দোলনের মুখে বিভিন্ন সময়ে রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অবকাঠামোগত সমস্যার কথা বলা হয়। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ সম্কন্ন হলে বুড়িমারী থেকেই ট্রেন চালু হবে—এমন আশ্বাসও দেওয়া হয়। কিন্তু অবকাঠামো নির্মাণের পরও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এরপর ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি লালমনিরহাটে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু ঘোষণা দেন, আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে বুড়িমারী থেকেই বুড়িমারী এক্সপ্রেস নিয়মিত চলাচল শুরু করবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা ছিল, এবার হয়তো দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়িত হবে। কিন্তু সেই ঘোষণার ১৮০ দিন পার হয়ে গেলেও বুড়িমারী থেকে ট্রেন চালু না হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে?

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, বছরের পর বছর আন্দোলন এবং একের পর এক আশ্বাসের পরও কেন বুড়িমারী থেকে ট্রেন চালুর বিষয়টি বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন আসনে বিএনপির ফলাফল আশানুরূপ না হলেও লালমনিরহাটের তিনটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীদের বিপুল বিজয় জেলার মানুষের প্রত্যাশাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করেছিলেন, এবার যেহেতু জেলার তিনটি আসনেই বিএনপির প্রতিনিধিত্ব রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় সরকারও বিএনপির, তাই দীর্ঘদিনের দাবি বুড়িমারী এক্সপ্রেসকে বুড়িমারী রেলস্টেশন থেকে চালুর বিষয়টি এবার বাস্তবায়িত হবে।

বিশেষ করে পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা নিয়ে গঠিত লালমনিরহাট-১ আসনে বিএনপির বিজয়ের পর স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা ছিল আরও বেশি। তাদের ধারণা ছিল, নির্বাচনের আগে যে দাবিগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল, সরকার গঠনের পর সেগুলোর বাস্তবায়ন দ্রুত হবে। এর মধ্যে বুড়িমারী এক্সপ্রেসকে বুড়িমারী থেকে চালু করা ছিল অন্যতম প্রধান দাবি।

কিন্তু সরকার গঠনের পর নির্ধারিত ১৮০ দিনের কর্মসূচির সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও বুড়িমারী থেকে ট্রেনটি চালু না হওয়ায় সেই প্রত্যাশা এখন ধীরে ধীরে হতাশায় পরিণত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ, সমালোচনা ও অসন্তোষ।

গত ১৫ আগস্ট পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান জগৎবেড় ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। সেখানে বুড়িমারী এক্সপ্রেস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং শিগগিরই বুড়িমারী থেকে ট্রেন চালুর ব্যবস্থা করা হবে।

তবে স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে একাধিকবার এমন আশ্বাস শোনা গেলেও বাস্তবে ট্রেন বুড়িমারী থেকে চলাচল শুরু না হওয়ায় এবার নতুন কোনো আশ্বাসেই তারা সহজে বিশ্বাস করতে পারছেন না।

বিশেষ করে পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধার মানুষের প্রশ্ন—প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য আর কত সময় প্রয়োজন?

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গেও জড়িয়ে আছে দাবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লালমনিরহাটের মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবিতে পরিণত হয়েছিল বুড়িমারী এক্সপ্রেসকে বুড়িমারী রেলস্টেশন থেকে ঢাকায় চালু করা। বিশেষ করে লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা) আসনের মানুষের কাছে এটি দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

স্থানীয়দের মতে, বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। বুড়িমারী থেকে সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন চালু হলে পাটগ্রাম, হাতীবান্ধাসহ পুরো সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থলবন্দরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকাশিত আন্তঃনগর ট্রেনের তালিকাতেও ৮০৯/৮১০ নম্বর বুড়িমারী এক্সপ্রেসের প্রারম্ভিক স্টেশন হিসেবে বুড়িমারীর নাম উল্লেখ রয়েছে। তারপরও বাস্তব যাত্রা নিয়ে স্থানীয়দের অসন্তোষ কাটছে না। এখন পাটগ্রাম-হাতীবান্ধাসহ লালমনিরহাটের চার উপজেলার মানুষের প্রশ্ন একটাই—আর আশ্বাস নয়, বুড়িমারী এক্সপ্রেস কবে সত্যিকার অর্থে বুড়িমারী রেলস্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে?