ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
সার্ভিস সেতুতে নেই ল্যাম্পপোস্ট এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা
ছবি সংগৃহীত
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত ৩.৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি বহুল প্রতীক্ষিত টোলমুক্ত সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও সেতু দুটিতে নেই পর্যাপ্ত ল্যাম্পপোস্ট এবং দৃশ্যমান কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থা। ল্যাম্পপোস্ট ও নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে এক্সপ্রেসওয়ের এই অংশে বড় ধরণের নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা এবং বিশেষজ্ঞগণ।
গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে মূল এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ চলাকালীন স্থানীয় মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও ঢাকার মধ্যে যোগাযোগ সচল রাখতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এই সেতু দুটি উদ্বোধন করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা বা পুলিশি টহল চৌকি না থাকার সুযোগে মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন অপরাধী চক্র সেতুটিকে তাদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
টোলমুক্ত এই সেতু দুটি চালুর ফলে এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট নিরসনে বিশাল স্বস্তি এলেও, উদ্বোধনের পর থেকেই সেতু দুটিতে পর্যাপ্ত ল্যাম্পপোস্ট (লাইট) এবং দৃশ্যমান কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থার মারাত্মক অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে সাভার, আশুলিয়া এবং আব্দুল্লাহপুরের ধউর এলাকা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) শিল্পাঞ্চল। এই অবকাঠামোগত ত্রুটি বা অসতর্কতা চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে আশঙ্কা করছেন দেশের বিশিষ্টজনরা।
এদিকে সার্ভিস সেতু দুটিতে টোলপ্লাজা বা কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ না থাকার কারণে দেখা দিতে পারে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও যানজট। টোল না থাকায় স্থানীয় সব ধরনের যানবাহন, বিশেষ করে স্বল্পগতির থ্রি-হুইলার, রিকশা এবং মোটরসাইকেল এই সেতু দুটি ব্যবহারে হুমড়ি খেয়ে পড়বে। এর ফলে সেতুর ওপর নতুন করে যানজটের সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া সেতু দুটি নির্মাণে যে বিশাল অংকের অর্থ ব্যয় হয়েছে। টোল থেকে কোনো আয় না আসায়, ভবিষ্যৎ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের সম্পূর্ণ খরচ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করতে হবে। যা বাজেটের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে বলেও মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ৩.৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুতে বাতি না থাকায় রাতের বেলা চালকদের জন্য সামনের রাস্তা বা বাঁক দেখা কষ্টকর হবে। বিশেষ করে দূরপাল্লার দ্রুতগামী ট্রাক এবং স্থানীয় যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হবে।
২৭ হাজার ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্পের সার্ভিস সেতু দুটি টোলমুক্ত রাখা হলেও প্রকল্প পরিচালকের বক্তব্য অনুযায়ী, মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মাঝের চার লেনে যথানিয়মে টোল নেওয়া হবে। ফলে, দূরপাল্লার ও বাণিজ্যিক যানবাহন থেকে সরকার মূল রাজস্ব ঠিকই আদায় করতে পারবে। তবে সার্ভিস সেতু দুটি টোলমুক্ত রাখায় রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হলেও এর পেছনে সরকারের সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া এই অঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হলে এবং সময়মতো ‘লিড টাইম’ বজায় রেখে পণ্য শিপমেন্ট করতে না পারলে বিদেশি বায়াররা অর্ডার বাতিল করতে পারেন, যা দেশের সামগ্রিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাকে ব্যাহত করবে বলে মন্তব্য করেন অর্থনীতিবিদরা।
তারা বলেন, সেতু দুটির সুফল পুরোপুরি ঘরে তুলতে এবং শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতি দ্রুত যেসব পদক্ষেপগুলো নেওয়া প্রয়োজন মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও খাত বিশেষজ্ঞরা। সার্ভিস সেতু দুটিতে পর্যাপ্ত ল্যাপপোস্ট ও নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকা নিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান শেয়ার বিজকে জানান, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে উত্তরবঙ্গের জন্য যুগান্তকারী গেটওয়ে হতে যাচ্ছে। এবং আংশিক খুলে দেয়ার দুটো কারণ গুরুত্বপুর্ণ। বিশেষ করে যে তুরাগ নদী আছে, এতে করে তুরাগের যে সাধারণ প্রবাহ সেটা পুনরায় উন্মুক্ত করা যাবে। পাশাপাশি যেহেতু সেই সেটু দুটি টোল ফ্রি সেহেতু যারা স্থানীয় বাসিন্দা তারাও এটার সুবিধা গ্রহণ করতে পারছে।
ড. হাদিউজ্জামান আরও বলেন, যেহেতু এটা খুলতেই হতো সেহেতু এইসব গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষেত্রে সব সময় একটা সেফটি অডিট প্রি-ওপেনিং সিচুয়েশনেই করা জরুরি। তবেই কিন্তু বের হয়ে আসবে যে নিরাপত্তার স্বার্থে কি কি পদক্ষেপ নেয়া দরকার। ল্যাপপোস্ট, সাইন, মার্কিং ইত্যাদি বিশয়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই ক্ষেত্রে যদি ট্রাফিক ম্যানেজম্যান্টের দুর্বলতা থাকে এবং এই কারণ যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে তবে এটার দ্বায় সেতু কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। সেই কারণেই সেফটি অডিট স্টান্ডার্ড প্রটোকল এই ধরণের বড় প্রকল্পে প্রি-ওপেনিং সিচুয়েশনে অডিট করে নিতে হয়। এবং এটা বিশ্বব্যাপী স্টান্ডার্ড সিচুয়েশন। ট্রাফিক ম্যানেজম্যান্টের স্বার্থে যে যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার সেটা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এবং এটা অবশ্যই নিতে হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে আপস করার কোনো সুযোগ নেই এটা কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে।
জরুরি ভিত্তিতে সড়ক বাতি স্থাপন: সেতুতে অনতিবিলম্বে আধুনিক ল্যাম্পপোস্ট এবং সৌরচালিত বাতি স্থাপন করতে হবে, যাতে পুরো সেতু এলাকা সার্বক্ষণিক আলোকিত থাকে।
সিসিটিভি ক্যামেরা ও নজরদারি: সেতুর প্রবেশমুখ, বাহির পথ এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে হাই-ডেফিনিশন নাইট-ভিশন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে এবং তা স্থানীয় থানার কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
পুলিশি টহল জোরদার: শিল্প পুলিশ এবং হাইওয়ে পুলিশের যৌথ উদ্যোগে সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত সেতুতে নিয়মিত মোটরসাইকেল ও মোবাইল টিম টহল নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে অস্থায়ী পুলিশ বক্স বা ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা যেতে পারে।
গার্মেন্টস মালিকদের সমন্বয়: বিজিএমইএ এবং স্থানীয় গার্মেন্টস মালিকদের উদ্যোগে শ্রমিকদের যাতায়াতের জন্য নিজস্ব বাসের ব্যবস্থা করা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা।
এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেতুর প্রবেশ ও বাহির পথে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং দৃশ্যমান পুলিশ বক্স বা নিয়মিত নৈশ টহলের ব্যবস্থা করা।
ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের এই দুটি সার্ভিস সেতু চালু হওয়া নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে, শুধুমাত্র আলোর অভাব এবং দুর্বল নিরাপত্তার কারণে যেন এই বিশাল অর্জন। এবং দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী গার্মেন্টস খাত ঝুঁকির মুখে না পড়ে, সে বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজরদারি জরুরী বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে দীর্ঘদিন প্রকল্পটির কাজ ধীরগতিতে চলায় দুর্ভোগে পড়েন আশুলিয়া, সাভারসহ আশপাশের এলাকার মানুষ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কাজের গতি বেড়েছে। জুলাই পর্যন্ত প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে প্রায় ৭২ শতাংশ।
জানা যায়, প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় প্রায় ৫৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে ২৭ হাজার ৪৫ দশমিক ৬৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। সংশোধিত প্রকল্পে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক লাইন এবং নতুন নকশায় বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বাইপাইলে নির্মাণ করা হবে তিনতলা দৃষ্টিনন্দন ‘ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ’।
প্রকল্প নথি থেকে জানা গেছে, একনেকে অনুমোদনের প্রায় পাঁচ বছর পর ২০২২ সালের ১২ নভেম্বর ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শুরু হয়। রাজধানীর ব্যস্ত প্রবেশদ্বার আশুলিয়ার ওপর দিয়ে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করার লক্ষে ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।
এছাড়া প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নথিতে দেখা যায়, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি এবং ব্যয় সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলি সম্পর্কে জানা যায়, ২০২৬ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর নাগাদ প্রকল্পের সার্বিক কাজের অগ্রগতি প্রায় ৭২% এবং ভৌত নির্মাণ কাজের অগ্রগতি ৬৬% সম্পন্ন হয়েছে। এবং গত ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত ৩.৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি দ্বিতল বিশিষ্ট সার্ভিস সেতু যান চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ টোলমুক্তভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নকশা পরিবর্তন ও দ্বিতীয় দফা সংশোধনের পর প্রকল্প সমাপ্তির নতুন সময়সীমা ২০২৮ সালের জুন থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
জানা যায়, ২০১৭ সালে প্রকল্পটির শুরুর দিকে অনুমোদিত ব্যয় ছিল ১৬,৯০১ কোটি টাকা। প্রথম সংশোধন: পরবর্তীতে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে হয় ১৭,৫৫৩ কোটি ৪ লাখ টাকা। দ্বিতীয় সংশোধন (বর্তমান ব্যয়): টাকার অবমূল্যায়ন, তুরাগ নদীর ওপর নকশা পুনঃপ্রকৌশল এবং নতুন কিছু অংশ যুক্ত করার কারণে দ্বিতীয় সংশোধনীতে প্রকল্প ব্যয় প্রায় ৫৪% বেড়ে বর্তমানে ২৭,০৪৫.৬৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকার দিচ্ছে ১৩,৮০৩.১৬ কোটি টাকা (৫১.০৬%) এবং চীন সরকারের এক্সিম ব্যাংক ঋণ হিসেবে দিচ্ছে ১৩,২৪২.৫২ কোটি টাকা (৪৮.৯৪%)।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা শহরের উত্তরাঞ্চল তথা সাভার, আশুলিয়া, নবীনগর ও ইপিজেড সংলগ্ন শিল্প এলাকার যানজট নিরসন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্রুত উন্নয়নের লক্ষ্যে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আশুলিয়া হয়ে ইপিজেড পর্যন্ত ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের দৈর্ঘ্য ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ। ১ম সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ১৭৫৫৩ কোটি ০৪ লক্ষ টাকা। প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়ে গত ২৬ অক্টোবর ২০২১ তারিখ চায়না এক্সিম ব্যাংক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে যা পরবর্তীতে ১০ মে ২০২২ তারিখ হতে কার্যকর হয়েছে। গত ১২ নভেম্বর ২০২২ তারিখ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ করা হয়। প্রকল্পের আওতায় ঢাকা ও গাজীপুর জেলার মোট ১১১.৬৬২৩ একর ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন এবং ২০৪৭ জনকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় ভৌত নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৭২.০০% এবং নির্মাণ কাজের ভৌত অগ্রগতি ৬৬.০০%।
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ সম্পন্ন হলে সাভার ইপিজেড হতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সিগন্যাল ফ্রি ৪৪ কিলোমিটার নতুন এলিভেটেড রাস্তা তৈরি হবে। এর ফলে দেশের উত্তরাঞ্চল হতে আগত যানবাহনসমূহ সরাসরি ঢাকা অতিক্রম করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাসমূহে যাওয়ার সুযোগ লাভ করবে। ঢাকার যানজট অনেকাংশে হ্রাস পাবে। এছাড়া, সাভার, আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর এর রপ্তানিমুখী শিল্পাঞ্চলে দ্রুত পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে এটি নির্মিত হলে এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্ক এবং প্রায় সকল জাতীয় মহাসড়কের সাথে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি ঢাকার সাথে বিভিন্ন জেলার সংযোগ স্থাপনকারী আবদুল্লাহপুর-আশুলিয়া-বাইপাইল-চন্দ্রা করিডোরে যানজট অনেকাংশে হ্রাস পাবে। সম্ভাব্যতা সমীক্ষা অনুযায়ী এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ০.২১৭% বৃদ্ধি পাবে।